বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নেতৃত্ব ও প্রেরণার দুই ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ‘ফাইনাল খেলার ক্যাপ্টেন’, আর সংকটের কঠিন সময়ে মাঠে নেমে জিয়াউর রহমান হয়ে উঠেছিলেন ‘সেঞ্চুরিয়ান খেলোয়াড়’।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধে নিজের সম্পৃক্ততা, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, তিনি কোনো চাপ বা পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং শুরু থেকেই মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে তিনি বিএলএফের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয় সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর ইকবাল হলের পুকুরপাড়ে নিজের রক্ত দিয়ে শপথ নেওয়ার ঘটনাকে তিনি তার জীবনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি স্মরণ করেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর তাকে স্থানীয়ভাবে মানুষকে সংগঠিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ কিশোরগঞ্জে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন এবং ১২ মার্চ থেকে স্থানীয় আনসার ও পুলিশের সহায়তায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেন।
স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ সকালে একটি গোপন বার্তার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ এবং শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বাধীনতা ঘোষণার বিষয়টি। পরদিন ২৭ মার্চ বেতারে জিয়াউর রহমান-এর কণ্ঠে সেই ঘোষণার পুনঃউচ্চারণ শুনে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা আরও উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
রণাঙ্গনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে ৫ নম্বর সেক্টরের অধীনে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেন। বিশেষ করে ৯ ডিসেম্বরের কালনী-কুশিয়ারা যুদ্ধে তার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক শত্রুসেনা আটক এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও রসদ জব্দ করা হয়।
দুই শীর্ষ নেতার ভূমিকা মূল্যায়নে তিনি বলেন, “মুজিবনগর সরকারের অধীনেই যুদ্ধের সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল দৃঢ় করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণে বিএনপির করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটির উচিত ১৯৭১-এর আদর্শে অবিচল থাকা এবং স্বাধীনতার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান বজায় রাখা। একই সঙ্গে তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সমালোচনা করেন এবং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, সকল সেক্টর কমান্ডার, ৩০ লাখ শহীদ এবং নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়ের পরিক্রমায় সকল বিভ্রান্তি দূর হয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসই প্রতিষ্ঠিত হবে।
Reporter Name 























