ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ভারতের সঙ্গে সংলাপ, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে প্রতিযোগিতার আয়োজন, যারা অংশ নিতে পারবেন ফেব্রুয়ারির কত তারিখে রোজা শুরু হতে পারে মনিরুলসহ চারজনের সাড়ে ১৯ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ হাঁটুব্যথা যে কারণে হয় এবং এ রোগের সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: আইজিপি মিষ্টির আসনে ৭০টি ফরম বিক্রি করল বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে সমাজ গঠনের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার ৮-১০ লাখে যুব উন্নয়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস, গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

চীনে কারিগরি শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার

DinajpurTV Bangladesh News

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ জোরদার এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনের তিয়ানজিনে বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

‘টিভেট: পরিবর্তনকে একসঙ্গে গ্রহণ, মানদণ্ড প্রণয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান ও কারিগরি শিক্ষাবিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ। মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের সম্ভাবনার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সংযোগ তৈরি করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা হালনাগাদ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সঙ্গে জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর সংযোগ তৈরি করে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।

সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এগুলো হলো, উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অভিযোজনক্ষম করা— জাতীয় অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড গ্রহণ করা এবং সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এসব অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের সঙ্গে সংলাপ, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইবে বাংলাদেশ

চীনে কারিগরি শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:০৭:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ জোরদার এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনের তিয়ানজিনে বিশ্ব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়ন সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

‘টিভেট: পরিবর্তনকে একসঙ্গে গ্রহণ, মানদণ্ড প্রণয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে ৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষামন্ত্রী এবং ১০০টিরও বেশি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এতে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, শিল্পখাতের নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়প্রধান ও কারিগরি শিক্ষাবিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ তার জনগণ। মানবসম্পদই জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগ এবং তরুণদের সম্ভাবনার সঙ্গে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক সুযোগের সংযোগ তৈরি করে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটালাইজেশন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি ও সবুজ প্রযুক্তির কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চাহিদা পূরণে শুধু একাডেমিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার সঙ্গে ব্যবহারিক, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল দক্ষতার সমন্বয় প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টিভেট সংস্কার কর্মসূচি শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠ্যক্রম, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা হালনাগাদ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগের সঙ্গে জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর সংযোগ তৈরি করে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

২০২৬ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে দুই দেশ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা আধুনিকায়ন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো, শিক্ষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং শিল্প-সংযুক্ত ব্যবহারিক শিক্ষা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে।

সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনটি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। এগুলো হলো, উদীয়মান প্রযুক্তি ও পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অভিযোজনক্ষম করা— জাতীয় অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও উন্নয়নের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি শিক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ড গ্রহণ করা এবং সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, নিয়োগদাতা, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও তরুণদের অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা।

সম্মেলনের ফাঁকে চীনের শিক্ষা উপমন্ত্রী রেন ইউছুয়েনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যমান কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যৌথ কারিগরি শিক্ষা কর্মসূচি চালু, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি বৃত্তি সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ কারিগরি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এসব অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।