ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নতুন নাম দিলেন সোহেল তাজ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া সরকার : প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ফ্যাসিবাদ সমর্থন করা সংবাদমাধ্যমকে বয়কট করতে বললেন তথ্যমন্ত্রী মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ: রাষ্ট্রপতি দুই ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ইসির সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাই সাংবাদিকতার মূল কাজ: উপদেষ্টা

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ বার

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর আয়োজনে এই সম্মেলনের মূল থিম ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কোনো পেশাদার বিশ্লেষক নন, বরং মাঠের রাজনীতির একজন কর্মী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি ও মানুষের প্রত্যাশাকে উপলব্ধি করেছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়ন, কৃষি খাতের অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে— যেখানে মানুষ উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ যেন বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

আপডেট টাইম : ০৩:৪০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর আয়োজনে এই সম্মেলনের মূল থিম ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কোনো পেশাদার বিশ্লেষক নন, বরং মাঠের রাজনীতির একজন কর্মী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি ও মানুষের প্রত্যাশাকে উপলব্ধি করেছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।

সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়ন, কৃষি খাতের অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে— যেখানে মানুষ উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।