ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সাদেকা হালিমসহ ঢাবির তিন শিক্ষক বরখাস্ত, চারজনকে পড়াতে বারণ শিগগিরই চীনের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে ইরান লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম দেশে এখনও ৬৭ শতাংশের বেশি লেনদেন হচ্ছে নগদে দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান চায় না সরকার: নাহিদ ইসলাম হজের বিমান ভাড়া কমবে আরও ২৫ হাজার টাকা বন্ধ কারখানা চালু ও বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ২৭তম বিসিএসের ৫৬ এএসপিকে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণের জন্য পদায়ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে জনপ্রশাসন হবে অধিকতর জনবান্ধব: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বাংলাদেশের যুবককে বিয়ের কারণ জানালেন পাকিস্তানি তরুণী

আগস্টে শেষ হচ্ছে চুক্তি প্রশাসনের দুই শীর্ষ পদে নতুন মুখ চুক্তিতে নাকি পদোন্নতিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার

আগস্ট শেষ হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ। গুরুত্বপূর্ণ এ দুই পদে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে এ নিয়ে প্রশাসনে চলছে নানা আলোচনা।

একই সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং জনপ্রশাসন সচিব পদে নতুন মুখ আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়া প্রশাসন এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি বলে মনে করেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রশাসনে নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সফলভাবে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য এবং দক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচন করতে হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নীতি-নির্ধারণী পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে চুক্তিভিত্তিক কিংবা পদোন্নতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, সঠিক লোক বাছাই করাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে কাজ চলছে।

তবে, প্রশাসনে নির্বিচারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসনের সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ২২। এর বাইরে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার আরও ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট অবসরে যাওয়া পাঁচ অতিরিক্ত সচিবকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে নাসিমুল গনি ও এহছানুল হক ও ছিলেন।

পরদিনই তাদের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে তাদের পদায়ন করা হয়। তখন নাসিমুল গনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং এহছানুল হক সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. নাসিমুল গনিকে দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়।

ড. নাসিমুল গনি ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০৯ সালে তিনি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হন। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাকে অবসরে পাঠানো হয়। পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনে ফিরে আসেন।

অন্যদিকে, গত বছরের ১২ অক্টোবর এহছানুল হককে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মো. মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে (বিএনপি সরকার এসে তার চুক্তি বাতিল করে)।

নাসিমুল গনি এবং এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হচ্ছে।

চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২২ সচিব

বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) সি এম ইউসুফ হোসাইন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ভূমি আপিল বোর্ডের সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাহউদ্দিন নাগরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) ড. মো. আবদুস সবুর, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. এম. ফজলুজ্জোহা, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়াক্‌ফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

গ্রেড-২ পদেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখন সচিব পর্যায়ের বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। গত ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদে গ্রেড-২ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সামসুল আলম। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব হিসেবে কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে শামসুজ্জামান (সুরুজ), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে জাকির সিদ্দিকি, বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মামুন হাসান নিয়োগ পান।

সংশ্লিষ্টদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এসব নিয়োগের পর প্রশাসনের একাংশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ: আলোচনায় যারা

নাসিমুল গনি বিএনপি সরকার আসার পরেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন। তার ওপর সরকারের আস্থা আছে। কিন্তু, শক্ত হাতে প্রশাসন সামলানোর ক্ষেত্রে নাসিমুল গনির যোগ্যতা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও বাইরে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাই নতুন কাউকে না খুঁজে সরকার চাইলে, নাসিমুল গনিকেও এ পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার মন্ত্রিপরিষদ সচিব হতে চান বলে আলোচনা আছে। তিনিও আসার চেষ্টা করছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের নামও আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) সালেহ আহমেদেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনিও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তার চুক্তির মেয়াদ আগামী ১ অক্টোবর শেষ হবে।

এর বাইরেও যে কেউ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হতে পারেন। কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে, জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে এহছানুল হক থাকছেন না এটি মোটামুটি নিশ্চিত। অসুস্থ থাকায় নতুন করে তার আর এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সম্ভাবনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আসতে পারেন বলে আলোচনা আছে।

শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ নিয়ে যে প্রত্যাশা

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনেকটাই ক্ষুব্ধ। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কারণে তাদের পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা চাইছেন, নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগ দেওয়া হোক।

