ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টানা শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৬ বার
পৌষের শেষ ভাগে এসে দেশের উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে মাঘের সেই প্রবাদ প্রতিম ‘বাঘ কাঁপানো’ শীত। রাত বাড়লেই চারপাশ যেন পরিণত হচ্ছে বরফে। টানা ৯ দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ ১০ ডিগ্রির নিচেই অবস্থান করছে। ফলে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্তঘেঁষা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারী) ভোরে পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরেই ৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রার পারদ। এর আগে গত শুক্রবার এই মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
সকালে পূবালী সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের দাপটে রোদের উষ্ণতা যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। পেটের তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই পাথর ও চা শ্রমিকদের নামতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। তবে সব থেকে বেশি কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ আলী জানান, ঠান্ডায় হাত-পা সব অবশ হয়ে আসে। রাতে মনে হয় তাপমাত্রা শূন্যের কোথায় নেমে গেছে। টিনের চালে শিশির পড়ার শব্দ শুনলে মনে হয় বৃষ্টি পড়ছে। কিন্তু কাজ না করলে তো পেট চলবে না, তাই এই বরফ জলেই নামতে হয়েছে।
শীতের এই কামড়ে ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগবালাই। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে সব থেকে বেশি। চিকিৎসকরা এই সময়ে সবাইকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, পঞ্চগড়ে গত ৯ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেই আছে। তাপমাত্রার এই ওঠানামা এবং শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে পঞ্চগড়ের জনপদ এখন জবুথবু। এই হাড়কাঁপানো শীত মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সহায়তার দাবি জানিয়েছেন দুর্গত মানুষেরা।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

টানা শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড়

আপডেট টাইম : ১০:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
পৌষের শেষ ভাগে এসে দেশের উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে মাঘের সেই প্রবাদ প্রতিম ‘বাঘ কাঁপানো’ শীত। রাত বাড়লেই চারপাশ যেন পরিণত হচ্ছে বরফে। টানা ৯ দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ ১০ ডিগ্রির নিচেই অবস্থান করছে। ফলে হাড়কাঁপানো শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সীমান্তঘেঁষা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারী) ভোরে পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরেই ৮ ডিগ্রির আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে তাপমাত্রার পারদ। এর আগে গত শুক্রবার এই মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
সকালে পূবালী সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসের দাপটে রোদের উষ্ণতা যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। পেটের তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই পাথর ও চা শ্রমিকদের নামতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। তবে সব থেকে বেশি কষ্টে আছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ আলী জানান, ঠান্ডায় হাত-পা সব অবশ হয়ে আসে। রাতে মনে হয় তাপমাত্রা শূন্যের কোথায় নেমে গেছে। টিনের চালে শিশির পড়ার শব্দ শুনলে মনে হয় বৃষ্টি পড়ছে। কিন্তু কাজ না করলে তো পেট চলবে না, তাই এই বরফ জলেই নামতে হয়েছে।
শীতের এই কামড়ে ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগবালাই। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে সব থেকে বেশি। চিকিৎসকরা এই সময়ে সবাইকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়ার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ জানান, পঞ্চগড়ে গত ৯ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচেই আছে। তাপমাত্রার এই ওঠানামা এবং শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে পঞ্চগড়ের জনপদ এখন জবুথবু। এই হাড়কাঁপানো শীত মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র সহায়তার দাবি জানিয়েছেন দুর্গত মানুষেরা।