ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া ’১৮ সালের সেই ৩২ ডিসি কারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রত্যেকের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকার জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানো প্রয়োজন বলে বিবেচনা করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবসরে যাওয়া এ ৩২ কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে যেসব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন— রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর এবং চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব কর্মকর্তা নিজ নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রশাসনিক সংস্কার এবং ওই নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোটগ্রহণে অনিয়ম, বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। যদিও সে সময় নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০৫টি আসনে বিজয়ী হয়, আর প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া ’১৮ সালের সেই ৩২ ডিসি কারা

আপডেট টাইম : ১১:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন ৩২ জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সোমবার (২৭ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং প্রত্যেকের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সরকার জনস্বার্থে তাদের অবসরে পাঠানো প্রয়োজন বলে বিবেচনা করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অবসরে যাওয়া এ ৩২ কর্মকর্তা তৎকালীন সময়ে যেসব জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন— রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর এবং চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব কর্মকর্তা নিজ নিজ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রশাসনিক সংস্কার এবং ওই নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোটগ্রহণে অনিয়ম, বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে না পারার অভিযোগ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। যদিও সে সময় নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ৩০৫টি আসনে বিজয়ী হয়, আর প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায় ৭টি আসন। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।