ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সরকারের : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ক্যানসার চিকিৎসায় ৩৬ কোটি অনুদান মেসির চুক্তিতে সেতু বিভাগের সচিব হলেন আবদুর রউফ নিউইয়র্কের পথে ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত স্পিকার ও ইসির : শিশির মনির ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ হতে পারে জাতিসংঘ সম্মেলনের সাইডলাইনে পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ভারত কেন ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর পৃথিবীর ইতিহাসে বিশেষ মুহূর্ত: মাহদী আমিন দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ শতাংশেরও নিচে

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ৩ কেজির ‘ভোল পোয়া’, বিক্রি ১১ হাজারে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৩ বার

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক ভোল পোয়া মাছ। প্রায় ৩ কেজি ওজনের মাছটি সোমবার সকালে আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে এটি দেখতে স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরে খোলা ডাকের মাধ্যমে মাছটি ১১ হাজার ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়।

জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ‘এমএস সিফাত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে। ট্রলারের মাঝি শাইখুলের নেতৃত্বে জেলেরা মাছটি ধরে পরে আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে মাছটি সিফাত ফিসে নেওয়া হয়।

মাছটির ক্রেতা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর চাহিদার ভিত্তিতে মাছটি কিনেছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, মাছটি পরবর্তী সময়ে বিদেশে রপ্তানি করা হতে পারে।

ট্রলারের মাঝি শাইখুল বলেন,গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ জালে বড় আকৃতির মাছটি উঠে আসে। মাছটির আকার ও গঠন অন্যরকম। এত বড় ও দেখতে ব্যতিক্রমী মাছ আগে খুব একটা দেখিনি। মাছটি ঘাটে আনার পর অনেক মানুষ দেখতে ভিড় করেন।
সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন,সাগরে এ ধরনের ব্যতিক্রমী মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য আনন্দের বিষয়। মাছটির আকার ও গঠন সাধারণ পোয়া মাছের তুলনায় বেশ আলাদা। এ ধরনের মাছ ধরা পড়লে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।

মাছটির ক্রেতা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন,এ ধরনের মাছ নিয়মিত পাওয়া যায় না। ঢাকার একজন ব্যবসায়ীর অর্ডারের ভিত্তিতে মাছটি কিনেছি। তিনি জানিয়েছেন, মাছটি বিদেশে রপ্তানি করা হবে।

ফিশারিজ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পোয়া বা ক্রোকার গোত্রের (Sciaenidae) মাছের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে পাওয়া যায়। তবে মাছটির সুনির্দিষ্ট প্রজাতি শনাক্ত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, “মাছটির বড় ও গভীর দেহ, বড় মাথা, প্রশস্ত মুখ এবং রূপালি-ধূসর বর্ণ পোয়া গোত্রের কয়েকটি প্রজাতির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটিকে পোয়া মাছ বলে ধারণা করা গেলেও নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,গভীর সমুদ্রে এ ধরনের ভোল পোয়া মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। মাঝেমধ্যে বিরল প্রজাতির মাছও জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এসব তথ্য সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছের বিচিত্র প্রজাতি ধরা পড়লেও আকার ও গঠনের দিক থেকে এমন মাছ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। ফলে মাছটি দেখতে আলিপুর মৎস্য বন্দরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়া শিশু একাডেমির আয়োজনে ‎‘শাপলাকুঁড়ি’র প্রাথমিক বাছাই শুরু

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ৩ কেজির ‘ভোল পোয়া’, বিক্রি ১১ হাজারে

আপডেট টাইম : ১১:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক ভোল পোয়া মাছ। প্রায় ৩ কেজি ওজনের মাছটি সোমবার সকালে আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে এটি দেখতে স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরে খোলা ডাকের মাধ্যমে মাছটি ১১ হাজার ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়।

জানা গেছে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ‘এমএস সিফাত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে মাছটি ধরা পড়ে। ট্রলারের মাঝি শাইখুলের নেতৃত্বে জেলেরা মাছটি ধরে পরে আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে মাছটি সিফাত ফিসে নেওয়া হয়।

মাছটির ক্রেতা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী মো. রাকিবুল ইসলাম। তিনি ঢাকার এক ব্যবসায়ীর চাহিদার ভিত্তিতে মাছটি কিনেছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, মাছটি পরবর্তী সময়ে বিদেশে রপ্তানি করা হতে পারে।

ট্রলারের মাঝি শাইখুল বলেন,গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় হঠাৎ জালে বড় আকৃতির মাছটি উঠে আসে। মাছটির আকার ও গঠন অন্যরকম। এত বড় ও দেখতে ব্যতিক্রমী মাছ আগে খুব একটা দেখিনি। মাছটি ঘাটে আনার পর অনেক মানুষ দেখতে ভিড় করেন।
সিফাত ফিসের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান বলেন,সাগরে এ ধরনের ব্যতিক্রমী মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য আনন্দের বিষয়। মাছটির আকার ও গঠন সাধারণ পোয়া মাছের তুলনায় বেশ আলাদা। এ ধরনের মাছ ধরা পড়লে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।

মাছটির ক্রেতা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন,এ ধরনের মাছ নিয়মিত পাওয়া যায় না। ঢাকার একজন ব্যবসায়ীর অর্ডারের ভিত্তিতে মাছটি কিনেছি। তিনি জানিয়েছেন, মাছটি বিদেশে রপ্তানি করা হবে।

ফিশারিজ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য পোয়া বা ক্রোকার গোত্রের (Sciaenidae) মাছের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ গোত্রের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে পাওয়া যায়। তবে মাছটির সুনির্দিষ্ট প্রজাতি শনাক্ত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার বলেন, “মাছটির বড় ও গভীর দেহ, বড় মাথা, প্রশস্ত মুখ এবং রূপালি-ধূসর বর্ণ পোয়া গোত্রের কয়েকটি প্রজাতির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে এটিকে পোয়া মাছ বলে ধারণা করা গেলেও নির্দিষ্ট প্রজাতি নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,গভীর সমুদ্রে এ ধরনের ভোল পোয়া মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাগরে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। মাঝেমধ্যে বিরল প্রজাতির মাছও জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এসব তথ্য সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বঙ্গোপসাগরে মাছের বিচিত্র প্রজাতি ধরা পড়লেও আকার ও গঠনের দিক থেকে এমন মাছ তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। ফলে মাছটি দেখতে আলিপুর মৎস্য বন্দরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।