*গুজব প্রতিরোধ,বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ানোর-লোডশেডিং কমানো এবং ইশতেহার বাস্তবায়ন
*জ্বালানি সাশ্রয়ে ডিসিদের গণপরিবহন ব্যবহার
আগামী ৩ মে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোনো কর্মসূচি রাখা হয়নি। এবারের সম্মেলনে সারাদেশে ডিসিদের পাঠানো এক হাজার ৭শত ২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয়ে ডিসিদের নিয়ে আসা গাড়ি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রেখে সরকারি বাসে কার্য-অধিবেশনে চলাচল করবেন তারা।
এ বছরে ৫৬টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ,কার্যালয় এবং সংস্থার বিষয় নিয়ে ৪৩টি কার্য-অধিবেশনের আলোচনা হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে প্রথম দিনেই ডিসিদের মুক্ত আলোচনার সুযোগ পাচ্ছেন। ডিসি সম্মেলনকে সামনে রেখে এবার ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে পাওয়া এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের মতো এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মূল ভেন্যু রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। অন্তর্বকালীন সরকারের সময় গত বছর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডিসিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেয়া না হলেও বিএনপি সরকার এবার প্রেসিডেন্ট সঙ্গে ডিসিরা সৌজন্য সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছে। প্রথম দিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসি সম্মেলন উদ্ধোধন করবেন সকাল সাড়ে ১০টায়। এর পরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ডিসিদের মুক্ত আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাথে ডিসিদের ফটোসেশন।
দ্বিতীয় দিসব আগামী সোমবার শেষে সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ডিসিদের উপস্থিতি এবং জাতীয় সংসদ ভবনে স্পীকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আমাদের সাথে ষৌজন্য স্বাক্ষাৎ ও রাতে নৈশভোজ। তৃতীয় দিবসে প্রধান বিচারপতির সাথে সৈৗজন্য স্বাক্ষাৎ এবং প্রধান বিচারপতির সৌজন্য ডিসিদের আপ্যায়নের অংশগ্রহণ বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টে। চতুর্থ দিবসে ডিসি সম্মেলন শেষের দিবসে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে নৈশভোজে অংশগ্রহণ করনে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। সম্মেলন চলাকালে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবেরা উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের মূল্যবান উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। এ জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি হতে যাচ্ছে প্রথম জেলা প্রশাসক সম্মেলন। প্রতিবছর মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ডিসি ও কমিশনারদের নিয়ে ঢাকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্মেলনের তত্ত্বাবধান করে।
এ সম্মেলনে মন্ত্রী-সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয়। ডিসিরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়, উন্নয়ন কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ জন্য ডিসি সম্মেলন এবং সম্মেলনে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী এমপি ইনকিলাবকে বলেন, ডিসিরা সরকারের নীতি ও কর্মকৌশল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মধ্যে বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম। আমাদের সরকারের আমলে এটিই প্রথম সম্মেলন। কাজেই আমরা এ সম্মেলনকে বেশ গরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমরা চাই মাঠ প্রশাসন সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুক। মাঠ প্রশাসন শক্তিশালী হলে জনগণ সুফল পাবে। আমরা নির্বাচনের সময়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ও ইশতেহারে যা ঘোষণা করা হয়েছে তার সফল বাস্তবায়ন চাই। এটি বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত তৃণমূলের কর্মকর্তাদের। এ জন্য আমরা পদন্নোতি, পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীও একটি দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন চান। বলেন, আমরা জনগণের কাছে ইশতেহার দিয়েছি। আমাদের তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা এখন দেশের শাসক নই, আমরা হচ্ছি সেবক। আমরা দেশবাসীর সেবার জন্য দায়িত্ব নিয়েছি। এটি অক্ষরে অক্ষরে আমরা পালন করতে চাই। এ জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের একান্ত প্রয়োজন।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন, প্রথম দিনে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বপূর্ন নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নির্বাচনের ইশতেহার। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ইনসাফ-ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দলটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা। এই ইশতেহারের শ্লোগান হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আগামী দিনে ইশতেহারে ৯টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি।
ইশতেহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিস্তৃত সংস্কার ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড চালু, জনগণের কল্যাণে বহুমুখী সহায়তা কর্মসূচি, যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং জাতি গঠনে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশনগঠনসহ দেশের কাঠামো ও পরিবেশের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা।
ডিসি সম্মেলনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এ বছর ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয় ও সংস্থার বিষয়াদি ৩৪টি কার্য অধিবেশনে আলোচনা হবে। ডিসিদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি এসেছে মাদকের ছোবল, সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের অবাধ আমদানি ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে। পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়গুলো নিয়েও ডিসিদের উদ্বেগ প্রকাশসহ এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ানোর সঙ্গে লোডশেডিং কমানোর বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে ডিসিদের কাছ থেকে। বগুড়ার বিভাগ, বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, আঞ্চলিক বিকেএসপি, আন্তজাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম নিমার্ণ প্রকল্প, মেট্রোপলিটান পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা এবং বিমান বন্দর স্থাপনের কাজের অগ্রগতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
পাবনার ডিসির প্রস্তাবে বলা হয়, পাবনা জেলায় উৎপাদিত পেয়াজ রংরক্ষণের জন্য আন্তজাতিক মানের কোল্ডস্টোর স্থাপনের প্রস্তাব। কুষ্টিয়া জেলার গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনবাসন শীর্ষক প্রকল্প, রাজবাড়িতে পদ্ম ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পে অগ্রগতির প্রস্তাব, ঝিনাইদহ জেলায় মাদক নির্মূলে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুর্ণবাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব। প্রথম কার্য অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থার,স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, আইন ও বিচার বিভাগ ও লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিবিষয়ক বিভাগ এর পরে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়ন থেকে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে ডিসিদের সৌজন্য স্বাক্ষাৎ এবং রাতের খাবার থাকছে।
ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে ডিসিরা সারা দেশের মাঠের চিত্র ও সুবিধা অসুবিধা ও সুপারিশগুলো প্রস্তাব আকারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব দিয়েছে। ডিসি সম্মেলনকে সামনে রেখে এবার ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের মধ্যে, জনদুর্ভোগ কমানো, জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, দেশব্যাপী পর্যটন শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতনা বৃদ্ধি। এসব প্রস্তাবের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ও এগুলোর কার্যক্রম জোরদারের বিষয়েও ডিসিরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
Reporter Name 





















