ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

শীত এলেই গাছের ডাকে সাড়া কৈশোর থেকে খেজুরের রস সংগ্রহে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০০ বার

শীতের সকাল মানেই কুয়াশাভেজা গ্রামবাংলা আর খেজুরের মিষ্টি রসের স্বাদ। শীত এলেই জীবিকার তাগিদে গাছে গাছে উঠে পড়েন গাছিরা। চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে আল আমিন (২২) তাদেরই একজন। কৈশোর বয়স থেকেই খেজুরের রস সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত আল আমিন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে এই পেশায় নামেন তিনি। বর্তমানে প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিতভাবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে আসছেন।

আল আমিন জানান, তার পিতাও দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বাবার কাছ থেকেই দড়ি বাঁধা, হাঁড়ি লাগানো এবং রস সংগ্রহের সব কৌশল শিখেছেন তিনি। স্থানীয় গাছিরা জানান, শীত যত বাড়ে খেজুর গাছ থেকে রস পড়ার পরিমাণ তত বাড়ে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার রাতে রসের ফলন বেশি হয়।

গত ১৫ দিন আগে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র থাকাকালে রস সংগ্রহের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। শীতের শেষ পর্যায়েও এখনো নিয়মিত রস পাওয়া যাচ্ছে। আল আমিন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লিটার পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

লিটারপ্রতি রস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। শুধু চুনারুঘাট নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমে অনেক গাছি এসে এখানকার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। চুনারুঘাট পৌরশহরের থানা রোড সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় একটি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় আল আমিনকে। শীতকালীন এই মৌসুমি পেশাই তার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস।

আল আমিন বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর বয়স থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করছি। আমার বাবাও ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করেন। শীত এলেই আমাদের কাজ শুরু হয়। কুয়াশা বেশি থাকলে রসও বেশি পড়ে। এই রস বিক্রির টাকাতেই সংসারের অনেক খরচ চলে। যতদিন রস পাওয়া যায়, ততদিন কাজ চালিয়ে যাই।

খেজুরের রস শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়- এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ভিড়েও আল আমিনদের মতো তরুণদের হাত ধরেই আজও টিকে আছে শীতের এই চিরচেনা স্বাদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

শীত এলেই গাছের ডাকে সাড়া কৈশোর থেকে খেজুরের রস সংগ্রহে

আপডেট টাইম : ১২:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের সকাল মানেই কুয়াশাভেজা গ্রামবাংলা আর খেজুরের মিষ্টি রসের স্বাদ। শীত এলেই জীবিকার তাগিদে গাছে গাছে উঠে পড়েন গাছিরা। চুনারুঘাট পৌরসভার হাতুন্ডা এলাকার আব্দুর রউফের ছেলে আল আমিন (২২) তাদেরই একজন। কৈশোর বয়স থেকেই খেজুরের রস সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত আল আমিন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে এই পেশায় নামেন তিনি। বর্তমানে প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিতভাবে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে আসছেন।

আল আমিন জানান, তার পিতাও দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বাবার কাছ থেকেই দড়ি বাঁধা, হাঁড়ি লাগানো এবং রস সংগ্রহের সব কৌশল শিখেছেন তিনি। স্থানীয় গাছিরা জানান, শীত যত বাড়ে খেজুর গাছ থেকে রস পড়ার পরিমাণ তত বাড়ে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার রাতে রসের ফলন বেশি হয়।

গত ১৫ দিন আগে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র থাকাকালে রস সংগ্রহের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। শীতের শেষ পর্যায়েও এখনো নিয়মিত রস পাওয়া যাচ্ছে। আল আমিন বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লিটার পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারেন তিনি।

লিটারপ্রতি রস বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। শুধু চুনারুঘাট নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মৌসুমে অনেক গাছি এসে এখানকার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। চুনারুঘাট পৌরশহরের থানা রোড সংলগ্ন হাসপাতাল এলাকায় একটি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় আল আমিনকে। শীতকালীন এই মৌসুমি পেশাই তার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস।

আল আমিন বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর বয়স থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করছি। আমার বাবাও ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করেন। শীত এলেই আমাদের কাজ শুরু হয়। কুয়াশা বেশি থাকলে রসও বেশি পড়ে। এই রস বিক্রির টাকাতেই সংসারের অনেক খরচ চলে। যতদিন রস পাওয়া যায়, ততদিন কাজ চালিয়ে যাই।

খেজুরের রস শুধু একটি খাদ্যপণ্য নয়- এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ভিড়েও আল আমিনদের মতো তরুণদের হাত ধরেই আজও টিকে আছে শীতের এই চিরচেনা স্বাদ।