ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় ভারতীয় গণমাধ্যম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এসেছে মঈন খানকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন মির্জা আব্বাস সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে পরিণত করতে চায় সরকার : অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহায়তায় নতুন গতির আশা জাপানের সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ইমামদের সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন: জাতীয় ইমাম সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারা রুমিকে গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ এইচএসসির ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবর সরাইলের ঘটনায় মামলা হলে আমাকেই যেন প্রধান আসামি করা হয় ১১ জেলের কাছ থেকে উদ্ধার ৬০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ

বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে পুলিশকে দুর্বল ভাবে মানুষ: আইজিপি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার

বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় দুর্বল। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে মামলা করে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে।

শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। কেউ সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, আবার কেউ প্রভাবশালীদের হয়ে চাঁদাবাজি করেন। ভয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দিতে বা অভিযোগ করতে চান না।

তিনি বলেন, খুলনায় আসার আগে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ মামলা করতে পারে এবং যেকোনো ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইজিপি আরও বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে। এর মাধ্যমে সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করার কথাও জানান পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই আস্থা পুনরুদ্ধার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

আলী হোসেন ফকির বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি দমনে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, সেখানে কিছু অপরাধী হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে, আবার কিছু অপরাধী হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে কখনো বল প্রয়োগের দাবি, আবার কখনো বল প্রয়োগের কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “বল প্রয়োগ করলে বলা হয় পুলিশ ফ্যাসিস্ট, আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় পুলিশ দুর্বল। আমরা এসব দেখতে চাই না। সবাই মিলে একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করতে হবে।”

আইজিপি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছরে মাদককে একধরনের স্বীকৃতি দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় অনেক জায়গায় পুলিশি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছিল। বর্তমানে সর্বত্র পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বেকারত্বসহ নানা সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়।

পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, তারা মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চান। একই অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পরও কেউ কেউ আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসায় ভারতীয় গণমাধ্যম

বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে পুলিশকে দুর্বল ভাবে মানুষ: আইজিপি

আপডেট টাইম : ১১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় দুর্বল। আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে মামলা করে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে।

শনিবার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকেন। কেউ সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে, আবার কেউ প্রভাবশালীদের হয়ে চাঁদাবাজি করেন। ভয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ সাক্ষ্য দিতে বা অভিযোগ করতে চান না।

তিনি বলেন, খুলনায় আসার আগে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ মামলা করতে পারে এবং যেকোনো ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইজিপি আরও বলেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন আইন হতে পারে। এর মাধ্যমে সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করার কথাও জানান পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই আস্থা পুনরুদ্ধার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

আলী হোসেন ফকির বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি দমনে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, সেখানে কিছু অপরাধী হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে, আবার কিছু অপরাধী হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে কখনো বল প্রয়োগের দাবি, আবার কখনো বল প্রয়োগের কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “বল প্রয়োগ করলে বলা হয় পুলিশ ফ্যাসিস্ট, আর বল প্রয়োগ না করলে বলা হয় পুলিশ দুর্বল। আমরা এসব দেখতে চাই না। সবাই মিলে একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করতে হবে।”

আইজিপি জানান, দীর্ঘ ১৭ বছরে মাদককে একধরনের স্বীকৃতি দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

৫ আগস্টের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় অনেক জায়গায় পুলিশি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছিল। বর্তমানে সর্বত্র পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বেকারত্বসহ নানা সমস্যা রয়েছে, যেগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়।

পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, তারা মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে চান। একই অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পরও কেউ কেউ আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।