ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমে পরিণত হয়েছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমে পরিণত হয়েছে। যাদের কাছে দেশের মা-বোনরা নিরাপদ নয়। বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে। আগামী ১২ তারিখ জনগণ নির্বাচিত করবে তাদের জবাবদিহির সরকার। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে দেখেছি, স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণকে কথা বলত, গুণী ব্যক্তিদের অপদস্থ করত, মানুষকে ছোট করত, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করলাম, সেই রীতি বন্ধ হয়নি। একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে দেশের মানুষের কাছে।

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতাকর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, শ্রদ্ধা নেই মা-বোনদের প্রতি, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কীভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে তারা প্রতিবারই একসঙ্গে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ৭১, ৮৬, ৯৬-সহ বিগত ১৫ বছর তাদের সঙ্গে ছিলেন তারা।’ বরিশালের সমস্যাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বরিশালে নদীভাঙন সবচেয়ে বড় সমস্যা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অনেক কাজ রয়ে গেছে, এই কাজগুলো করতে হলে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক কাজ বিএনপির আমলে শুরু হয়েছিল। যা শেষ করা যায়নি। অনেক কাজ জমে গেছে, সমাধান করতে হবে। বিএনপি জয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়।’

নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেশকে সামনে নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারী-পুরুষ এক সঙ্গে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, তা না হলে প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্ত দলগুলো নারীসমাজকে নিয়ে অপমানজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। গুপ্তরা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, তাদের বক্তব্যে তাদের মানসিকতা ফুটে উঠেছে। তারা ক্ষমতায় গেলে জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি হবে। তাই তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিষয়ে।’ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক।

সমাবেশের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

এদিকে প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাকলেস পার্ক মাঠে সমাবেশস্থলে যোগ দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল ও নানা রঙে সেজে সমাবেশে যোগদান করেন। দুপুর ১২:২০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালের আউটার স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন। সেখান থেকে গাড়িবহরে তিনি সমাবেশস্থলে আসেন। এ সময় তার গাড়ি বহরকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উল্লাস করেন। ধানের শীষের পক্ষে নানা সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সভাস্থল। আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা আগত নেতাকর্মীদের।

আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আর যারা এই ষড়যন্ত্র করছে মানুষ তাদের গুপ্ত বলে ডাকে। এই গুপ্ত দল যখন যেখানে যে রূপ দেখাতে হয় তারা সে রূপ দেখায়। সেই গুপ্ত দলের কাছ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার বেলা ৩টায় ফরিদপুরের ঐতিহাসিক রাজেদ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তরেক রহমান বলেন, গুপ্ত দলের নেতা এদেশের খেটে-খাওয়া নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা অপমানজনক। আর এ গুপ্ত নেতার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। এদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল। এ কারণে এই গুপ্ত দলের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের উন্নয়ন চাইলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আপনারা আমাদের প্রার্থীদের ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখেন, আমরা ১২ তারিখের পর আপনাদের দেখে রাখব।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচনি জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই, ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যা সমাধান হয় তা হলে বিএনপি এটা সমাধান করবে। আমরা শুনেছি, প্রত্যেক এলাকায় এত উন্নয়ন হয়েছে তা হলে আপনাদের প্রার্থীরা এত সমস্যার কথা বলল কেন? বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখ দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিলে আমরা কী কী করব তার পরিকল্পনা করেছি। এই এলাকার অন্যতম একটি সমস্যা নদীভাঙন। কৃষিপ্রধান এই এলাকায় নদীভাঙন রোধ করতে পারলে এই গ্রেটার ফরিদপুরের অন্যতম সেরা ফসল পাটকে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাব।

তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেব। তার মাধ্যমে ফসল ফলাতে বীজ সার পৌঁছে দিতে চাই। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা করব যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। নারীদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এজন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এর মাধ্যমে খেটে-খাওয়া পরিবারগুলো প্রতি মাসে সরকারের তরফ থেকে সহায়তা পাবে।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং স্বৈরাচারমুক্ত করতে জুলাই যোদ্ধারা অনেক কিছু হারিয়েছে। আমরা সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা রক্ষা পেয়েছে। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশে ফরিদপুর স্টেডিয়ামের মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন। এরপর গাড়িতে করে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মঞ্চে ওঠেন। পরে দুপুর ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।সমবেত বিশাল জনতার সামনে বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এ সময় পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজের সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ-সাংগঠনিক মো. সেলিমুজ্জামান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি হেলেন জেরিন খানসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত হন রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে। দুপুরে গোটা জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। স্মরণকালের বিশাল এ সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও হাজারো সাধারণ মানুষ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তৃতা শুনতে সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমে পরিণত হয়েছে

আপডেট টাইম : ১০:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারের মতোই গুপ্ত সংগঠনের ব্যক্তিরা নতুন জালেমে পরিণত হয়েছে। যাদের কাছে দেশের মা-বোনরা নিরাপদ নয়। বুধবার বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে। আগামী ১২ তারিখ জনগণ নির্বাচিত করবে তাদের জবাবদিহির সরকার। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে দেখেছি, স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণকে কথা বলত, গুণী ব্যক্তিদের অপদস্থ করত, মানুষকে ছোট করত, কিন্তু দুঃখের সঙ্গে খেয়াল করলাম, সেই রীতি বন্ধ হয়নি। একটি দল গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরা এখন নতুন জালেমের ভূমিকায় আবির্ভাব হয়েছে দেশের মানুষের কাছে।

