ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌসুম শুরুর আগে মধুর সমস্যায় পড়লেন মরিনিয়ো

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার

লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহে। তবে এখনও স্প্যানিশ রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলো মাঠে নামেনি। ফলে তারা পরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে দুই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম ও আর্দা গুলারের মধ্যে শুরুর একাদশে একজনকে রাখা নিয়ে মধুর সমস্যায় আছেন রিয়ালে নতুন অধ্যায় শুরু করা কোচ হোসে মরিনিয়ো।

প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি ম্যাচে নতুন ও পুরোনোদের মিশেলে শিষ্যদের পরখ করে দেখছেন তিনি। যেখানে ৪ ম্যাচ খেলে কেবল একটি গোল হজম করে রিয়াল। তবে তরুণ দুই মেধাবী তারকা বেলিংহ্যাম-গুলারকে ব্যবহার করা নিয়ে বেশ ভাবতে হচ্ছে মরিনিয়োকে। বয়োজ্যষ্ঠতার হিসাবে– কিলিয়ান এমবাপের পেছনে জায়গাটা বেলিংহ্যামের, আর দুই উইংয়ে থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইয়ান দিয়োমান্দে। তবে ইংলিশ তারকা বেলিংহ্যাম বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবে যোগ দিয়েছেন কিছুটা দেরিতে।

আবার পুরোপুরি অ্যাটাকিং লাইনআপ সাজাতে ওই জায়গায় উপযুক্ত নাম গুলার। তিন বছর আগে রিয়ালে যোগ দিয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করলেও, এখনও শুরুর একাদশে নিয়মিত হতে পারেননি এই তুর্কি তারকা। প্রাক-মৌসুমের ম্যাচে তিনি রিয়ালের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন। নম্বর টেনের সঙ্গে তার বোঝাপড়াও ভালো, প্রয়োজন অনুসারে বলের যোগান দিতে পারেন গুলার। বিশেষত পিএসজি ছেড়ে আসার এমবাপের সঙ্গে ভিনি-বেলিংহ্যামের চেয়ে রসায়নটা ভালো জমে তুর্কি মিডফিল্ডারের।

অন্যদিকে, রয়েছে পদমর্যাদা বা গুরুত্বের বিষয়টি। ক্লাবের জন্য সামগ্রিক অবদানের বিচারে যে গুলারের চেয়ে বেলিংহ্যাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে এখন আর কারও মনে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্যে অবশ্যই খেলার মাঠের পারফরম্যান্সও অন্তর্ভুক্ত, যেমনটা দেখা গিয়েছিল বিশ্বকাপে। সেখানে হ্যারি কেইনের ঠিক পেছনে এবং দুই পাশে দুজন উইঙ্গারের সঙ্গে খেলার সময় জুড তার সেরা শক্তির জায়গাটি নতুন করে খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাঝমাঠের প্রায় যেকোনো অবস্থান থেকেই গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে যেতে সক্ষম।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সময় বেলিংহ্যাম প্রমাণ করেছেন যে, প্রায় দুই বছর আগে কাঁধের চোটের কারণে সৃষ্ট শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবং নিজের শারীরিক ও কৌশলগত দক্ষতার সঙ্গে মানানসই পরিবেশে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দল– উভয়ের জন্যই অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেন। আক্রমণভাগে দারুণ সম্ভাবনাময় এমন দুজন খেলোয়াড়কে একাদশে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া হবে, তা মৌসুম এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে মরিনিয়োর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়, তবে এটিই একমাত্র সিদ্ধান্ত নয়। কোচের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডাবল পিভট’ বা মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক ও সৃজনশীল জুটির গঠন।

এক্ষেত্রে একজন কৌশলগতভাবে দক্ষ খেলোয়াড়কে (যেমন বার্নার্ডো সিলভা) এমন একজনের সঙ্গে খেলানো উচিত যার খেলার ধরন মূলত রক্ষণাত্মক (যেমন ভালভার্দে, চুয়ামেনি বা কামাভিঙ্গা)। গুলার বহুমুখী খেলার ক্ষমতার কারণে তিনি প্লে-মেকার বা খেলার মূল কারিগরের ভূমিকায় বিকল্প হিসেবে খেলতে পারেন। কারণ এটা স্পষ্ট যে, বেলিংহ্যাম ও গুলারের মধ্যে কাউকে যদি পজিশন পরিবর্তন করতে হয়, তবে সেই ব্যক্তিটি হবেন এই তুর্কি খেলোয়াড়ই। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার শুরু থেকেই মরিনিয়ো স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, জুডের জন্য তার ভাবনায় থাকা আদর্শ পজিশনের সঙ্গে গত মৌসুমের খেলার ধরনের খুব একটা মিল নেই।

মূলত এই ইংলিশ তারকাকে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্স থেকে অনেক দূরে কিংবা কখনও কখনও একেবারে প্রান্তিক অঞ্চলে (উইংয়ে) খেলতে হয়েছিল। মরিনিয়ো তাকে মাঠের মাঝখানে খেলাতে চান এবং প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ চালানোর পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চান। অবশ্য ক্লাব ফুটবলের মৌসুম বেশ দীর্ঘ। চোট, নিষেধাজ্ঞা কিংবা ফর্মের ওঠানামা– এসব তো থাকবেই। মরিনিয়োর নিজস্ব পরিকল্পনা থাকলেও তিনি কোনো নির্দিষ্ট খেলার পদ্ধতির ব্যাপারে গোঁড়া নন। যা-ই হোক, তিনি এখন এক সুখকর দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মুখোমুখি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌসুম শুরুর আগে মধুর সমস্যায় পড়লেন মরিনিয়ো

