দেশজুড়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়লেও সেই উৎসব থেকে বিচ্ছিন্ন নন কারাবন্দিরাও। আগামীকাল শনিবার ঈদের নামাজ আদায়ের পরপরই দেশের সব কারাগারে বন্দিরা অংশ নেবেন বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈদ উদযাপনে। নতুন পোশাক, উন্নত খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও খেলাধুলার মধ্য দিয়ে চার দেয়ালের ভেতরেই ভাগাভাগি হবে উৎসবের আনন্দ।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি কারাগারে জামাত আয়োজন, বিশেষ খাবার পরিবেশন এবং বন্দিদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুস্থ বন্দিদের জন্য লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি সরবরাহ করা হয়েছে, আর অনেকেই পরিবারের পাঠানো নতুন পোশাক পেয়েছেন।
বিশেষ করে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপি, আমলা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করবেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক এসব আলোচিত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষ কারাগারে প্রথম ঈদ।
কারা সূত্র জানায়, এই কারাগারে বর্তমানে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ মোট ১২৩ জন বন্দি রয়েছেন। তারা ঈদের দিন একসঙ্গে জামাতে অংশ নেবেন- যা কারাজীবনের বাস্তবতায় খুবই বিরল ঘটনা।
ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে একদিন বিনামূল্যে তিন মিনিট মোবাইলে কথা বলার সুযোগ পাবেন তারা। এছাড়া একদিন স্বজনরা কারাগারে গিয়ে বাসা থেকে রান্না করা খাবারও দিতে পারবেন। নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি সাক্ষাতের ব্যবস্থাও থাকছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, বন্দিদের মানসিক স্বস্তির কথা বিবেচনা করেই এসব আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফুটবল খেলা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কারাগারে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিনোদনের আয়োজন কিছুটা সীমিত রাখা হয়েছে। সেখানে সশ্রম দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের অংশগ্রহণে একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা উপভোগ করবেন অন্যান্য বন্দিরা।
এদিকে সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন একই কারাগারে পৃথক কক্ষে অবস্থান করছেন। রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে অন্যান্য বন্দিদের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছে। তবে তিনি ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে জামাতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, “সব কারাগারেই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বন্দিদের জন্য উন্নত খাবার, নতুন পোশাক ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমরা চাই, তারাও যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন।”
তিনি আরও জানান, ঈদের দিন তিনি নিজেই বিভিন্ন কারাগার পরিদর্শন করবেন এবং বন্দিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
নিরাপত্তার দিক থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। সব কারাগারে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং কারা গোয়েন্দারা সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, প্রাচীরবন্দি জীবনেও ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রস্তুত দেশের হাজারো বন্দি—নিরাপত্তা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেই খুঁজে নিচ্ছেন উৎসবের আলো।
Reporter Name 




















