ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যা জানালেন সেনাপ্রধান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচনের নিরাপত্তা ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে সর্বমোট তিন হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল।

সেনাপ্রধান আরও জানান, কঠোর অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে দুই হাজার ২৫৯টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে লুট হওয়া গোলাবারুদের হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন থানা থেকে মোট চার লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। ইতোমধ্যে দুই লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে, যা মোট পরিমাণের ৫২ শতাংশ। অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৈঠকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনী পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো সামনের দিনগুলোতে যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে জাতিকে একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

সভায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানান, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে যেন কোনোরূপ ঘাটতি না থাকে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, র‍্যাব, কোস্টগার্ড এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন সামনে রেখে আজ মধ্যরাত থেকেই প্রচার শুরু হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যা জানালেন সেনাপ্রধান

আপডেট টাইম : ১০:২০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচনের নিরাপত্তা ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানকালীন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে সর্বমোট তিন হাজার ৬১৯টি অস্ত্র লুট হয়েছিল।

সেনাপ্রধান আরও জানান, কঠোর অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে দুই হাজার ২৫৯টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট লুট হওয়া অস্ত্রের ৬২ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে লুট হওয়া গোলাবারুদের হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন থানা থেকে মোট চার লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়েছিল। ইতোমধ্যে দুই লাখ ৩৭ হাজার ১০০ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে, যা মোট পরিমাণের ৫২ শতাংশ। অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বৈঠকে আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনী পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো সামনের দিনগুলোতে যথাযথভাবে কার্যকর করা গেলে জাতিকে একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।

সভায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) জানান, প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে যেন কোনোরূপ ঘাটতি না থাকে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীরা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবি, র‍্যাব, কোস্টগার্ড এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন সামনে রেখে আজ মধ্যরাত থেকেই প্রচার শুরু হচ্ছে।