ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন আওয়ামী আমলের আমলনামা উন্নয়নের আড়ালে ২৮ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ২৯ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে উঠে যাচ্ছে ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে জুবাইদা রহমানের আহ্বান কৃষিতেও বাড়ছে খেলাপির চাপ ৩১ অক্টোবর লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছ: হুমায়ূন কবির আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় সামরিক চুক্তিতে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

কাঁধে স্কুল ব্যাগের বদলে সংসারের বোঝা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২ বার

কেউ গরু চরাচ্ছে, কেউ জাল দিয়ে ধরছে মাছ । অথচ এই শিশুদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে, হাতে থাকার কথা বই-খাতা। কিন্তু মেঘনার দুর্গম চরে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর বসতিতে নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই দূরের স্কুলে যাওয়ার সহজ সুযোগও। ফলে শিক্ষার বয়সেই জীবিকার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, বাড়ছে নিরক্ষরতা আর বাল্যবিয়ের ঝুঁকি।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ঢালচর। মেঘনার বুকের মাঝে জেগে ওঠা এই চরে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসবাস। অথচ ওই চরের হাজারো শিশুর জন্য নেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া অনেক শিশুর পক্ষেই অসম্ভব। তাই সাত-আট বছর বয়স হলেই ছেলেরা যুক্ত হচ্ছে কৃষিকাজ কিংবা মাছ ধরায়। মেয়েদের বড় একটি অংশ ব্যস্ত থাকছে ঘরকন্যার কাজে। কিশোরী বয়সে পা রাখতেই শুরু হচ্ছে বিয়ের তোড়জোড়।

কাছে স্কুল থাকলে সন্তানদের পড়াতে চান অভিভাবকরা। কিন্তু নদীপথের দূরত্ব আর যোগাযোগ সংকটে সেই সুযোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই চরে আশ্রয়ণকেন্দ্রের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনও। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় বহু বছরেও চালু হয়নি সেটি। এই পরিত্যক্ত ভবন এখন গরু-ছাগলের দখলে।

চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যায়নি বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানোর আশ্বাস দেন তিনি।

মেঘনার চরে শৈশব হারাচ্ছে হাজারো শিশু। স্কুলের ঘণ্টার বদলে তাদের দিন শুরু হচ্ছে জীবিকার তাগিদে। তাই তাদের হাতে জাল নয় বরং বই-খাতা তুলে দিতে এই দুর্গম চরে শিক্ষার আলো নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইকেলে চড়তেন, ৫ আগস্টের তিন দিন পর প্রাডো গাড়িতে চড়েছেন

কাঁধে স্কুল ব্যাগের বদলে সংসারের বোঝা

আপডেট টাইম : ০২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

কেউ গরু চরাচ্ছে, কেউ জাল দিয়ে ধরছে মাছ । অথচ এই শিশুদের থাকার কথা শ্রেণিকক্ষে, হাতে থাকার কথা বই-খাতা। কিন্তু মেঘনার দুর্গম চরে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর বসতিতে নেই কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নেই দূরের স্কুলে যাওয়ার সহজ সুযোগও। ফলে শিক্ষার বয়সেই জীবিকার চাপে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশব, বাড়ছে নিরক্ষরতা আর বাল্যবিয়ের ঝুঁকি।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ঢালচর। মেঘনার বুকের মাঝে জেগে ওঠা এই চরে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসবাস। অথচ ওই চরের হাজারো শিশুর জন্য নেই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রায় ২০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডে যাওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে দুর্গম চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া অনেক শিশুর পক্ষেই অসম্ভব। তাই সাত-আট বছর বয়স হলেই ছেলেরা যুক্ত হচ্ছে কৃষিকাজ কিংবা মাছ ধরায়। মেয়েদের বড় একটি অংশ ব্যস্ত থাকছে ঘরকন্যার কাজে। কিশোরী বয়সে পা রাখতেই শুরু হচ্ছে বিয়ের তোড়জোড়।

কাছে স্কুল থাকলে সন্তানদের পড়াতে চান অভিভাবকরা। কিন্তু নদীপথের দূরত্ব আর যোগাযোগ সংকটে সেই সুযোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই চরে আশ্রয়ণকেন্দ্রের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনও। কিন্তু শিক্ষক না থাকায় বহু বছরেও চালু হয়নি সেটি। এই পরিত্যক্ত ভবন এখন গরু-ছাগলের দখলে।

চরাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এখনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা যায়নি বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবীব। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানোর আশ্বাস দেন তিনি।

মেঘনার চরে শৈশব হারাচ্ছে হাজারো শিশু। স্কুলের ঘণ্টার বদলে তাদের দিন শুরু হচ্ছে জীবিকার তাগিদে। তাই তাদের হাতে জাল নয় বরং বই-খাতা তুলে দিতে এই দুর্গম চরে শিক্ষার আলো নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।