ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামাতে ফজর নামাজ আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মধ্যে ফজর নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জামাতে ফজর নামাজ আদায়কারীর বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, আপনি সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন। এবং ফজরের সময় কোরআন পাঠে মনোযোগী হোন, নিশ্চয়ই ফজরের তিলাওয়াতের সময় ফেরেশতাদের সমাগম হয়।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৮)অন্য হাদিসে ফজরের সময়ের বিশেষ মর্যাদা প্রসঙ্গে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ফেরেশতারা পালাক্রমে উপস্থিত হন। রাতে একদল এবং দিনের বেলা একদল।

তাঁরা আসর ও ফজর নামাজের সময় একত্র হন। অতঃপর যাঁরা তোমাদের মধ্যে অবস্থান করেন তাঁরা ঊর্ধ্বারোহণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাঁদের ব্যাপারে বেশি অবগত, ‘তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ?’ তখন তাঁরা বলে থাকেন, ‘আমরা তাদের নামাজ পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি। আমরা তাদের কাছে নামাজ পড়া অবস্থায় গিয়েছি।
’ (বুখারি, হাদিস : ৭৪৮৬)আরেক হাদিসে জুমার দিন ফজর নামাজ জামাতে আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আবু উবায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন জামাতে ফজর নামাজ আদায়ের চেয়ে উত্তম কোনো নামাজ নেই। আমি মনে করি, সেখানে তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত হয় তাদের ক্ষমা করা হয়। (তাবরানি, হাদিস : ৩৬৬)

অবশ্য জামাতে ফজর নামাজ আদায় করা খুব সহজ নয়। কারণ তা মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, এ দুই নামাজ (এশা ও ফজর) মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে আসতে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৪)আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। আর (আল্লাহর জন্য) বিনীতরা ছাড়া অন্যদের কাছে তা নিশ্চিতভাবে কঠিন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৪৫)

ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি শয়তানের বিরুদ্ধে প্রথম জয়লাভ করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ ঘুমালে শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেক গিঁটে সে এই বলে পড়ে, তোমার সামনে আছে দীর্ঘ রাত; অতএব, তুমি ঘুমাও। অতঃপর সে জেগে উঠে আল্লাহর জিকির করলে তার একটি গিঁট খুলে যায়। তারপর সে অজু করলে তার আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তারপর নামাজ পড়লে সব গিঁট খুলে যায়। অতঃপর উৎফুল্লচিত্তে তার সকাল হয়। নতুবা সে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে সকালে ওঠে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪২; মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৫)

উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)

সুন্নত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিসে এর প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হয়নি। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকাত নামাজ কখনো ত্যাগ কোরো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৫৮)

আল্লাহ সবাইকে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ার সুযোগ দিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জামাতে ফজর নামাজ আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব

আপডেট টাইম : ১১:১৪:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মধ্যে ফজর নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জামাতে ফজর নামাজ আদায়কারীর বিশেষ মর্যাদার কথা এসেছে।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী, আপনি সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন। এবং ফজরের সময় কোরআন পাঠে মনোযোগী হোন, নিশ্চয়ই ফজরের তিলাওয়াতের সময় ফেরেশতাদের সমাগম হয়।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৮)অন্য হাদিসে ফজরের সময়ের বিশেষ মর্যাদা প্রসঙ্গে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ফেরেশতারা পালাক্রমে উপস্থিত হন। রাতে একদল এবং দিনের বেলা একদল।

তাঁরা আসর ও ফজর নামাজের সময় একত্র হন। অতঃপর যাঁরা তোমাদের মধ্যে অবস্থান করেন তাঁরা ঊর্ধ্বারোহণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, অথচ তিনি তাঁদের ব্যাপারে বেশি অবগত, ‘তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ?’ তখন তাঁরা বলে থাকেন, ‘আমরা তাদের নামাজ পড়া অবস্থায় রেখে এসেছি। আমরা তাদের কাছে নামাজ পড়া অবস্থায় গিয়েছি।
’ (বুখারি, হাদিস : ৭৪৮৬)আরেক হাদিসে জুমার দিন ফজর নামাজ জামাতে আদায়ের বিশেষ গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আবু উবায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, জুমার দিন জামাতে ফজর নামাজ আদায়ের চেয়ে উত্তম কোনো নামাজ নেই। আমি মনে করি, সেখানে তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত হয় তাদের ক্ষমা করা হয়। (তাবরানি, হাদিস : ৩৬৬)

অবশ্য জামাতে ফজর নামাজ আদায় করা খুব সহজ নয়। কারণ তা মুমিন ও মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, এ দুই নামাজ (এশা ও ফজর) মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। তোমরা যদি জানতে যে এই দুই নামাজে কী পরিমাণ সওয়াব নিহিত রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে আসতে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৫৪)আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও। আর (আল্লাহর জন্য) বিনীতরা ছাড়া অন্যদের কাছে তা নিশ্চিতভাবে কঠিন।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৪৫)

ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুমিন ব্যক্তি শয়তানের বিরুদ্ধে প্রথম জয়লাভ করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ ঘুমালে শয়তান তার ঘাড়ের পেছনে তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেক গিঁটে সে এই বলে পড়ে, তোমার সামনে আছে দীর্ঘ রাত; অতএব, তুমি ঘুমাও। অতঃপর সে জেগে উঠে আল্লাহর জিকির করলে তার একটি গিঁট খুলে যায়। তারপর সে অজু করলে তার আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তারপর নামাজ পড়লে সব গিঁট খুলে যায়। অতঃপর উৎফুল্লচিত্তে তার সকাল হয়। নতুবা সে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে সকালে ওঠে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪২; মুসলিম, হাদিস : ১৮৫৫)

উসমান ইবনে আফফান (রা.) বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে এশার সালাত আদায় করল সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়ল। আর যে ব্যক্তি ফজরের সালাত জামাতের সঙ্গে আদায় করল সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়ল। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৭)

সুন্নত নামাজের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিসে এর প্রভূত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, যা অন্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হয়নি। এক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭২৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও তোমরা এই দুই রাকাত নামাজ কখনো ত্যাগ কোরো না।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১২৫৮)

আল্লাহ সবাইকে ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে পড়ার সুযোগ দিন।