তবে, সরকারের নীতি-নির্ধারণী একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার‌ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আস্থা না পাওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দিকে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে চাইছে। কারণ বর্তমান সরকার কাউকেই এক বছরের বেশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়নি। এ সময়ের মধ্যে যারা যোগ্যতার পরিচয় দেবে, প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়বে। আর ভালো করতে না পারলে মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে হবে।

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়োগ যেখান থেকেই দেওয়া হোক না কেন, একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। তিনি ইন-সার্ভিস থেকে আসলেন নাকি চুক্তিতে এলেন, সেটি বড় বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে দীর্ঘদিনের দলাদলি, হিংসা-বিদ্বেষ, একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নিয়োগ নিয়ে নানা বিতর্কের কারণে সরকারও বিব্রত হয়েছে। তাই এখন প্রয়োজন দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে গ্রহণযোগ্য, দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া।’

নিয়োগ যেখান থেকেই হোক, দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।— সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার

চুক্তিভিত্তিক সচিবের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এ সাবেক সচিব বলেন, ‘গত ১৫ বছরে অনেক পেশাদার ও দক্ষ কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে এখন সরকার তাদের একটি অংশকে দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।’

‘আমি পাঁচ বছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কাজ করেছি। ক্যাবিনেট সচিবের পদটির একটি আলাদা গুরুত্ব ও ওজন রয়েছে। কিন্তু মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার পর এই পদে যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই সেই অর্থে পদের মর্যাদা ও ওজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিলেন না। যোগ্য কর্মকর্তারা আসেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ২২ জন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারও ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি আমলে বঞ্চিত অনেক কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন করেছিল। তাই শুধু সংখ্যা দিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না।’

আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘ক্যাবিনেট সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে চুক্তিতে ক্যাবিনেট সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় ক্যাবিনেট সচিব শফিউল আজম, পরে আব্দুল মোমেন খাঁন এবং ২০০৫ সালে এ এস এম আব্দুল হালিমও চুক্তিভিত্তিক মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তাকে ক্যাবিনেট সচিব করার একটি প্রচলন ছিল। তবে সরকার যদি মনে করে কর্মরত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও দিতে পারে।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সাদেকা হালিমসহ ঢাবির তিন শিক্ষক বরখাস্ত, চারজনকে পড়াতে বারণ

আগস্টে শেষ হচ্ছে চুক্তি প্রশাসনের দুই শীর্ষ পদে নতুন মুখ চুক্তিতে নাকি পদোন্নতিতে

আপডেট টাইম : ১০:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

আগস্ট শেষ হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ। গুরুত্বপূর্ণ এ দুই পদে ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে এ নিয়ে প্রশাসনে চলছে নানা আলোচনা।

একই সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং জনপ্রশাসন সচিব পদে নতুন মুখ আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এদিকে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভেঙে পড়া প্রশাসন এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি বলে মনে করেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রশাসনে নেতৃত্ব নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সফলভাবে দেশ চালানোর ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য এবং দক্ষ ব্যক্তিদের নির্বাচন করতে হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নীতি-নির্ধারণী পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ মুহূর্তে চুক্তিভিত্তিক কিংবা পদোন্নতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, সঠিক লোক বাছাই করাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিষয়ে কাজ চলছে।

তবে, প্রশাসনে নির্বিচারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসনের সচিবসহ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সিনিয়র সচিব, সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ২২। এর বাইরে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবসহ গ্রেড-২ পদমর্যাদার আরও ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট অবসরে যাওয়া পাঁচ অতিরিক্ত সচিবকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে নাসিমুল গনি ও এহছানুল হক ও ছিলেন।

পরদিনই তাদের সিনিয়র সচিব পদমর্যাদা দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে তাদের পদায়ন করা হয়। তখন নাসিমুল গনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং এহছানুল হক সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান।

চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. নাসিমুল গনিকে দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাতিল করা হয়।

ড. নাসিমুল গনি ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০৯ সালে তিনি বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হন। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাকে অবসরে পাঠানো হয়। পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনে ফিরে আসেন।

অন্যদিকে, গত বছরের ১২ অক্টোবর এহছানুল হককে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মো. মোখলেস উর রহমানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে (বিএনপি সরকার এসে তার চুক্তি বাতিল করে)।

নাসিমুল গনি এবং এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ আগামী ১৬ আগস্ট শেষ হচ্ছে।

চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২২ সচিব

বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) সি এম ইউসুফ হোসাইন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ভূমি আপিল বোর্ডের সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ. জে. এম. সালাহউদ্দিন নাগরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল আই মোহাম্মদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) ড. মো. আবদুস সবুর, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. এম. ফজলুজ্জোহা, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়াক্‌ফ প্রশাসক সাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

