ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ফুটবল লালপুরের গর্ব ফারিহা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার

সব বাধা আর চরম অভাব-অনটনকে জয় করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন আশার আলো হয়ে উদিত হয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা মনি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণের বৃহৎ আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে জাতীয় পর্যায়ে সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট) নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গতপরশু বিকেলে ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফারিহা মনির হাতে সম্মাননা ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী ফারিহার মাথায় হাত বুলিয়ে প্রসংশা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের সময় গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে এই খুদে ফুটবলারকে অভিনন্দন জানান।
টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগের (রাজশাহী অঞ্চল) হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন সপ্তম শ্রেণির এই ফরোয়ার্ড। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বরিশাল অঞ্চলের বিরুদ্ধে রাজশাহী অঞ্চলের ৫-০ গোলের বিশাল জয়ের দিনে একা ৪টি গোল করে ফুটবল অঙ্গনে হইচই ফেলে দেন ফারিহা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার জাদুকরী ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে আসরের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
ফারিহা মনির এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা সাধারণ দশটা মেয়ের মতো সহজ ছিল না, বরং তা চরম ত্যাগ আর সামাজিক দেয়াল ভাঙার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার এক অত্যন্ত দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। ফারিহার বাবা একজন বাকপ্রতিবন্ধী, যার কারণে তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। এক ভাই ও এক বোনসহ পাঁচ জনের এই অভাবের সংসারটি একা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ফারিহার মা, যিনি স্থানীয় রাস্তায় দিনমজুরের কাজ করেন। মায়ের সেই সামান্য দিনমজুরির আয়ের ওপর ভর করে দুবেলা ঠিকমতো খাওয়া যেখানে কষ্টের, সেখানে সমাজের নানা কটু কথা উপেক্ষা করে ফুটবলের স্বপ্নকে বুকে আগলে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন এই বিস্ময় বালিকা। ফারিহা প্রতিদিন অনুশীলনে যেতেন ৪ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে, যা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দেয়।
ফারিহার এই অসামান্য অর্জনে পুরো নাটোর জেলায় আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ক্রীড়া প্রেমীদের মতে উপযুক্ত সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফারিহা ভবিষ্যতে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের জন্য আরও বড় গৌরব বয়ে আনবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ফুটবল লালপুরের গর্ব ফারিহা

আপডেট টাইম : ১২:১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

সব বাধা আর চরম অভাব-অনটনকে জয় করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন আশার আলো হয়ে উদিত হয়েছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার কিশোরী জান্নাতুল ফেরদৌস ফারিহা মনি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণের বৃহৎ আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে জাতীয় পর্যায়ে সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট) নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। গতপরশু বিকেলে ঢাকার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফারিহা মনির হাতে সম্মাননা ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী ফারিহার মাথায় হাত বুলিয়ে প্রসংশা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণের সময় গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে এই খুদে ফুটবলারকে অভিনন্দন জানান।
টুর্নামেন্টে রাজশাহী বিভাগের (রাজশাহী অঞ্চল) হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন সপ্তম শ্রেণির এই ফরোয়ার্ড। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বরিশাল অঞ্চলের বিরুদ্ধে রাজশাহী অঞ্চলের ৫-০ গোলের বিশাল জয়ের দিনে একা ৪টি গোল করে ফুটবল অঙ্গনে হইচই ফেলে দেন ফারিহা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার জাদুকরী ড্রিবলিং আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে আসরের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
ফারিহা মনির এই সাফল্যের পেছনের গল্পটা সাধারণ দশটা মেয়ের মতো সহজ ছিল না, বরং তা চরম ত্যাগ আর সামাজিক দেয়াল ভাঙার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার এক অত্যন্ত দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। ফারিহার বাবা একজন বাকপ্রতিবন্ধী, যার কারণে তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। এক ভাই ও এক বোনসহ পাঁচ জনের এই অভাবের সংসারটি একা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ফারিহার মা, যিনি স্থানীয় রাস্তায় দিনমজুরের কাজ করেন। মায়ের সেই সামান্য দিনমজুরির আয়ের ওপর ভর করে দুবেলা ঠিকমতো খাওয়া যেখানে কষ্টের, সেখানে সমাজের নানা কটু কথা উপেক্ষা করে ফুটবলের স্বপ্নকে বুকে আগলে আজ সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন এই বিস্ময় বালিকা। ফারিহা প্রতিদিন অনুশীলনে যেতেন ৪ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে, যা তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ দেয়।
ফারিহার এই অসামান্য অর্জনে পুরো নাটোর জেলায় আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ক্রীড়া প্রেমীদের মতে উপযুক্ত সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফারিহা ভবিষ্যতে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের জন্য আরও বড় গৌরব বয়ে আনবে।