ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফাগুনের আগুনে রাঙা দেশের সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৯ বার

বসন্তের প্রথম হাওয়া গায়ে লাগতেই যেন আগুন লেগেছে শিমুল গাছে। টকটকে লাল ফুলে ভরে উঠেছে ডালপালা—দূর থেকে তাকালে মনে হয়, ফাগুন নিজের রাঙা ওড়না মেলে দিয়েছে এই বাগানের আকাশে। লাল পাপড়ির উচ্ছ্বাসে সবুজ ডালগুলো যেন নেচে উঠেছে, রক্তিম রঙের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে চারদিকে। এ শুধু একটি বাগান নয়, এ যেন রঙের উন্মাদনায় ভরা এক শিমুল-স্বর্গ। ওপারে হিমালয় আর মাঝে রয়েছে যাদুকাটা নদী। এ যেনো প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস।

সুনামগঞ্জের দেশের সর্ববৃহৎ শিমুল বাগানে এখন গাছে গাছে ফুলের সমারোহ। পাহাড়, নদী আর শিমুলের এই যুগলবন্দি যেন প্রকৃতির নিখুঁত তুলির আঁচড়ে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, নদীর পাড়জুড়ে যেন লাল সুন্দরী ছেয়ে আছে।

বসন্ত এলেই রক্তিম আভায় ফুলে ফুলে ভোরে ওঠে তাহিরপুরের শিমুল বাগান। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ। স্বজন, সহকর্মী আর বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কেউ ছবি তোলেন, কেউ হাঁটেন লাল পাপড়ি বিছানো পথে।

২০০২ সালে তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে যাদুকাটা নদীর তীরে গড়ে ওঠে এই শিমুল বাগান। স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ২৪ একর জমির ওপর রোপণ করেন প্রায় ৩ হাজার শিমুল গাছ। সময়ের পরিক্রমায় গাছগুলো এখন পরিপক্ব। বসন্ত এলেই রক্তিম আভা ছড়িয়ে জানান দেয় অস্তিত্বের।

ওপারে চিরন্তন প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে হিমালয়। মাঝখানে শান্ত স্রোতে বয়ে চলেছে যাদুকাটা নদী। তার জলে আয়নায় প্রতিফলিত হচ্ছে লাল শিমুলের আগুনরাঙা স্বপ্ন। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, সময় থমকে গেছে; হৃদয় ভরে ওঠে এক অদ্ভুত আলোড়নে, যেন বসন্ত নিজেই এসে নিঃশব্দে ছুঁয়ে দিয়ে যায় মনের গভীরে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাগুনের আগুনে রাঙা দেশের সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান

আপডেট টাইম : ১১:২২:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বসন্তের প্রথম হাওয়া গায়ে লাগতেই যেন আগুন লেগেছে শিমুল গাছে। টকটকে লাল ফুলে ভরে উঠেছে ডালপালা—দূর থেকে তাকালে মনে হয়, ফাগুন নিজের রাঙা ওড়না মেলে দিয়েছে এই বাগানের আকাশে। লাল পাপড়ির উচ্ছ্বাসে সবুজ ডালগুলো যেন নেচে উঠেছে, রক্তিম রঙের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে চারদিকে। এ শুধু একটি বাগান নয়, এ যেন রঙের উন্মাদনায় ভরা এক শিমুল-স্বর্গ। ওপারে হিমালয় আর মাঝে রয়েছে যাদুকাটা নদী। এ যেনো প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস।

সুনামগঞ্জের দেশের সর্ববৃহৎ শিমুল বাগানে এখন গাছে গাছে ফুলের সমারোহ। পাহাড়, নদী আর শিমুলের এই যুগলবন্দি যেন প্রকৃতির নিখুঁত তুলির আঁচড়ে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, নদীর পাড়জুড়ে যেন লাল সুন্দরী ছেয়ে আছে।

বসন্ত এলেই রক্তিম আভায় ফুলে ফুলে ভোরে ওঠে তাহিরপুরের শিমুল বাগান। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ। স্বজন, সহকর্মী আর বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কেউ ছবি তোলেন, কেউ হাঁটেন লাল পাপড়ি বিছানো পথে।

২০০২ সালে তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে যাদুকাটা নদীর তীরে গড়ে ওঠে এই শিমুল বাগান। স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ২৪ একর জমির ওপর রোপণ করেন প্রায় ৩ হাজার শিমুল গাছ। সময়ের পরিক্রমায় গাছগুলো এখন পরিপক্ব। বসন্ত এলেই রক্তিম আভা ছড়িয়ে জানান দেয় অস্তিত্বের।

ওপারে চিরন্তন প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে হিমালয়। মাঝখানে শান্ত স্রোতে বয়ে চলেছে যাদুকাটা নদী। তার জলে আয়নায় প্রতিফলিত হচ্ছে লাল শিমুলের আগুনরাঙা স্বপ্ন। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, সময় থমকে গেছে; হৃদয় ভরে ওঠে এক অদ্ভুত আলোড়নে, যেন বসন্ত নিজেই এসে নিঃশব্দে ছুঁয়ে দিয়ে যায় মনের গভীরে।