ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে।

অপরদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে (ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়) প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ রেলওয়ের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।

রেলওয়ে সূত্রমতে, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১.৪৩-এ। অর্থাৎ, সে ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন সংস্থা হওয়ায় জনস্বার্থে ভাড়া রেয়াতি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনরায় নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ১০:৩১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকার তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। এ খাতে আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কোটি ৩৪ লাখ টাকা কমেছে। এছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় হয়েছে।

অপরদিকে পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে (ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়) প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেতন ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (অপারেটিং রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১.৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২.০৯। অর্থাৎ রেলওয়ের আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।

রেলওয়ে সূত্রমতে, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন ব্যয় পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র কিছুটা ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। পেনশন ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১.৪৩-এ। অর্থাৎ, সে ক্ষেত্রে আয়ের তুলনায় ব্যয় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গণপরিবহন সংস্থা হওয়ায় জনস্বার্থে ভাড়া রেয়াতি পর্যায়ে রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রী, আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ, ডলারের বিনিময় হার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনরায় নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে শুধু লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়।