ঢাকা ১২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বৈশ্বিক দাসত্ব ও শোষণ নির্মূলে জোরালো আহ্বান বাংলাদেশের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার

দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলে জোরদার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত এক স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান।

বুধবার (২৫ অনুষ্ঠিত) সভায় তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের লক্ষ লক্ষ শিকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা সাহসী মানুষদের অদম্য মনোবলের প্রশংসা করেন।

ড. রহমান বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানবজাতির ওপর এক স্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে। দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা এবং সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

তিনি আরও বলেন, ১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসত্ব বিলুপ্ত হলেও এর প্রভাব এখনো সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় জোরদার এবং দাসত্ব ও দাসবাণিজ্যের মানবিক ও সভ্যতাগত ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক দাসত্ব ও শোষণ নির্মূলে জোরালো আহ্বান বাংলাদেশের

আপডেট টাইম : ১০:৩৩:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

দাসত্ব ও নিপীড়ন নির্মূলে জোরদার বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের শিকারদের স্মরণে’ আয়োজিত এক স্মারক সভায় এ আহ্বান জানান।

বুধবার (২৫ অনুষ্ঠিত) সভায় তিনি দাসত্ব ও ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্যের লক্ষ লক্ষ শিকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করা সাহসী মানুষদের অদম্য মনোবলের প্রশংসা করেন।

ড. রহমান বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক দাসবাণিজ্য মানবজাতির ওপর এক স্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে। দাসত্ব, বর্ণবাদ, গণহত্যা এবং সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের সংবিধান সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, বর্ণবাদ ও বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং শোষিত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

তিনি আরও বলেন, ১৯২৬ সালের দাসত্ব সংক্রান্ত কনভেনশন এবং প্রায় ৮০ বছর আগে গৃহীত মানবাধিকার সনদ দাসত্বকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দাসত্ব বিলুপ্ত হলেও এর প্রভাব এখনো সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বিদ্যমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানব পাচার প্রতিরোধ, ডিজিটাল ফরেনসিক সমন্বয় জোরদার এবং দাসত্ব ও দাসবাণিজ্যের মানবিক ও সভ্যতাগত ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষা ও সংলাপে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দাসত্ব, বৈষম্য ও অন্যায়ের কোনো স্থান থাকবে না এবং মানব মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।