মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তির নেপথ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখছে পশ্চিমা বিশ্ব। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে জানিয়েছেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশলের পেছনে পুতিনের ‘অদৃশ্য হাত’ কাজ করছে।
উত্তর ইরাকের এরবিলে পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর বিশ্বরাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণ সামনে এলো।
যুক্তরাজ্যের সামরিক সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো এখন ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত রুশ রণকৌশল হুবহু অনুসরণ করছে। বিশেষ করে ‘শাহেদ’ ড্রোনের মাধ্যমে নিচু দিয়ে ওড়ার নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করায় তা ঠেকানো পশ্চিমা বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটিশ জয়েন্ট অপারেশনের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরি জানান, রাশিয়া এখন ইরানকে ড্রোন মোতায়েন ও ব্যবহারের বিষয়ে সরাসরি কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে, এই অস্থিরতার ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিষয়টিকে ‘সরবরাহ বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে শোনা গেছে ভিন্ন সুর। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনেক লাভ’ হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি বলেছেন, যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও টুইট দিয়ে তা জেতা যায় না এবং এই ভুলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুশোচনা করতে হবে।
Reporter Name 
























