ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের বাড়তি দাম রোজার বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোক্তা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার

রোজায় ক্রেতাসাধারণকে স্বস্তি দিতে সরকারের পক্ষ থেকে এবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানি করা হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য। পাশাপাশি রোজা ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ মজুত। বিশ্ববাজারেও এবার পণ্যের দাম কম। ফলে দেশে জোগান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এতে শবেবরাতের পর বাজারে রোজার পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় অতি ব্যবহৃত পণ্যের মধ্যে-পেঁয়াজ, খেজুর, মসুর ডাল, সয়াবিন তেলের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি দুধ কিনতেও ক্রেতাকে একই সময়ের তুলনায় ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। ফলে রমজানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তা।

রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা-যা গত বছর একই সময় ১১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল।

পাশাপাশি প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় চিনি কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি ২০ টাকা কম ব্যয় হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা। আর গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর রোজার আগে ৮৪০ টাকা ছিল।

রাজধানীর কাওরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার শবেবরাতের আগে ও পরের দিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে গতবছর রোজার আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই মনে শঙ্কা হচ্ছে সামনে কী হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইন প্রয়োগের বড় দুর্বলতা। এবার বাজারে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ আছে, তাতে রোজায় দাম বাড়ার কথা নয়। আর গত বছরের তুলনায় কেন বেশি দাম, সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই সরবরাহ পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এ বছরের রমজান স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যের বাড়তি দাম রোজার বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোক্তা

আপডেট টাইম : ১০:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোজায় ক্রেতাসাধারণকে স্বস্তি দিতে সরকারের পক্ষ থেকে এবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানি করা হয়েছে চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য। পাশাপাশি রোজা ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ মজুত। বিশ্ববাজারেও এবার পণ্যের দাম কম। ফলে দেশে জোগান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এতে শবেবরাতের পর বাজারে রোজার পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে রোজায় অতি ব্যবহৃত পণ্যের মধ্যে-পেঁয়াজ, খেজুর, মসুর ডাল, সয়াবিন তেলের দাম গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি দুধ কিনতেও ক্রেতাকে একই সময়ের তুলনায় ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। ফলে রমজানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ভোক্তা।

রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা-যা গত বছর একই সময় ১১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল।

পাশাপাশি প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় চিনি কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি ২০ টাকা কম ব্যয় হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা। আর গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর রোজার আগে ৮৪০ টাকা ছিল।

রাজধানীর কাওরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার শবেবরাতের আগে ও পরের দিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে গতবছর রোজার আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই মনে শঙ্কা হচ্ছে সামনে কী হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইন প্রয়োগের বড় দুর্বলতা। এবার বাজারে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ আছে, তাতে রোজায় দাম বাড়ার কথা নয়। আর গত বছরের তুলনায় কেন বেশি দাম, সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই সরবরাহ পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এ বছরের রমজান স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।