ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা ঢাকা উত্তরে দুই, দক্ষিণে চার নেতা আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সেরা পরামর্শ’ দিয়েছিলেন: ইশরাক প্রশাসনের নাকের ডগায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়ি’ বলে অভয় দেওয়া হয় আমন্ত্রিতদের ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ম্যাজিস্ট্রেসি ছেড়ে রাজনীতিতে, সালাহউদ্দিনের একাল-সেকাল সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাইবার সুরক্ষাসহ গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার

নয় বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলেছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্যানে ঢুকতে জনপ্রতি ১০ টাকা ফি নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ফি নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক দর্শনার্থী। এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যানটি উদ্বোধন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা বলছেন, উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে ৯ বছর নগরবাসীকে উদ্যান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন প্রবেশের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে সেখানে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, উদ্যানের পরিবেশ সুন্দর রাখাসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে। উদ্যানের আশপাশে হকারসহ বিভিন্ন মানুষ থাকে। তারা উদ্যান অপরিষ্কার করে ফেলতে পারে। প্রবেশমূল্য রাখা না হলে দেখা যাবে তারা উদ্যানে ঢুকে মলমূত্র ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে। উদ্যান পরিষ্কারে প্রতিদিন ১৫-১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরকার। এসব কারণে প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে।

উদ্যানের ফটকের টিকিট বিক্রেতা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, পার্কে উন্নয়ন করতে গিয়ে এত টাকা খরচ হয়েছে। টাকা না দিলে এই টাকা সরকার উঠাবে কীভাবে? সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা দায়িত্ব পালন করছি।

ওসমানী উদ্যানের অবস্থান রাজধানীর গুলিস্তানে ডিএসসিসি প্রধান কার্যালয় নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে। আয়তন ২১ দশমিক ৮৫ একর। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর নামে উদ্যানটির নামকরণ করা হয়।

হাঁটাচলা ও বিশ্রামের জন্য নগরবাসীর জন্য রাজধানীতে কয়েকটি পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক অন্যতম। এ দুটি বড় পার্কে ঢুকতে টাকা লাগে না। এমনকি ওসমানী উদ্যান বন্ধ হওয়ার আগেও কোনো প্রবেশ ফি নেওয়া হতো না। তবে সংস্কার ও উন্নয়নকাজের পর এখন প্রবেশের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফি নেওয়া জনগণকে পার্কে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রহসন। পার্ক, খেলার মাঠ ইত্যাদি জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। সেখানে জনগণের কাছ থেকে ফি নেওয়া অন্যায্য। যারা রেগুলার (নিয়মিত) পার্কে হাঁটাচলা করতে যান, ফি নেওয়া হলে তারা নিয়মিত যাবেন না। সে ক্ষেত্রে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পার্কে প্রবেশের ফি নির্ধারণ না করে সরকারের উচিত, কেন একটি উদ্যানে অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে টাকা অপচয় করা হলো, কেন কংক্রিট দিয়ে পার্কের চরিত্র নষ্ট করা হলো— তার তদন্ত করা।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পার্কটির উন্নয়নকাজে ইমারত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। বিধিমালা অনুযায়ী, পার্কের আয়তনের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। তবে তা এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।

পার্কটিতে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যেসব কাজ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, নগর জাদুঘর, একটি গ্রন্থাগার, ১২টি দোকান, জিমনেসিয়াম, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, লেকের পাড় উন্নয়ন, ঘাট তৈরি, হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের উপকেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি; আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বরাদ্দ ৩৯ কোটি টাকায় ৯০ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জ ধাতুর ওপরে জুলাই শহীদদের নাম খোদাই করা ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও পার্কের দুই পাশের প্রবেশপথে ‘২৪’-এর ইংরেজি অক্ষরের অনুরূপ আকৃতির দুটি ফটক নির্মাণ করা হয়েছে।

