ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর ছিল না, বিপ্লবে অংশ নেওয়া মানুষদেরও ছিল: নাহিদ ইসলাম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক দল বা নেতাকর্মীদের ছিল না, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই তা সফল হয়েছে। বিপ্লবে অবদান রাখা সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় তিনি দুঃখিত।

বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

পোস্টের শুরুতে তিনি জুলাই বিপ্লবের শুভেচ্ছা জানিয়ে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত-ঘামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করছেন বলে তিনি আশা করেন।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময় অসংখ্য মানুষ তার জন্য দোয়া করেছেন, মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গান গেয়েছেন ও ছবি এঁকেছেন। এছাড়া আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া রিকশাচালক, চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক, পানির বোতল এগিয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বহু অচেনা মানুষের অবদান তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষই আন্দোলনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের পর তাদের বেশিরভাগই ঘরে ফিরে গেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি।

এনসিপি আহ্বায়ক দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবকে এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগাভাগি করা হচ্ছে। কার কত অবদান, তা নিয়ে আলোচনা হলেও প্রকৃতপক্ষে এই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের।

তার ভাষ্য, ‘জুলাই ছিল এপলিটিক্যাল জনগোষ্ঠীর, আই হেট পলিটিক্স জনগোষ্ঠীর, সুইং ভোটারদের এবং সাধারণ মানুষের। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই কখনো সফল হতো না।’

নাহিদ ইসলাম জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গত দুই দিনে তিনি যতটা সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। তবে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কেউ স্প্যাম ফোল্ডারের কারণে বার্তা দেখেননি, আবার অনেকের বার্তা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি বলেন, তার ইচ্ছা ছিল দেশের ‘ষোল কোটি বিপ্লবী’র প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এজন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পোস্টে তিনি মা, দাদি-নানি, বোন, শ্রমিক, প্রবাসী, আলেম, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, সেনা সদস্য, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারাই জুলাইয়ের প্রকৃত মালিক ও রচয়িতা।

সবশেষে নাহিদ ইসলাম স্বীকার করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ের বহু প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও অনেক দূরে।

তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও বহুমুখী বাধার কারণে সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর ছিল না, বিপ্লবে অংশ নেওয়া মানুষদেরও ছিল: নাহিদ ইসলাম

আপডেট টাইম : ১২:২৩:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব কেবল রাজনৈতিক দল বা নেতাকর্মীদের ছিল না, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই তা সফল হয়েছে। বিপ্লবে অবদান রাখা সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাদের সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় তিনি দুঃখিত।

বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

পোস্টের শুরুতে তিনি জুলাই বিপ্লবের শুভেচ্ছা জানিয়ে আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত-ঘামের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করছেন বলে তিনি আশা করেন।

নাহিদ ইসলাম লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময় অসংখ্য মানুষ তার জন্য দোয়া করেছেন, মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, গান গেয়েছেন ও ছবি এঁকেছেন। এছাড়া আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া রিকশাচালক, চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক, পানির বোতল এগিয়ে দেওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বহু অচেনা মানুষের অবদান তিনি গভীরভাবে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষই আন্দোলনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের পর তাদের বেশিরভাগই ঘরে ফিরে গেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি।

এনসিপি আহ্বায়ক দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবকে এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাগাভাগি করা হচ্ছে। কার কত অবদান, তা নিয়ে আলোচনা হলেও প্রকৃতপক্ষে এই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের।

তার ভাষ্য, ‘জুলাই ছিল এপলিটিক্যাল জনগোষ্ঠীর, আই হেট পলিটিক্স জনগোষ্ঠীর, সুইং ভোটারদের এবং সাধারণ মানুষের। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া জুলাই কখনো সফল হতো না।’

নাহিদ ইসলাম জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গত দুই দিনে তিনি যতটা সম্ভব ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছেন। তবে সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কেউ স্প্যাম ফোল্ডারের কারণে বার্তা দেখেননি, আবার অনেকের বার্তা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায়নি।

তিনি বলেন, তার ইচ্ছা ছিল দেশের ‘ষোল কোটি বিপ্লবী’র প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কৃতজ্ঞতা জানানো। কিন্তু মানবিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এজন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পোস্টে তিনি মা, দাদি-নানি, বোন, শ্রমিক, প্রবাসী, আলেম, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পী, সেনা সদস্য, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারাই জুলাইয়ের প্রকৃত মালিক ও রচয়িতা।

সবশেষে নাহিদ ইসলাম স্বীকার করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ের বহু প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও অনেক দূরে।

তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও বহুমুখী বাধার কারণে সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সবাইকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।