ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজধানী থেকে ৩ ধাপে অটোরিকশা মুক্ত করার পরিকল্পনা পুলিশের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার
রাজধানীতে যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে এসব যানবাহনের চলাচলে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, প্রথম পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অন্যান্য প্রধান সড়ক এবং শেষ পর্যায়ে অলিগলিতেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প সড়ক সংযোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পনা তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ভিআইপি সড়কগুলো থেকে অবৈধ অটোরিকশা সরানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে চার্জিং পয়েন্টগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেষ ধাপে পুরো নগরজুড়ে অভিযান জোরদার করা হবে।
তবে সরাসরি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগে নগরজুড়ে অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে অভিযান চালাতে পারে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, অনেক গ্যারেজ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যানজট কমাতে রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বাচল থেকে বনশ্রী পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে, যা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হয়ে আফতাবনগরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ডিএমপি ও রাজউক যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।
পুলিশের জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪৩ লাখ শ্রমিক। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই প্রায় ৩০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করে এবং চালকের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। এ ছাড়া রাজধানীতে ২০ হাজারের বেশি গ্যারেজ এবং ১৬ হাজারের বেশি চার্জিং পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যার অনেকগুলোই বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ডিএমপির সাথে বৈঠক করেছেন। আমরা পরিকল্পনা তৈরি করেছি এবং সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছি। চার্জিং পয়েন্টগুলোকেও পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং এই যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষ নেবে না।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানী থেকে ৩ ধাপে অটোরিকশা মুক্ত করার পরিকল্পনা পুলিশের

আপডেট টাইম : ০৯:৪৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে এসব যানবাহনের চলাচলে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানান, প্রথম পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিআইপি সড়ক থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অন্যান্য প্রধান সড়ক এবং শেষ পর্যায়ে অলিগলিতেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প সড়ক সংযোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই পরিকল্পনা তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপে ভিআইপি সড়কগুলো থেকে অবৈধ অটোরিকশা সরানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে চার্জিং পয়েন্টগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেষ ধাপে পুরো নগরজুড়ে অভিযান জোরদার করা হবে।
তবে সরাসরি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগে নগরজুড়ে অটোরিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোতে অভিযান চালাতে পারে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, অনেক গ্যারেজ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যানজট কমাতে রাজধানীর প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বাচল থেকে বনশ্রী পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে, যা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হয়ে আফতাবনগরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ডিএমপির গুলশান বিভাগের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মিজানুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ডিএমপি ও রাজউক যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।
পুলিশের জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩৮ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪৩ লাখ শ্রমিক। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতেই প্রায় ৩০ লাখ অটোরিকশা চলাচল করে এবং চালকের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ। এ ছাড়া রাজধানীতে ২০ হাজারের বেশি গ্যারেজ এবং ১৬ হাজারের বেশি চার্জিং পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যার অনেকগুলোই বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে কর্তৃপক্ষ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও ডিএমপির সাথে বৈঠক করেছেন। আমরা পরিকল্পনা তৈরি করেছি এবং সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছি। চার্জিং পয়েন্টগুলোকেও পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং এই যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষ নেবে না।