ঢাকা ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৩৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় সারা যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তায় নামলেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবারের এই মিছিল ও সমাবেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি।

‘নো কিংস’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বড় ভিড় হয়েছে। রোম, প্যারিস ও বার্লিনেও সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে।

আয়োজকরা এবার বড় শহরের বাইরে রক্ষণশীল এলাকায়ও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিশীল অলাভজনক সংস্থা ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেছেন, ‘এই শনিবারের সংগঠনের মূল গল্প হলো কতজন বিক্ষোভ করছেন তা নয়, বরং কোথায় করছেন তা।’

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে এই এলাকায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এ ৩ হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা ঢুকে বলপূর্বক বহিষ্কার অভিযান চালিয়েছিল। জানুয়ারিতে সেই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং শনিবারের সমাবেশে তাদের স্মরণ করা হয়।

মিনেসোটার সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তৃতা দিয়েছেন। রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ সংগীত পরিবেশন করেছেন। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পূর্বে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আপনাদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারি গুন্ডাদের সশস্ত্র হামলার মুখেও আপনারা বীরত্ব দেখিয়েছেন।’

ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে মিছিলকারীরা সাইনবোর্ড হাতে জমায়েত হয়েছেন। স্যান্ডার্স সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না। আমেরিকায় আমরা জনগণই শাসন করব।’

আগের দুটি ‘নো কিংস’ মিছিল হয়েছিল গেল বছর জুন ও অক্টোবরে, যেগুলোতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এই বিক্ষোভ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার সুযোগে কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর আশায় রয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ

আপডেট টাইম : ০৯:৩৭:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর ঠিক এক মাসের মাথায় সারা যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তায় নামলেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবারের এই মিছিল ও সমাবেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি।

‘নো কিংস’ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বড় ভিড় হয়েছে। রোম, প্যারিস ও বার্লিনেও সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে।

আয়োজকরা এবার বড় শহরের বাইরে রক্ষণশীল এলাকায়ও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিশীল অলাভজনক সংস্থা ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেছেন, ‘এই শনিবারের সংগঠনের মূল গল্প হলো কতজন বিক্ষোভ করছেন তা নয়, বরং কোথায় করছেন তা।’

সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে এই এলাকায় ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এ ৩ হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা ঢুকে বলপূর্বক বহিষ্কার অভিযান চালিয়েছিল। জানুয়ারিতে সেই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং শনিবারের সমাবেশে তাদের স্মরণ করা হয়।

মিনেসোটার সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তৃতা দিয়েছেন। রক কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ সংগীত পরিবেশন করেছেন। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পূর্বে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘আপনাদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারি গুন্ডাদের সশস্ত্র হামলার মুখেও আপনারা বীরত্ব দেখিয়েছেন।’

ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে মিছিলকারীরা সাইনবোর্ড হাতে জমায়েত হয়েছেন। স্যান্ডার্স সমাবেশে বলেছেন, ‘আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না। আমেরিকায় আমরা জনগণই শাসন করব।’

আগের দুটি ‘নো কিংস’ মিছিল হয়েছিল গেল বছর জুন ও অক্টোবরে, যেগুলোতে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এই বিক্ষোভ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার সুযোগে কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর আশায় রয়েছেন।