ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামেলি কার্ড চলবে না : ডা. শফিকুর রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, একদিকে গায়ে হাত অন্যদিকে ফ্যামেলি কার্ড, এ দুটো এক সাথে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবেন তা সহজে বোঝা যাচ্ছে। গতকাল সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

জনসভায় প্রধান অতিথি নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে এসব দাবি বাস্তবায়নকে জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটি কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; বরং জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দেয়ার সুযোগ। পরিবার কেন্দ্রিক বা গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণ কেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। ভোটকে গণভোটের সঙ্গে তুলনা করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াকে মুক্তির পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন ডা. শফিকুর রহমান।

নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদেরই নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটে-যা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন কখনোই নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে যুবসমাজকে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও সংঘাতে না জড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

যশোরবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য।
বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের, বিশিষ্ট আইনজীবী ও যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী, জনাব মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল আবু জাফর সিদ্দিকী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার, খেলাফত মজলিস যশোর জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চল সংগঠক সাকিব শাহরিয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সেক্রেটারি, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

ক্ষমতায় গেলে সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্মান রক্ষা করা হবে : ডা. শফিকুর রহমান
মো. আকতারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা থেকে জানান, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ঘরে-বাইরে সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্মান রক্ষা করা হবে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, আপনি যদি সত্যিই মাকে সম্মান দেখাতে চান, তাহলে সকল মায়েদের সম্মান করতে হবে। যার বয়স এক বছর, তাকেও সম্মান করতে হবে। কারণ, সেও একদিন মা হবে। গতকাল সাতক্ষীরা গণমুখী মাঠে জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এ কথা বলেন।

একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মিথ্যাবাদীরা অনেক কিছুই বলতে পারে, করতে পারে। একদিকে মেয়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে আবার মায়েদের গায়ে হাতও তুলছে, এটি কেমন ফ্যামিলি কার্ড? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির। তিনি আরো বলেন, যারা আমাদের মা’কে সম্মান করতে পারে না, তারা গোটা জাতিকে সম্মান করতে পারে না। যারা নিজের মা’কে সম্মান করতে জানে না, তারা অন্য নারীকেও সম্মান করতে পারে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবনের চেয়ে মায়ের ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি, তাই যে কোনো মূল্যে মায়েদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব।

একজন আধুনিক পোশাক পরিহিত নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ওই আধুনিক পোশাকের নারী সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, একটি আদর্শিক দল হিসেবে তিনি জামায়াতকে পছন্দ করেন। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তিনি আধুনিক পোশাক ছেড়ে মার্জিত পোশাক পরিধান করবেন। ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে জীবন যাপন করবেন। ওই নারী মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মর্যাদা রক্ষার একটি দল।

জামায়াতের আমির বলেন, সারা বাংলাদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর সর্বোচ্চ জুলুম অত্যাচার হয়েছে। মা-বোনদের ধরে ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জেলে দেয়া হয়েছে। এরপরও আমরা নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছি। বিগত সরকারের আমলে সাতক্ষীরায় জামায়াতের ৪৮ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। ধরে নিয়ে হাতে-পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। মায়েদের বিধবা করে দিয়েছে। সন্তানেরা এতিম হয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। কারণ ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ।

তিনি বলেন, একটি দলের চান্দাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। অথচ আমাদের দলের কোনো নেতাকর্মী চন্দাবাজ, দখলবাজ বা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত নেই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসমস্ত চান্দাবাজ, দখলবাজদের হাত শক্ত করে ধরে ফেলা হবে। সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। বিদেশে টাকা পাচারকারীদের পেটে হাত ঢুকিয়ে লুট করা সম্পদ বের করে আনা হবে। যুবকদের বেকার ভাতা না দিয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোন শিক্ষিত চোরের হাত আপনাদের সম্পদ খেয়ে ফেলতে পারবে না। খেতে দেয়াও হবে না। এই দুঃখী বাংলাদেশের সম্পদ কিছু লোক, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, ২৮ লাখ কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে।
তিনি বলেন, এসমস্ত জনগণের সম্পদ লুটকারীদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোনো আপোষ নেই। এখানে আমরা আপোষহীন।

যেদিন জামাত শপথ নেবে সেদিন থেকে কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে না। কর্মজীবী, চাকরিজীবী সবাইকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ইনসাফের সাথে জামায়াত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকবে, অন্যায় অপরাধ দমন করা হবে।

নির্বাচনী জনসভায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা ১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, ২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, ৩ আসনের প্রার্থী হাফেজ রবিউল বাসার, ৪ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলামসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমতায় গেলে বন্ধ শিল্প কারখানা চালু হবে : জামায়াতের আমির
আবু হেনা মুক্তি, খুলনা থেকে জানান, খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিল্প নগরী খুলনা বিগত ৫৪ বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিগত সরকারের আমলে এক এক করে সব শিল্প কারখানায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় তালা ঝুলানো হয়েছে। বিগত মতিউর রহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন ওয়াদা করেছিলেন খুলনাঞ্চলের শিল্প কলকারখানায় আর একটিও তালা ঝুলাতে দেব না। আমার যতুটুকু যোগ্যতা আছে সবটুকু উজাড় করে বন্ধ, তালাবদ্ধ করাখানাগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা করবো। বাংলাদেশে তিনি তাই শুরু করেছিলেন, তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল তা সম্পন্ন করতে চায়। গতকাল বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। জনগণের ভোটের রায়ে যদি আমরা এদেশে সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে কথা দিচ্ছি শিল্প কারখানা বন্ধ নয়; বন্ধগুলো খোলার পাশাপাশি নতুন করে শিল্প কারখানা চালু করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের হাতে কাজ তুলে দেয়া হবে। মেয়েরা কাজ করবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার সাথে। আমরা কর্মক্ষেত্রে মামা খালুর কোনো হিসাব নিকাষ করবো না। আমরা ইসলামের ভিত্তিতে যার পাওনা তার হাতে তুলে দিব। চাকরি ক্ষেত্রে কোনো ধর্ম বর্ণ থাকবে না। আমরা দেখবো ঐ কাজের জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি কি-না। উপযুক্ত ব্যক্তিকে যথাস্থানে সম্মানের জায়গায় বসিয়ে দেয়া হবে।

জামায়াতের আমির জনসভায় আগত সবাইকে জনগণের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা প্রত্যেকটি নর নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্তু আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমার একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম কারো বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করবো না, আমাদের উপর জুলুমের প্রতিশোধ নেব না, আমরা কথা রেখেছি। তাই জামায়াতে ইসলামীর সাথে থাকলে সকল ধর্মের মানুষদের সম্পদ ও জানমাল নিরাপদে থাকবে বলে জানান জামায়াত আমির।

খুলনার বর্তমান বড় সমস্যা পানিবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুলনাবাসীর সঙ্গে বসে ডায়ালগ করা হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যদি সুযোগ পাই তাহলে নারীদের ইজ্জত রক্ষা করব সম্মানের সাথে ঘরে বাইরে বসবাসের সুযোগ করে দিব। পাঁচ বছর পর একজন সংসদ সদস্যের সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তারা জনগণের সম্পদের দিকে নজর দিবেন না। আপনারা সম্পদ লুট করে বেগম পাড়া ও সিঙ্গাপুর বানাবেন না।

তিনি আরো বলেন, বেকারদের বেকারভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই। বেকারদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নতুন বাংলাদেশের কারিগর তৈরি করার মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই। নতুন বাংলাদেশে তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় মায়ের মর্যাদা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা। বক্তব্য শেষে খুলনার ৬ আসনের ১১ দলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এসময় আমিরে জামায়াতের কাছে খুলনাবাসীর পক্ষে ৬টি দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবিগুলো হলো- বিলডাকাতিয়া, বিলবাদুড়িয়াসহ সব বিলের পানিবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা।
নির্বাচনী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।

এদিকে ফারুক মল্লিক, মেহেরপুর থেকে জানান, গত সোমবার মেহেরপুর হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটি সৎ ও নিষ্ঠার ন্যায় সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষদের মধ্যে সুস্বম বন্টন এবং নারীদের আত্মর্মযাদা প্রতিষ্ঠিত করবো ইন-শাআল্লাহ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে মেহেরপুর জেলা ২টি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের বিজয় পতাকা ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কেন্দ্রগুলো পাহারা দিবেন।

সভায় মেহেরপুর ১ আসনে প্রার্থী মো. তাজউদ্দিন খান ও গাংনী-২ আসনের প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা, এ ছাড়াও জামায়াত ইসলামের স্থানীয় নেতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামেলি কার্ড চলবে না : ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০৯:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, একদিকে গায়ে হাত অন্যদিকে ফ্যামেলি কার্ড, এ দুটো এক সাথে চলতে পারে না। যাদের হাতে মা বোনেরা এখনই নিরাপদ নয়, তারা ভবিষ্যতে কী করবেন তা সহজে বোঝা যাচ্ছে। গতকাল সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

জনসভায় প্রধান অতিথি নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে এসব দাবি বাস্তবায়নকে জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটি কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; বরং জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দেয়ার সুযোগ। পরিবার কেন্দ্রিক বা গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণ কেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। ভোটকে গণভোটের সঙ্গে তুলনা করে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াকে মুক্তির পথ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন ডা. শফিকুর রহমান।

নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদেরই নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটে-যা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন কখনোই নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে যুবসমাজকে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হলেও সংঘাতে না জড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

যশোরবাসীর প্রতি তিনি আহ্বান জানান, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য।
বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, অঞ্চল টিম সদস্য ড. আলমগীর বিশ্বাস, নড়াইল জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু, মাগুরা জেলা আমির এম বি বাকের, বিশিষ্ট আইনজীবী ও যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. গাজী এনামুল হক, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুক্তার আলী, জনাব মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল আবু জাফর সিদ্দিকী, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, শহীদ আব্দুল্লাহর পিতা আব্দুল জব্বার, খেলাফত মজলিস যশোর জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, এনসিপি দক্ষিণ অঞ্চল সংগঠক সাকিব শাহরিয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা সেক্রেটারি, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

ক্ষমতায় গেলে সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্মান রক্ষা করা হবে : ডা. শফিকুর রহমান
মো. আকতারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা থেকে জানান, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ঘরে-বাইরে সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্মান রক্ষা করা হবে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, আপনি যদি সত্যিই মাকে সম্মান দেখাতে চান, তাহলে সকল মায়েদের সম্মান করতে হবে। যার বয়স এক বছর, তাকেও সম্মান করতে হবে। কারণ, সেও একদিন মা হবে। গতকাল সাতক্ষীরা গণমুখী মাঠে জামায়াত ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এ কথা বলেন।

একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মিথ্যাবাদীরা অনেক কিছুই বলতে পারে, করতে পারে। একদিকে মেয়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে আবার মায়েদের গায়ে হাতও তুলছে, এটি কেমন ফ্যামিলি কার্ড? প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির। তিনি আরো বলেন, যারা আমাদের মা’কে সম্মান করতে পারে না, তারা গোটা জাতিকে সম্মান করতে পারে না। যারা নিজের মা’কে সম্মান করতে জানে না, তারা অন্য নারীকেও সম্মান করতে পারে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবনের চেয়ে মায়ের ইজ্জতের মূল্য অনেক বেশি, তাই যে কোনো মূল্যে মায়েদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব।

একজন আধুনিক পোশাক পরিহিত নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ওই আধুনিক পোশাকের নারী সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, একটি আদর্শিক দল হিসেবে তিনি জামায়াতকে পছন্দ করেন। জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তিনি আধুনিক পোশাক ছেড়ে মার্জিত পোশাক পরিধান করবেন। ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে জীবন যাপন করবেন। ওই নারী মনে করেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মর্যাদা রক্ষার একটি দল।

জামায়াতের আমির বলেন, সারা বাংলাদেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর সর্বোচ্চ জুলুম অত্যাচার হয়েছে। মা-বোনদের ধরে ধরে নির্যাতন চালানো হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জেলে দেয়া হয়েছে। এরপরও আমরা নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছি। বিগত সরকারের আমলে সাতক্ষীরায় জামায়াতের ৪৮ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। ধরে নিয়ে হাতে-পায়ে গুলি করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। মায়েদের বিধবা করে দিয়েছে। সন্তানেরা এতিম হয়েছে। কিন্তু আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। কারণ ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ।

তিনি বলেন, একটি দলের চান্দাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। অথচ আমাদের দলের কোনো নেতাকর্মী চন্দাবাজ, দখলবাজ বা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত নেই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এসমস্ত চান্দাবাজ, দখলবাজদের হাত শক্ত করে ধরে ফেলা হবে। সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। বিদেশে টাকা পাচারকারীদের পেটে হাত ঢুকিয়ে লুট করা সম্পদ বের করে আনা হবে। যুবকদের বেকার ভাতা না দিয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোন শিক্ষিত চোরের হাত আপনাদের সম্পদ খেয়ে ফেলতে পারবে না। খেতে দেয়াও হবে না। এই দুঃখী বাংলাদেশের সম্পদ কিছু লোক, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, ২৮ লাখ কোটি টাকা তারা বিদেশে পাচার করেছে।
তিনি বলেন, এসমস্ত জনগণের সম্পদ লুটকারীদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোনো আপোষ নেই। এখানে আমরা আপোষহীন।

যেদিন জামাত শপথ নেবে সেদিন থেকে কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে না। কর্মজীবী, চাকরিজীবী সবাইকে তার ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ইনসাফের সাথে জামায়াত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব থাকবে, অন্যায় অপরাধ দমন করা হবে।

নির্বাচনী জনসভায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা ১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, ২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, ৩ আসনের প্রার্থী হাফেজ রবিউল বাসার, ৪ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলামসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমতায় গেলে বন্ধ শিল্প কারখানা চালু হবে : জামায়াতের আমির
আবু হেনা মুক্তি, খুলনা থেকে জানান, খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিল্প নগরী খুলনা বিগত ৫৪ বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিগত সরকারের আমলে এক এক করে সব শিল্প কারখানায় সরকারী ব্যবস্থাপনায় তালা ঝুলানো হয়েছে। বিগত মতিউর রহমান নিজামী শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন ওয়াদা করেছিলেন খুলনাঞ্চলের শিল্প কলকারখানায় আর একটিও তালা ঝুলাতে দেব না। আমার যতুটুকু যোগ্যতা আছে সবটুকু উজাড় করে বন্ধ, তালাবদ্ধ করাখানাগুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা করবো। বাংলাদেশে তিনি তাই শুরু করেছিলেন, তার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ এখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল তা সম্পন্ন করতে চায়। গতকাল বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার কারণে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। জনগণের ভোটের রায়ে যদি আমরা এদেশে সেবা করার সুযোগ পাই তাহলে কথা দিচ্ছি শিল্প কারখানা বন্ধ নয়; বন্ধগুলো খোলার পাশাপাশি নতুন করে শিল্প কারখানা চালু করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানদের হাতে কাজ তুলে দেয়া হবে। মেয়েরা কাজ করবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার সাথে। আমরা কর্মক্ষেত্রে মামা খালুর কোনো হিসাব নিকাষ করবো না। আমরা ইসলামের ভিত্তিতে যার পাওনা তার হাতে তুলে দিব। চাকরি ক্ষেত্রে কোনো ধর্ম বর্ণ থাকবে না। আমরা দেখবো ঐ কাজের জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি কি-না। উপযুক্ত ব্যক্তিকে যথাস্থানে সম্মানের জায়গায় বসিয়ে দেয়া হবে।

জামায়াতের আমির জনসভায় আগত সবাইকে জনগণের ভোটের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা প্রত্যেকটি নর নারীর ভোটের অধিকারের পাহারাদার হবেন। ভোট যার যেখানে ইচ্ছা সেখানে দেবে। কিন্তু আমরা বাক্স পর্যন্ত ভোটারকে পৌঁছে দিতে চাই। ১৩ ফেব্রুয়ারি আমার একটি অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম কারো বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করবো না, আমাদের উপর জুলুমের প্রতিশোধ নেব না, আমরা কথা রেখেছি। তাই জামায়াতে ইসলামীর সাথে থাকলে সকল ধর্মের মানুষদের সম্পদ ও জানমাল নিরাপদে থাকবে বলে জানান জামায়াত আমির।

খুলনার বর্তমান বড় সমস্যা পানিবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুলনাবাসীর সঙ্গে বসে ডায়ালগ করা হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি নারীদের উদ্দেশে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যদি সুযোগ পাই তাহলে নারীদের ইজ্জত রক্ষা করব সম্মানের সাথে ঘরে বাইরে বসবাসের সুযোগ করে দিব। পাঁচ বছর পর একজন সংসদ সদস্যের সম্পদের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন তারা জনগণের সম্পদের দিকে নজর দিবেন না। আপনারা সম্পদ লুট করে বেগম পাড়া ও সিঙ্গাপুর বানাবেন না।

তিনি আরো বলেন, বেকারদের বেকারভাতা তুলে দিয়ে অপমান করতে চাই না। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করতে চাই। বেকারদের কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে নতুন বাংলাদেশের কারিগর তৈরি করার মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করতে চাই। নতুন বাংলাদেশে তাদের জন্য দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হবে বাড়িতে ও কর্মক্ষেত্রসহ সব জায়গায় মায়ের মর্যাদা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা। বক্তব্য শেষে খুলনার ৬ আসনের ১১ দলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন তিনি।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এসময় আমিরে জামায়াতের কাছে খুলনাবাসীর পক্ষে ৬টি দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবিগুলো হলো- বিলডাকাতিয়া, বিলবাদুড়িয়াসহ সব বিলের পানিবদ্ধতা দূরীকরণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল আধুনিকায়ন, বন্ধ মিল চালু, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ, আধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প হিসেবে গড়ে তোলা।
নির্বাচনী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।

এদিকে ফারুক মল্লিক, মেহেরপুর থেকে জানান, গত সোমবার মেহেরপুর হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা একটি সৎ ও নিষ্ঠার ন্যায় সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষদের মধ্যে সুস্বম বন্টন এবং নারীদের আত্মর্মযাদা প্রতিষ্ঠিত করবো ইন-শাআল্লাহ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে মেহেরপুর জেলা ২টি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের বিজয় পতাকা ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কেন্দ্রগুলো পাহারা দিবেন।

সভায় মেহেরপুর ১ আসনে প্রার্থী মো. তাজউদ্দিন খান ও গাংনী-২ আসনের প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা, এ ছাড়াও জামায়াত ইসলামের স্থানীয় নেতাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।