ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীত এলেই গাছের ডাকে সাড়া কৈশোর থেকে খেজুরের রস সংগ্রহে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭ বার

শীতের সকাল মানেই কুয়াশাভেজা গ্রামবাংলা আর খেজুরের মিষ্টি রসের স্বাদ। শীত এলেই জীবিকার তাগিদে গাছে গাছে উঠে পড়েন গাছিরা। চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে আল আমিন (২২) তাদেরই একজন। কৈশোর বয়স থেকেই খেজুরের রস সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত আল আমিন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে এই পেশায় নামেন তিনি। বর্তমানে প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিতভাবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে আসছেন।

আল আমিন জানান, তার পিতাও দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বাবার কাছ থেকেই দড়ি বাঁধা, হাঁড়ি লাগানো এবং রস সংগ্রহের সব কৌশল শিখেছেন তিনি। স্থানীয় গাছিরা জানান, শীত যত বাড়ে খেজুর গাছ থেকে রস পড়ার পরিমাণ তত বাড়ে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার রাতে রসের ফলন বেশি হয়।

গত ১৫ দিন আগে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র থাকাকালে রস সংগ্রহের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। শীতের শেষ পর্যায়েও এখনো নিয়মিত রস পাওয়া যাচ্ছে। আল আমিন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লিটার পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

লিটারপ্রতি রস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। শুধু চুনারুঘাট নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমে অনেক গাছি এসে এখানকার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। চুনারুঘাট পৌরশহরের থানা রোড সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় একটি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় আল আমিনকে। শীতকালীন এই মৌসুমি পেশাই তার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস।

আল আমিন বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর বয়স থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করছি। আমার বাবাও ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করেন। শীত এলেই আমাদের কাজ শুরু হয়। কুয়াশা বেশি থাকলে রসও বেশি পড়ে। এই রস বিক্রির টাকাতেই সংসারের অনেক খরচ চলে। যতদিন রস পাওয়া যায়, ততদিন কাজ চালিয়ে যাই।

খেজুরের রস শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়- এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ভিড়েও আল আমিনদের মতো তরুণদের হাত ধরেই আজও টিকে আছে শীতের এই চিরচেনা স্বাদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

শীত এলেই গাছের ডাকে সাড়া কৈশোর থেকে খেজুরের রস সংগ্রহে

আপডেট টাইম : ১২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের সকাল মানেই কুয়াশাভেজা গ্রামবাংলা আর খেজুরের মিষ্টি রসের স্বাদ। শীত এলেই জীবিকার তাগিদে গাছে গাছে উঠে পড়েন গাছিরা। চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে আল আমিন (২২) তাদেরই একজন। কৈশোর বয়স থেকেই খেজুরের রস সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত আল আমিন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে এই পেশায় নামেন তিনি। বর্তমানে প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিতভাবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে আসছেন।

আল আমিন জানান, তার পিতাও দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বাবার কাছ থেকেই দড়ি বাঁধা, হাঁড়ি লাগানো এবং রস সংগ্রহের সব কৌশল শিখেছেন তিনি। স্থানীয় গাছিরা জানান, শীত যত বাড়ে খেজুর গাছ থেকে রস পড়ার পরিমাণ তত বাড়ে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার রাতে রসের ফলন বেশি হয়।

গত ১৫ দিন আগে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র থাকাকালে রস সংগ্রহের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। শীতের শেষ পর্যায়েও এখনো নিয়মিত রস পাওয়া যাচ্ছে। আল আমিন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লিটার পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

লিটারপ্রতি রস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। শুধু চুনারুঘাট নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমে অনেক গাছি এসে এখানকার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। চুনারুঘাট পৌরশহরের থানা রোড সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় একটি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় আল আমিনকে। শীতকালীন এই মৌসুমি পেশাই তার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস।

আল আমিন বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর বয়স থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করছি। আমার বাবাও ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করেন। শীত এলেই আমাদের কাজ শুরু হয়। কুয়াশা বেশি থাকলে রসও বেশি পড়ে। এই রস বিক্রির টাকাতেই সংসারের অনেক খরচ চলে। যতদিন রস পাওয়া যায়, ততদিন কাজ চালিয়ে যাই।

খেজুরের রস শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়- এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ভিড়েও আল আমিনদের মতো তরুণদের হাত ধরেই আজও টিকে আছে শীতের এই চিরচেনা স্বাদ।