আপডেট টাইম : ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহে। তবে এখনও স্প্যানিশ রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো ক্লাবগুলো মাঠে নামেনি। ফলে তারা পরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে দুই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম ও আর্দা গুলারের মধ্যে শুরুর একাদশে একজনকে রাখা নিয়ে মধুর সমস্যায় আছেন রিয়ালে নতুন অধ্যায় শুরু করা কোচ হোসে মরিনিয়ো।

প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতি ম্যাচে নতুন ও পুরোনোদের মিশেলে শিষ্যদের পরখ করে দেখছেন তিনি। যেখানে ৪ ম্যাচ খেলে কেবল একটি গোল হজম করে রিয়াল। তবে তরুণ দুই মেধাবী তারকা বেলিংহ্যাম-গুলারকে ব্যবহার করা নিয়ে বেশ ভাবতে হচ্ছে মরিনিয়োকে। বয়োজ্যষ্ঠতার হিসাবে– কিলিয়ান এমবাপের পেছনে জায়গাটা বেলিংহ্যামের, আর দুই উইংয়ে থাকছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইয়ান দিয়োমান্দে। তবে ইংলিশ তারকা বেলিংহ্যাম বিশ্বকাপ শেষে ক্লাবে যোগ দিয়েছেন কিছুটা দেরিতে।

আবার পুরোপুরি অ্যাটাকিং লাইনআপ সাজাতে ওই জায়গায় উপযুক্ত নাম গুলার। তিন বছর আগে রিয়ালে যোগ দিয়ে আস্থার জায়গা তৈরি করলেও, এখনও শুরুর একাদশে নিয়মিত হতে পারেননি এই তুর্কি তারকা। প্রাক-মৌসুমের ম্যাচে তিনি রিয়ালের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় ছিলেন। নম্বর টেনের সঙ্গে তার বোঝাপড়াও ভালো, প্রয়োজন অনুসারে বলের যোগান দিতে পারেন গুলার। বিশেষত পিএসজি ছেড়ে আসার এমবাপের সঙ্গে ভিনি-বেলিংহ্যামের চেয়ে রসায়নটা ভালো জমে তুর্কি মিডফিল্ডারের।

অন্যদিকে, রয়েছে পদমর্যাদা বা গুরুত্বের বিষয়টি। ক্লাবের জন্য সামগ্রিক অবদানের বিচারে যে গুলারের চেয়ে বেলিংহ্যাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে এখন আর কারও মনে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্যে অবশ্যই খেলার মাঠের পারফরম্যান্সও অন্তর্ভুক্ত, যেমনটা দেখা গিয়েছিল বিশ্বকাপে। সেখানে হ্যারি কেইনের ঠিক পেছনে এবং দুই পাশে দুজন উইঙ্গারের সঙ্গে খেলার সময় জুড তার সেরা শক্তির জায়গাটি নতুন করে খুঁজে পেয়েছিলেন। তিনি এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাঝমাঠের প্রায় যেকোনো অবস্থান থেকেই গোল করার মতো জায়গায় পৌঁছে যেতে সক্ষম।

ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সময় বেলিংহ্যাম প্রমাণ করেছেন যে, প্রায় দুই বছর আগে কাঁধের চোটের কারণে সৃষ্ট শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এবং নিজের শারীরিক ও কৌশলগত দক্ষতার সঙ্গে মানানসই পরিবেশে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দল– উভয়ের জন্যই অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারেন। আক্রমণভাগে দারুণ সম্ভাবনাময় এমন দুজন খেলোয়াড়কে একাদশে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া হবে, তা মৌসুম এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে মরিনিয়োর নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয়, তবে এটিই একমাত্র সিদ্ধান্ত নয়। কোচের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডাবল পিভট’ বা মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক ও সৃজনশীল জুটির গঠন।

এক্ষেত্রে একজন কৌশলগতভাবে দক্ষ খেলোয়াড়কে (যেমন বার্নার্ডো সিলভা) এমন একজনের সঙ্গে খেলানো উচিত যার খেলার ধরন মূলত রক্ষণাত্মক (যেমন ভালভার্দে, চুয়ামেনি বা কামাভিঙ্গা)। গুলার বহুমুখী খেলার ক্ষমতার কারণে তিনি প্লে-মেকার বা খেলার মূল কারিগরের ভূমিকায় বিকল্প হিসেবে খেলতে পারেন। কারণ এটা স্পষ্ট যে, বেলিংহ্যাম ও গুলারের মধ্যে কাউকে যদি পজিশন পরিবর্তন করতে হয়, তবে সেই ব্যক্তিটি হবেন এই তুর্কি খেলোয়াড়ই। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার শুরু থেকেই মরিনিয়ো স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, জুডের জন্য তার ভাবনায় থাকা আদর্শ পজিশনের সঙ্গে গত মৌসুমের খেলার ধরনের খুব একটা মিল নেই।

মূলত এই ইংলিশ তারকাকে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্স থেকে অনেক দূরে কিংবা কখনও কখনও একেবারে প্রান্তিক অঞ্চলে (উইংয়ে) খেলতে হয়েছিল। মরিনিয়ো তাকে মাঠের মাঝখানে খেলাতে চান এবং প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ চালানোর পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে চান। অবশ্য ক্লাব ফুটবলের মৌসুম বেশ দীর্ঘ। চোট, নিষেধাজ্ঞা কিংবা ফর্মের ওঠানামা– এসব তো থাকবেই। মরিনিয়োর নিজস্ব পরিকল্পনা থাকলেও তিনি কোনো নির্দিষ্ট খেলার পদ্ধতির ব্যাপারে গোঁড়া নন। যা-ই হোক, তিনি এখন এক সুখকর দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মুখোমুখি।