পার্কটি উদ্বোধন করা হলেও জাদুঘর, গ্রন্থাগার, জিমনেসিয়াম, পার্কিং ও খাবারের দোকানগুলো এখনও চালু হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়া

নয় বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান

আপডেট টাইম : ০২:০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নয় বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলেছে রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্যানে ঢুকতে জনপ্রতি ১০ টাকা ফি নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ফি নেওয়া নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক দর্শনার্থী। এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যানটি উদ্বোধন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা বলছেন, উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে ৯ বছর নগরবাসীকে উদ্যান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন প্রবেশের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে সেখানে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, উদ্যানের পরিবেশ সুন্দর রাখাসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে। উদ্যানের আশপাশে হকারসহ বিভিন্ন মানুষ থাকে। তারা উদ্যান অপরিষ্কার করে ফেলতে পারে। প্রবেশমূল্য রাখা না হলে দেখা যাবে তারা উদ্যানে ঢুকে মলমূত্র ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে। উদ্যান পরিষ্কারে প্রতিদিন ১৫-১৬ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরকার। এসব কারণে প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে।

উদ্যানের ফটকের টিকিট বিক্রেতা মোহাম্মদ হানিফ বলেন, পার্কে উন্নয়ন করতে গিয়ে এত টাকা খরচ হয়েছে। টাকা না দিলে এই টাকা সরকার উঠাবে কীভাবে? সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা দায়িত্ব পালন করছি।

ওসমানী উদ্যানের অবস্থান রাজধানীর গুলিস্তানে ডিএসসিসি প্রধান কার্যালয় নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে। আয়তন ২১ দশমিক ৮৫ একর। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর নামে উদ্যানটির নামকরণ করা হয়।

হাঁটাচলা ও বিশ্রামের জন্য নগরবাসীর জন্য রাজধানীতে কয়েকটি পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক অন্যতম। এ দুটি বড় পার্কে ঢুকতে টাকা লাগে না। এমনকি ওসমানী উদ্যান বন্ধ হওয়ার আগেও কোনো প্রবেশ ফি নেওয়া হতো না। তবে সংস্কার ও উন্নয়নকাজের পর এখন প্রবেশের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফি নেওয়া জনগণকে পার্কে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, এটা জনগণের সঙ্গে প্রহসন। পার্ক, খেলার মাঠ ইত্যাদি জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। সেখানে জনগণের কাছ থেকে ফি নেওয়া অন্যায্য। যারা রেগুলার (নিয়মিত) পার্কে হাঁটাচলা করতে যান, ফি নেওয়া হলে তারা নিয়মিত যাবেন না। সে ক্ষেত্রে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পার্কে প্রবেশের ফি নির্ধারণ না করে সরকারের উচিত, কেন একটি উদ্যানে অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে টাকা অপচয় করা হলো, কেন কংক্রিট দিয়ে পার্কের চরিত্র নষ্ট করা হলো— তার তদন্ত করা।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পার্কটির উন্নয়নকাজে ইমারত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। বিধিমালা অনুযায়ী, পার্কের আয়তনের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। তবে তা এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।

পার্কটিতে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যেসব কাজ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, নগর জাদুঘর, একটি গ্রন্থাগার, ১২টি দোকান, জিমনেসিয়াম, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, লেকের পাড় উন্নয়ন, ঘাট তৈরি, হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের উপকেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি; আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বরাদ্দ ৩৯ কোটি টাকায় ৯০ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জ ধাতুর ওপরে জুলাই শহীদদের নাম খোদাই করা ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও পার্কের দুই পাশের প্রবেশপথে ‘২৪’-এর ইংরেজি অক্ষরের অনুরূপ আকৃতির দুটি ফটক নির্মাণ করা হয়েছে।

পার্কটি উদ্বোধন করা হলেও জাদুঘর, গ্রন্থাগার, জিমনেসিয়াম, পার্কিং ও খাবারের দোকানগুলো এখনও চালু হয়নি।