মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। একদিকে ইসরায়েলের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইরানের ভয়াবহ ও অপ্রতিরোধ্য ‘ক্লাস্টার বোমা’ হামলা, অন্যদিকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়—ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান।এরই মাঝে প্রেসিডেন্ট চাকুরীচ্যুত করেছেন মার্কিন সেনাপ্রধানকে।
মার্কিন দর্পচূর্ণ: ২ যুদ্ধবিমান ধ্বংস, নিখোঁজ পাইলট
পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরান দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে একটি F-15E Strike Eagle এবং অন্যটি A-10 Warthog। ইরান এই কৃতিত্বের দাবি করার পরপরই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে, একজন মার্কিন পাইলট এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যার সন্ধানে ইরান পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা পাইলট ইরানের হাতে বন্দি হয়েছে। এই নিয়ে চলতি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৭টি মানববাহী যুদ্ধবিমান হারাল, যা মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ইসরায়েলে তথাকথিত নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বোমা’র বৃষ্টি
যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়িয়ে ইরান এবার ইসরায়েলের হাইফা অঞ্চলে নিক্ষেপ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা। একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শত শত ছোট বোমা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর এবং রাস্তায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ইরান জেনেশুনেই এই মারণাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
সবচেয়ে অবাক করা তথ্য দিয়েছে খোদ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পাঁচ সপ্তাহ ধরে টানা বিমান হামলা চালিয়েও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির মাত্র অর্ধেকও ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। পেন্টাগনের গোপন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের ৫০ শতাংশ মিসাইল লঞ্চার এখনো পুরোপুরি সচল এবং তাদের হাতে হাজার হাজার ড্রোন মজুদ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের ‘মিশন’ এখন ব্যর্থতার মুখে। শুরুতে ইরান সরকার পতনের হুঙ্কার দিলেও এখন মার্কিন সুর নরম হতে শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্তহীনতা এবং বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইতিমধ্যেই সেনাপ্রধান কে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবানল কোথায় গিয়ে থামবে, তা এখন পুরো বিশ্বের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Reporter Name 























