গেল বছর ইউটিউবে প্রায় ৩০০ নাটক প্রযোজনা করেছেন আলি বাসীর। প্রযোজনার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এই প্রযোজক বলেন, ‘গেল বছরের ধাক্কায় নাটকের ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু এখনও ঘুরে দাঁড়ায়নি, আমাদের ব্যবসার বড় একটা অংশ কিন্তু আসে স্পন্সরের মাধ্যমে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ব্যবসায়ীদের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে, আমরা লগ্নিকারক পাচ্ছি না।’ নাটকের সামগ্রিক অবস্থার অবনতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী’ সংকটের কথা জানিয়েছেন আলি বাসীর। ‘গত দুই বছর ধরে নাটকের অবস্থার একটা অবনতি হয়েছে, তার কারণ আমাদের প্রধান যেসব অভিনয়শিল্পী ছিল, অর্থাৎ যাদের বড় একটা দর্শকশ্রেণি ছিল, যেমন- জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, মেহজাবীন চৌধুরী, সাবিলা নূর, তানজিন তিশাসহ অনেক শিল্পীই নাটক থেকে দূরে সরে গেছেন। এই কারণে নাটকের ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পী ক্রাইসিস চলছে।’
তবে বর্তমানে যারা নাটকে জনপ্রিয় তারা বলছেন নতুন বছরে তারা ভালো কাজের দিকেই নজর দেবেন বেশি। তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘নতুন বছরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পুরোনো ভুল নতুন করে করব না। আমরা মানুষ, মানুষ মাত্রই ভুল করে। আমার অভিনয়জীবন থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবনেও অনেক সময় অনেক ভুল করেছি। এই ভুলগুলো থেকে শিখেই আমি আজকের তৌসিফ মাহবুব, এতটুকু পর্যন্ত এসেছি; কিন্তু একই ভুল যদি আবার করি, সেটা মানুষকে সামনে এগোনো থেকে আটকে রাখে। আমার সামনের যাত্রাটা যেন আরও মসৃণ হয়, আমি যেভাবে চাই সেভাবেই যেন হয়। যে কারণে পুরনো ভুল আর করতে চাই না।’
ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান মনে করেন নাটকের মানও কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘ইউটিউব নাটকের বড় একটা দর্শকশ্রেণি গ্রামীণ, বিভিন্ন জেলাকেন্দ্রিক। তারা আবার কমেডি নাটক পছন্দ করেন। এই কমেডি তৈরি করতে গিয়ে নাটকের মান পড়ে গেছে। গল্পেরও ভিন্নতা কমে গেছে।’ নির্মাতা ভিকি জাহেদ চাচ্ছেন এই বছর এক্সপেরিমেন্টাল কাজ বেশি করতে। তিনি বলেন, ‘নির্মাতা হিসেবে আমি মনে করি, এক্সপেরিমেন্ট না করলে নির্মাতা হিসেবে উন্নতি করা সম্ভব না। উন্নতি করতে হলে জনরা, গল্প নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে। এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে আপনি সব সময় সফল হবেন-এমনও না। কিছু এক্সপেরিমেন্ট হয়তো মানুষ এখন পছন্দ করছে না, পাঁচ বছর পর ওই কনটেন্টটা দেখবে। নির্মাতা হিসেবে আপনার সে সাহসটা থাকতে হবে। ২০২৬ সালে এক্সপেরিমেন্ট করতে চাই। সেটা ওটিটির ক্ষেত্রে হোক, টিভির ক্ষেত্রে হোক বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে হোক। যেহেতু মানুষ আমাকে ভিন্নধর্মী জনরার জন্যই পছন্দ করে, সেই ধারাটা বজায় রাখার চেষ্টা করব।’
ভিন্ন চিন্তা করছেন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অভিনেত্রী হিমি। তিনি বলেন, ‘গত বছর অনেক বেশি কাজ করা হয়েছে। দর্শকের সঙ্গে অনেক বেশি কানেক্টেড ছিলাম; কিন্তু এর বিপরীতে নিজেকে, পরিবারকে বা আমার যেসব প্যাশন আছে, যেমন পেইন্টিং, বই পড়া- এগুলোতে সময় দেওয়া হয়নি। এ বছর এ জায়গাগুলোতে সময় দিতে চাই। আর গত বছরের শেষ থেকেই আমি কাজের পরিমাণ কমিয়েছি, এ বছরও ওভাবেই কাজ করব। যে কাজ ভালো লাগবে, সেগুলো করব আর শখের কাজগুলো করব।’ তাসনিয়া ফারিণ চাচ্ছেন গুছিয়ে কাজ করতে। তিনি বলেন, ‘গত বছর আমার প্রোডাকশন হাউস ফড়িং ফিল্মস খুলেছি। এই বছর প্রোডাকশন হাউস থেকে নিয়মিত কাজের পরিকল্পনা করেছি; সেটি হতে পারে গান, ফিকশন কিংবা ওটিটিসহ যে কোনো মাধ্যমের কাজ। এই বছর রোজার ঈদে আমার সিনেমা আসবে। এই বছর আরও গুছিয়ে, পরিকল্পনা করে কাজ করব।’
বর্তমান সময়ের বাংলা নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। তিনি বলেন, ‘এমন সব কাজে যুক্ত হতে চাই, যেন মানুষের মনে নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে পারি। আমার কিছু পরিকল্পনা আছে। বছরজুড়ে এমন কিছু কাজ করতে চাই, যেগুলো মানুষের মনে দাগ কাটবে। সেই পরিকল্পনায় এগোনোর চেষ্টা করব। কাজ দিয়ে দর্শকদের ভালোবাসা ধরে রাখতে চাই।’
Reporter Name 
























