ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে নওগাঁ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ বার

পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে শৈত্য প্রবাহ। ঘন কুয়াশা হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৮টার দিকে নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ১০০ শতাংশ।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা বলছেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেশ শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশার ঢেকে থাকে পথঘাট এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন নিয়ে গড়ে তুলেছে বিপর্যস্ত।’

সদর উপলোর ডাক্তারের মোড় এলাকার আহসান হাবিব বলেন, ‘দিনের বেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই গায়ে পড়তে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২/৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।’

বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সন্ধ্যা পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারণে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশা ছিলো। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।’

নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা জড়িত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে বেশ কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ সকাল ৮টার দিকে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় ২৪ ঘন্টায় ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি কমে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।’

এদিকে নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় গরিব ও দিনমজুর মানুষের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায় ছিন্নমুল দিনমজুর মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৬ লক্ষ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এতে জেলায় ১১ উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রান তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬শ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে নওগাঁ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রিতে

আপডেট টাইম : ১০:১৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে শৈত্য প্রবাহ। ঘন কুয়াশা হিমেল হাওয়ায় শীতের দাপট স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। কমছে তাপমাত্রাও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জনজীবন।

বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ৮টার দিকে নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, যা চলতি বছর নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ১০০ শতাংশ।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা বলছেন, ‘সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশার সঙ্গে বেশ শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশার ঢেকে থাকে পথঘাট এলাকা। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা কমে যায় ঠান্ডার অনুভূতি। আজ সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিলেছে। সূর্য উঠলেও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন নিয়ে গড়ে তুলেছে বিপর্যস্ত।’

সদর উপলোর ডাক্তারের মোড় এলাকার আহসান হাবিব বলেন, ‘দিনের বেলা রোদ থাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকে। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই গায়ে পড়তে হয় শীতের কাপড়। ঘুমোতে গেলে ২/৩ টা লেপ-কম্বল ছাড়া উপায় থাকে না।’

বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘সন্ধ্যা পর ঠান্ডা বাতাস ও শীতের কারণে রিকশা চালানো কষ্ট হয়ে যায়। আজ সূর্য উঠার আগ পর্যন্ত কুয়াশা ছিলো। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ভ্যান চালানোই কষ্ট। সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না।’

নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতলের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান, গত কয়েকদিন ধরে ঠান্ডা জড়িত রোগে শিশু, মধ্য বয়সী ও বয়স্ক মিলে বেশ কয়েক শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও টিওপিডি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে।

নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ সকাল ৮টার দিকে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকালের তুলনায় ২৪ ঘন্টায় ব্যবধানে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি কমে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।’

এদিকে নওগাঁয় শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় গরিব ও দিনমজুর মানুষের মধ্য শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় অসহায় ছিন্নমুল দিনমজুর মানুষের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৬ লক্ষ টাকা করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এতে জেলায় ১১ উপজেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ত্রান তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬শ পিস কম্বল জেলায় বরাদ্দ এসেছে। যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে ।