মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের জন্য আরো ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন কুয়ালালামপুর হাইকোর্ট।
এটি নাজিবের বিরুদ্ধে এ ধরনের কেলেঙ্কারি-সংক্রান্ত দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক রায়। মালয়েশিয়ার বহুল আলোচিত ১এমডিবি কেলেঙ্কারির সবচেয়ে বড় মামলা এটি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে রায় পড়ার পর বিচারপতি কলিন লরেন্স সেকুয়েরাহ এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীদের মতে, ২০০৯ সালে নাজিবের সহ-প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত তহবিল ১এমডিবি থেকে অন্তত ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়। এর মধ্যে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ৭২ বছর বয়সী নাজিবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা পড়ে বলে অভিযোগ। নাজিব ২০২২ সাল থেকেই ১এমডিবির আরেক মামলায় কারাবন্দি।
তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে বলে আসছিলেন, তাকে মালয়েশিয়ার সর্ববৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির জন্য বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।পাঁচ ঘণ্টা সময় ধরে দেওয়া এক রায়ের সময় হাইকোর্টের বিচারক কলিন লরেন্স সিকুয়েরাহ বলেন, ১এমডিবিতে অন্যদের দ্বারা বারবার প্রতারিত হওয়ার নাজিবের দাবি ‘কল্পনার জগতে চলে যাওয়ার শামিল’। এই রায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের শাসক জোটে আরো উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। যার মধ্যে একসময়ের প্রভাবশালী ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) দলও অন্তর্ভুক্ত, যার ওপর নাজিব জেল থেকেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ধরে রেখেছেন।
প্রতিটি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রতিটি অর্থপাচারের অভিযোগে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং তার বর্তমান সাজা শেষ হওয়ার পর ২০২৮ সাল থেকে শুরু হবে। আদালত নাজিবের বিরুদ্ধে ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা এবং ২ দশমিক ০৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত সম্পদ উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।
নাজিবের আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, সোমবার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে। দীর্ঘ এক দশকব্যাপী তদন্তের পর এই রায় দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, তদন্তে বহু আইনি এবং প্রযুক্তিগত বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কমিশনের প্রধান আজম বাকি বলেন, ‘এটি উদযাপনের মুহূর্ত নয়, বরং জাতির প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনের প্রতিফলন।’সূত্র : রয়টার্স