গ্রেড-২ পদেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এখন সচিব পর্যায়ের বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। গত ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের পদ ছাড়া বাকি ১১টি পদে গ্রেড-২ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সামসুল আলম। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে সালাহউদ্দিন সরকার, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হিসেবে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব হিসেবে কামরুজ্জামান, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে শামসুজ্জামান (সুরুজ), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে জাকির সিদ্দিকি, বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে মামুন হাসান নিয়োগ পান।

সংশ্লিষ্টদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। এসব নিয়োগের পর প্রশাসনের একাংশের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ: আলোচনায় যারা

নাসিমুল গনি বিএনপি সরকার আসার পরেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন। তার ওপর সরকারের আস্থা আছে। কিন্তু, শক্ত হাতে প্রশাসন সামলানোর ক্ষেত্রে নাসিমুল গনির যোগ্যতা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও বাইরে প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাই নতুন কাউকে না খুঁজে সরকার চাইলে, নাসিমুল গনিকেও এ পদে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার মন্ত্রিপরিষদ সচিব হতে চান বলে আলোচনা আছে। তিনিও আসার চেষ্টা করছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের নামও আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) সালেহ আহমেদেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনিও চুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তার চুক্তির মেয়াদ আগামী ১ অক্টোবর শেষ হবে।

এর বাইরেও যে কেউ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হতে পারেন। কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে, জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে এহছানুল হক থাকছেন না এটি মোটামুটি নিশ্চিত। অসুস্থ থাকায় নতুন করে তার আর এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সম্ভাবনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আসতে পারেন বলে আলোচনা আছে।

শীর্ষ দুই পদে নিয়োগ নিয়ে যে প্রত্যাশা

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনেকটাই ক্ষুব্ধ। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের কারণে তাদের পদোন্নতির পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা চাইছেন, নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিব নিয়োগ দেওয়া হোক।

তবে, সরকারের নীতি-নির্ধারণী একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার‌ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আস্থা না পাওয়ায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দিকে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে চাইছে। কারণ বর্তমান সরকার কাউকেই এক বছরের বেশি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়নি। এ সময়ের মধ্যে যারা যোগ্যতার পরিচয় দেবে, প্রয়োজন হলে মেয়াদ বাড়বে। আর ভালো করতে না পারলে মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে হবে।

সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়োগ যেখান থেকেই দেওয়া হোক না কেন, একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। তিনি ইন-সার্ভিস থেকে আসলেন নাকি চুক্তিতে এলেন, সেটি বড় বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনে দীর্ঘদিনের দলাদলি, হিংসা-বিদ্বেষ, একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং নিয়োগ নিয়ে নানা বিতর্কের কারণে সরকারও বিব্রত হয়েছে। তাই এখন প্রয়োজন দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে গ্রহণযোগ্য, দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া।’

নিয়োগ যেখান থেকেই হোক, দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া জরুরি। দলীয় বিবেচনার বাইরে গিয়ে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।— সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার

চুক্তিভিত্তিক সচিবের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এ সাবেক সচিব বলেন, ‘গত ১৫ বছরে অনেক পেশাদার ও দক্ষ কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে এখন সরকার তাদের একটি অংশকে দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।’

‘আমি পাঁচ বছর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে কাজ করেছি। ক্যাবিনেট সচিবের পদটির একটি আলাদা গুরুত্ব ও ওজন রয়েছে। কিন্তু মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার পর এই পদে যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই সেই অর্থে পদের মর্যাদা ও ওজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিলেন না। যোগ্য কর্মকর্তারা আসেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ২২ জন সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারও ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি আমলে বঞ্চিত অনেক কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন করেছিল। তাই শুধু সংখ্যা দিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না।’

আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘ক্যাবিনেট সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে চুক্তিতে ক্যাবিনেট সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর দ্বিতীয় ক্যাবিনেট সচিব শফিউল আজম, পরে আব্দুল মোমেন খাঁন এবং ২০০৫ সালে এ এস এম আব্দুল হালিমও চুক্তিভিত্তিক মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তাকে ক্যাবিনেট সচিব করার একটি প্রচলন ছিল। তবে সরকার যদি মনে করে কর্মরত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার পরিবর্তে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, তাহলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও দিতে পারে।’

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।