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের অত্যন্ত কলঙ্কিত শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেই নেতাকর্মীরা মা-বোনদের জন্য সম্মান দেখায় না, শ্রদ্ধা নেই মা-বোনদের প্রতি, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ আত্মসম্মানসূচক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছে মানুষের মর্যাদা নেই।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। কোন পর্যায়ের মানুষ তারা, কোন পর্যায়ের মানুষ হলে জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানুষকে কীভাবে তারা ট্রিট করছে, তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ের তা বেরিয়ে এসেছে। এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা বোঝা যাবে। তাই গুপ্তদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে তারা প্রতিবারই একসঙ্গে ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ৭১, ৮৬, ৯৬-সহ বিগত ১৫ বছর তাদের সঙ্গে ছিলেন তারা।’ বরিশালের সমস্যাগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বরিশালে নদীভাঙন সবচেয়ে বড় সমস্যা, বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অনেক কাজ রয়ে গেছে, এই কাজগুলো করতে হলে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেক কাজ বিএনপির আমলে শুরু হয়েছিল। যা শেষ করা যায়নি। অনেক কাজ জমে গেছে, সমাধান করতে হবে। বিএনপি জয়ী হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করতে চায়।’

নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে দেশকে সামনে নেওয়া যাবে না উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘নারী-পুরুষ এক সঙ্গে মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, তা না হলে প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গুপ্ত দলগুলো নারীসমাজকে নিয়ে অপমানজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। গুপ্তরা জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, তাদের বক্তব্যে তাদের মানসিকতা ফুটে উঠেছে। তারা ক্ষমতায় গেলে জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা তৈরি হবে। তাই তাদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে তাদের বিষয়ে।’ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক।

সমাবেশের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

এদিকে প্রায় ২০ বছর পর বরিশালে তারেক রহমানের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাকলেস পার্ক মাঠে সমাবেশস্থলে যোগ দেন। এ সময় নেতাকর্মীরা ঢাকঢোল ও নানা রঙে সেজে সমাবেশে যোগদান করেন। দুপুর ১২:২০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালের আউটার স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন। সেখান থেকে গাড়িবহরে তিনি সমাবেশস্থলে আসেন। এ সময় তার গাড়ি বহরকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উল্লাস করেন। ধানের শীষের পক্ষে নানা সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সভাস্থল। আগামী দিনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা আগত নেতাকর্মীদের।

আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকার নিয়ে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আর যারা এই ষড়যন্ত্র করছে মানুষ তাদের গুপ্ত বলে ডাকে। এই গুপ্ত দল যখন যেখানে যে রূপ দেখাতে হয় তারা সে রূপ দেখায়। সেই গুপ্ত দলের কাছ থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার বেলা ৩টায় ফরিদপুরের ঐতিহাসিক রাজেদ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে নির্বাচনি বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তরেক রহমান বলেন, গুপ্ত দলের নেতা এদেশের খেটে-খাওয়া নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা অপমানজনক। আর এ গুপ্ত নেতার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। এদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল। এ কারণে এই গুপ্ত দলের কাছ থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের উন্নয়ন চাইলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আপনারা আমাদের প্রার্থীদের ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখেন, আমরা ১২ তারিখের পর আপনাদের দেখে রাখব।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচনি জনসভায় আপনাদের সামনে আমি এতটুকু বলতে চাই, ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যা সমাধান হয় তা হলে বিএনপি এটা সমাধান করবে। আমরা শুনেছি, প্রত্যেক এলাকায় এত উন্নয়ন হয়েছে তা হলে আপনাদের প্রার্থীরা এত সমস্যার কথা বলল কেন? বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার থাকলেই কেবল দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখ দেশের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিলে আমরা কী কী করব তার পরিকল্পনা করেছি। এই এলাকার অন্যতম একটি সমস্যা নদীভাঙন। কৃষিপ্রধান এই এলাকায় নদীভাঙন রোধ করতে পারলে এই গ্রেটার ফরিদপুরের অন্যতম সেরা ফসল পাটকে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাব।

তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যই আমরা কৃষকদের কৃষি কার্ড দেব। তার মাধ্যমে ফসল ফলাতে বীজ সার পৌঁছে দিতে চাই। এই এলাকার একটি অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক এলাকায় বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কলকারখানা করব যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারে। নারীদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এজন্য নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেব। এর মাধ্যমে খেটে-খাওয়া পরিবারগুলো প্রতি মাসে সরকারের তরফ থেকে সহায়তা পাবে।

উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং স্বৈরাচারমুক্ত করতে জুলাই যোদ্ধারা অনেক কিছু হারিয়েছে। আমরা সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা রক্ষা পেয়েছে। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশে ফরিদপুর স্টেডিয়ামের মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামেন। এরপর গাড়িতে করে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মঞ্চে ওঠেন। পরে দুপুর ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।সমবেত বিশাল জনতার সামনে বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এ সময় পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজের সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ-সাংগঠনিক মো. সেলিমুজ্জামান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি হেলেন জেরিন খানসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত হন রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে। দুপুরে গোটা জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। স্মরণকালের বিশাল এ সমাবেশে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও হাজারো সাধারণ মানুষ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তৃতা শুনতে সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছিলেন।