ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে মূল লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যেই। দলীয় কোন্দল, জোটের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য এবং প্রভাবশালী নেতাদের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ দিন দিন নতুন মোড় নিচ্ছে।
বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অন্যদিকে, ২০১৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু ‘মোরগ’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
নির্বাচনের শুরুতে মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রেজাউল করিম খান চুন্নুর পক্ষে জেলা বিএনপির একাধিক প্রভাবশালী নেতা একাট্টা হয়ে আন্দোলনে নামলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী, রুহুল হোসাইন ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের মতো নেতারা বর্তমানে চুন্নুর অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর চুন্নু কার্যত একা হয়ে পড়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তাঁর পুরোনো মিত্রদের কেউ এখন নিষ্ক্রিয়, আবার কেউ সরাসরি ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
এদিকে, এই আসনে জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও জোটের অভ্যন্তরীণ অনৈক্যের কারণে সেই শক্তির কার্যকর ব্যবহার হচ্ছে না। জোটের সমঝোতার অংশ হিসেবে জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মো. মোছাদ্দেক ভূঞা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও জোটের অপর দুই শরিক মাঠ ছাড়েননি। খেলাফত মজলিসের আহমদ উল্লাহ (দেওয়াল ঘড়ি) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হোদায়েতুল্লাহ হাদী (রিকশা) উভয়েই নির্বাচনে বহাল রয়েছেন।
জোটের দুই শরিকের এই দ্বন্দ্বের ফলে জামায়াত কোনো পক্ষকেই সরাসরি সমর্থন দিচ্ছে না। এতে করে জোটের নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন গতি নেই। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হোদায়েতুল্লাহ হাদী স্বীকার করেন, জোটের দুই প্রার্থী থাকায় জামায়াত নীরব অবস্থানে রয়েছে, ফলে তাদের প্রচারণা দুর্বল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘দুই প্রার্থীর কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। জামায়াত একক প্রার্থী রাখার চেষ্টা করছে।’
নির্বাচনে কার পক্ষে কাজ করছেন—এমন প্রশ্নে সাবেক এমপি মাসুদ হিলালী জানান, তিনি আপাতত নীরব রয়েছেন। তবে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল স্পষ্ট করে বলেন, দল বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকায় রেজাউল করিম খান চুন্নুর পক্ষে কাজ করার সুযোগ নেই।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল মিয়াসহ সদর ও হোসেনপুর উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছেন। হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিনও প্রকাশ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলের সমর্থকরা এখন আমার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। হোসেনপুর উপজেলা বিএনপি ও তৃণমূলের বড় অংশ ধানের শীষের পক্ষেই রয়েছে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Reporter Name 
























