ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাম্পে কমেছে গাড়ির লাইন, দ্বিগুণ ভাড়া কমবে কবে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাস সরবরাহ। সেইসঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলোতে কমেছে গাড়ির লাইন। তবে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, একবার ভাড়া বাড়লে আর কমে না। কমলে কবে কমবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমেছে গ্যাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হয়েছে। আরেকটি বয়লার থেকে কম গ্যাস আসতে শুরু করেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। চট্টগ্রামে পাইপলাইনেও গ্যাসের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আগের কয়েক দিনের মতো যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি। চালকরা স্বাভাবিক সময়েই গ্যাস নিতে পেরেছেন। নগরের মুরাদপুর-খাগড়াছড়ি সড়কের সংগীত মোড়ে অবস্থিত এমআইবি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, বিভিন্ন যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের মতো ছিল না কোনও চাপ। ৮ থেকে ১০টি গাড়ি লাইনে ছিল।

এমআইবি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা মো. বোরহান উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস পাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি থাকলেও অনেক সময় একটি গাড়িও লাইনে ছিল না। আসা মাত্রই গাড়িগুলো গ্যাস পেয়েছে।’

নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া

এদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে যানবাহনগুলোতে চালক-হেলপারদের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের ৩ নম্বর রোডের মিনি বাসগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া পাঁচ টাকা হলেও গ্যাস সংকটের অজুহাতে ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছিল। একইভাবে এই রুটে চলাচল করা টেম্পুগুলো পাঁচ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি মুরাদপুর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেম্পুতে আতুরার ডিপো গেলাম। ১০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। অথচ নির্ধারিত ভাড়া পাঁচ টাকা। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও গাড়ির চালকরা দ্বিগুণ ভাড়াই নিচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি দেখার জন্য সরকারের কোনও সংস্থা কাজ করছে না। এ কারণে যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। কবে এই ভাড়া কমবে, আমরা জানি না।’

নগরের খুলশী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে আমার স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে ১১টা পর্যন্ত ছিল। মাঝখানে বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। যা বৃহস্পতিবার রাতেও সচল ছিল। স্টেশনে গাড়ির কোনও চাপ নেই। স্বাভাবিক অবস্থা।’

ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মালিক সমিতি নেতা

তবে চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা-অটো টেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে অর্ধশতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে। এর মধ্যে কিছু স্টেশনে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও চাপ কম। বাকি স্টেশনগুলোতে দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে গ্যাসচালিত সিএনজি, টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা গ্যাস নিতে খুব কষ্ট পাচ্ছেন। স্টেশনের সামনে চালকদের রাত্রিযাপন করতে হচ্ছে। অনেক গাড়ি গ্যাস সংকটে বের করা যাচ্ছে না। যেগুলো সড়কে নেমেছে সেগুলো পাঁচ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আদায় করছে। এতে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হবে না। এটি সাময়িক নেওয়া হচ্ছে।’

পুরোপুরি সচল হতে আরও কিছুদিন লাগবে

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। তবে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। চট্টগ্রামে রেশনিং করে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নতি হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপক (কক্সবাজার) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ কামাল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার রাত আড়াইটা থেকে এলএনজি টার্মিনালে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এখানে দুটি বয়লারের যেটি ভালো আছে, সেটি থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অপরটির ত্রুটি সারানোর পর আজ ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। পর্যায়ক্রমে এই বয়লার থেকেও গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। দুটি বয়লারের গ্যাস এলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু গত কয়েক দিনে সরবরাহ নেমে এসেছিল ১৯ থেকে ২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে সরবরাহ চালাতে হচ্ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পাম্পে কমেছে গাড়ির লাইন, দ্বিগুণ ভাড়া কমবে কবে

আপডেট টাইম : ১১:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে গ্যাস সরবরাহ। সেইসঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলোতে কমেছে গাড়ির লাইন। তবে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, একবার ভাড়া বাড়লে আর কমে না। কমলে কবে কমবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে কমেছে গ্যাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

কক্সবাজারের মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হয়েছে। আরেকটি বয়লার থেকে কম গ্যাস আসতে শুরু করেছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। চট্টগ্রামে পাইপলাইনেও গ্যাসের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।

বৃহস্পতিবার নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আগের কয়েক দিনের মতো যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়নি। চালকরা স্বাভাবিক সময়েই গ্যাস নিতে পেরেছেন। নগরের মুরাদপুর-খাগড়াছড়ি সড়কের সংগীত মোড়ে অবস্থিত এমআইবি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, বিভিন্ন যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের মতো ছিল না কোনও চাপ। ৮ থেকে ১০টি গাড়ি লাইনে ছিল।

এমআইবি সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা মো. বোরহান উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস পাচ্ছে। মাঝেমধ্যে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি থাকলেও অনেক সময় একটি গাড়িও লাইনে ছিল না। আসা মাত্রই গাড়িগুলো গ্যাস পেয়েছে।’

নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া

এদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও একই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া আদায় নিয়ে যানবাহনগুলোতে চালক-হেলপারদের সঙ্গে যাত্রীদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরের ৩ নম্বর রোডের মিনি বাসগুলোতে নির্ধারিত ভাড়া পাঁচ টাকা হলেও গ্যাস সংকটের অজুহাতে ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। যা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছিল। একইভাবে এই রুটে চলাচল করা টেম্পুগুলো পাঁচ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, ‘আমি মুরাদপুর থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেম্পুতে আতুরার ডিপো গেলাম। ১০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। অথচ নির্ধারিত ভাড়া পাঁচ টাকা। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও গাড়ির চালকরা দ্বিগুণ ভাড়াই নিচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি দেখার জন্য সরকারের কোনও সংস্থা কাজ করছে না। এ কারণে যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। কবে এই ভাড়া কমবে, আমরা জানি না।’

নগরের খুলশী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে আমার স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়ে ১১টা পর্যন্ত ছিল। মাঝখানে বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। যা বৃহস্পতিবার রাতেও সচল ছিল। স্টেশনে গাড়ির কোনও চাপ নেই। স্বাভাবিক অবস্থা।’

ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মালিক সমিতি নেতা

তবে চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশা-অটো টেম্পো মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে অর্ধশতাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন আছে। এর মধ্যে কিছু স্টেশনে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও চাপ কম। বাকি স্টেশনগুলোতে দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে গ্যাসচালিত সিএনজি, টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা গ্যাস নিতে খুব কষ্ট পাচ্ছেন। স্টেশনের সামনে চালকদের রাত্রিযাপন করতে হচ্ছে। অনেক গাড়ি গ্যাস সংকটে বের করা যাচ্ছে না। যেগুলো সড়কে নেমেছে সেগুলো পাঁচ টাকার ভাড়া ১০ টাকা আদায় করছে। এতে যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হবে না। এটি সাময়িক নেওয়া হচ্ছে।’

পুরোপুরি সচল হতে আরও কিছুদিন লাগবে

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দেখা দেয়। তবে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। চট্টগ্রামে রেশনিং করে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নতি হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) ব্যবস্থাপক (কক্সবাজার) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ কামাল চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার রাত আড়াইটা থেকে এলএনজি টার্মিনালে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এখানে দুটি বয়লারের যেটি ভালো আছে, সেটি থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অপরটির ত্রুটি সারানোর পর আজ ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। পর্যায়ক্রমে এই বয়লার থেকেও গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। দুটি বয়লারের গ্যাস এলে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’

গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু গত কয়েক দিনে সরবরাহ নেমে এসেছিল ১৯ থেকে ২০ কোটি ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাসের ঘাটতি নিয়ে সরবরাহ চালাতে হচ্ছিল।