সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের তুলনায় ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের মূল খরচ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমানের (মাদারীপুর-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে খাবারের খরচ ছাড়া সরকারের সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। তবে ২০২৭ সালে হজযাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মূল প্যাকেজের সঙ্গে খাবারের খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্যাকেজের খরচের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা।
তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা একটি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া। তাই এর মোট ব্যয় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ—এই দুই অংশে বিভক্ত। মোট খরচের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই সৌদি আরব অংশে ব্যয় হয়। এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতে তাঁবু ভাড়া, স্থানীয় যাতায়াত, মিনা, মক্কা ও মদিনায় আবাসন, কোরবানি, ভিসা এবং স্বাস্থ্য বীমা ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবশিষ্ট প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যয় বাংলাদেশের অংশে পড়ে। এর সিংহভাগই বিমান ভাড়ার জন্য ব্যয় হয়।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি সরকার মিনা ও আরাফাতের জন্য আগের সর্বনিম্ন ‘ডি-ক্যাটাগরি’ সেবা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হজের সামগ্রিক খরচ বেড়েছে ৭০০ সৌদি রিয়াল। প্রতি রিয়াল ৩৩ টাকা ২০ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ২৪০ টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সমন্বয়ের কারণে ব্যয় বেড়েছে আরও ৩ হাজার ৮২৫ টাকা।
তিনি বলেন, সৌদি অংশের অতিরিক্ত খরচ ও খাবারের মূল্য যুক্ত করার পরও যদি আগের বছরের প্যাকেজ কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হতো, তাহলে ২০২৭ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য দাঁড়াত ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকা।
তবে ব্যয় কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে আগের বছরের তুলনায় বিমান ভাড়া এক ধাক্কায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে।
Reporter Name 




















