ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
নারীবান্ধব বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্ব জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সভায় জুবাইদা রহমান ১৭২ বিলিয়ন ডলারের সবুজ বিনিয়োগ : বাংলাদেশের বড় সুযোগ কফি শুধু ঘুম তাড়ায়? দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিয়ে যা বলছে গবেষণা কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীতে লাগাম ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসীরুদ্দীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সময়সীমা বেঁধে দিলো সরকার এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে নভেম্বরের মাঝামাঝি এমবাপ্পে নাকি ইয়ামাল, ব্যালন ডি’অর নিয়ে স্যামুয়েল ইতোর বাজি

১৭২ বিলিয়ন ডলারের সবুজ বিনিয়োগ : বাংলাদেশের বড় সুযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের সবুজ বিনিয়োগের সম্ভাবনা। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের হিসাবে, ২০১৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, পরিবহন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এটি নিশ্চিত বিনিয়োগের অঙ্ক নয়; বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য জলবায়ু-স্মার্ট বিনিয়োগের বাজারের হিসাব।আইএফসির হিসাবে, সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে গ্রিন বিল্ডিংয়ে ১১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, পরিবহন অবকাঠামোয় ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, নগর পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনায় ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিতে ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৪ বিলিয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। খাতভিত্তিক অঙ্কগুলোর যোগফল ১৭১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা গোল করে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে ‘বাংলাদেশ : এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশের এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের গ্রিন ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।’

পরিবেশের পাশাপাশি অর্থনীতির প্রশ্ন

সবুজ বিনিয়োগ এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও এটি যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক, চামড়া, কৃষি ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ ধরনের বিনিয়োগ বাড়লে একদিকে শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয় ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এম ওমর তাইয়ুব সম্প্রতি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের শিল্পের জন্য বড় অঙ্কের সবুজ অর্থায়ন প্রয়োজন হবে।

এ জন্য ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি, বন্ড ও সুকুকের মতো বিকল্প অর্থায়নের উৎস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিনিয়োগ আনতে দরকার নীতি ও অর্থায়ন

বিশাল এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে অর্থায়নই বড় প্রশ্নগুলোর একটি। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি গ্রিন বন্ড, সুকুক, ইকুইটি ও জলবায়ু তহবিলের মতো অর্থায়নের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, বিদ্যুৎ, অনুমোদন ও সরকারি সেবা সহজ করা, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

স্পেনের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ

মাদ্রিদের সেমিনারে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।

ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিনিয়োগের সুযোগও অনেক। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। চেম্বারের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো জানান, আগামী নভেম্বর নাগাদ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য তাই ১৭২ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি শুধু একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগের সংখ্যা নয়। এটি আগামী কয়েক বছরে শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি ও কৃষিকে আরো পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীবান্ধব বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্ব জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক সভায় জুবাইদা রহমান

১৭২ বিলিয়ন ডলারের সবুজ বিনিয়োগ : বাংলাদেশের বড় সুযোগ

আপডেট টাইম : ১১:৪৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার পাশাপাশি বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের সবুজ বিনিয়োগের সম্ভাবনা। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের হিসাবে, ২০১৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, পরিবহন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

এটি নিশ্চিত বিনিয়োগের অঙ্ক নয়; বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য জলবায়ু-স্মার্ট বিনিয়োগের বাজারের হিসাব।আইএফসির হিসাবে, সম্ভাব্য বিনিয়োগের মধ্যে গ্রিন বিল্ডিংয়ে ১১৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, পরিবহন অবকাঠামোয় ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, নগর পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনায় ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষিতে ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৪ বিলিয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। খাতভিত্তিক অঙ্কগুলোর যোগফল ১৭১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা গোল করে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে ‘বাংলাদেশ : এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশের এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের গ্রিন ইনভেস্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।’

পরিবেশের পাশাপাশি অর্থনীতির প্রশ্ন

সবুজ বিনিয়োগ এখন শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও এটি যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক, চামড়া, কৃষি ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এ ধরনের বিনিয়োগ বাড়লে একদিকে শিল্পে জ্বালানি সাশ্রয় ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়তে পারে, অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এম ওমর তাইয়ুব সম্প্রতি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের শিল্পের জন্য বড় অঙ্কের সবুজ অর্থায়ন প্রয়োজন হবে।

এ জন্য ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি, বন্ড ও সুকুকের মতো বিকল্প অর্থায়নের উৎস গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিনিয়োগ আনতে দরকার নীতি ও অর্থায়ন

বিশাল এই সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে অর্থায়নই বড় প্রশ্নগুলোর একটি। দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থ প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি গ্রিন বন্ড, সুকুক, ইকুইটি ও জলবায়ু তহবিলের মতো অর্থায়নের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, বিদ্যুৎ, অনুমোদন ও সরকারি সেবা সহজ করা, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

স্পেনের ব্যবসায়ীদের আগ্রহ

মাদ্রিদের সেমিনারে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআইর প্রশাসক মো. ফজলুল হক। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরেন।

ফজলুল হক বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিনিয়োগের সুযোগও অনেক। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। চেম্বারের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো জানান, আগামী নভেম্বর নাগাদ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য তাই ১৭২ বিলিয়ন ডলারের হিসাবটি শুধু একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগের সংখ্যা নয়। এটি আগামী কয়েক বছরে শিল্প, অবকাঠামো, জ্বালানি ও কৃষিকে আরো পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ।