ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ঢাকায় ছুটছে মানুষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১০ বার

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময়। দিনের হিসাবে ৬ হাজার ৩০৯ দিন। প্রিয় জন্মভূমি থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ এই সময়ে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে নিজে ছিলেন চিকিৎসাধীন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কারণে হারিয়েছেন প্রিয় ছোট ভাইকে, মাকে দেখেছেন কারাবন্দী হতে। দেখেছেন হাজার হাজার নেতাকর্মীর গুম-খুন, হামলা-মামলা। প্রতি মুহূর্তে সহ্য করেছেন জন্মভূমিতে ফিরতে না পারার অসহ্য যন্ত্রণা। কেঁদেছেন দেশের মা-মাটি ও মানুষের জন্য। দেশ ও দেশের মানুষও যেন তারেক রহমানের এই শূন্যতা অনুভব করেছে তীব্র থেকে তীব্রতরভাবে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানকে মাতৃভূমিতে ফিরে পেতে গুনছিলেন অপেক্ষার প্রহর। অবশেষে শেষ হতে চলেছে দীর্ঘ সেই প্রতীক্ষা। বছর, মাস, দিন পেরিয়ে এখন যেন ঘণ্টা গোনার পালা। রাত পোহালেই দেশের কোটি কোটি মানুষের সামনে উপস্থিত হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আপামর জনতার প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত দেশের সর্বস্তরের মানুষও। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে এবং প্রিয় নেতাকে এক পলক দেখার আশায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ঢাকায় ছুটে আসছেন লাখ লাখ মানুষ। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ব্যক্তিগত গাড়ি- যে যেভাবে পারছেন ছুটছেন ঢাকার দিকে। উদ্দেশ্য একটাই- তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া। স্মরণীয় এই দিনে নিজে অংশগ্রহণ করা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ঢাকায় এদিন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্র সৃষ্টি হবে।

সংবর্ধনায় উপস্থিতির ইতিহাস সৃষ্টি হবে এমনটা দাবি করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, ঢাকা মহানগরের সব ওয়ার্ড, থানা থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে বৃহস্পতিবার। জনসমুদ্রে পরিণত হবে ঢাকা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু বিএনপির নেতাই নন, তিনি এদেশের মা, মাটি মানুষের নেতা। তাকে স্বাগত জানাতে এদিন দল, মত নির্বিশেষে সকলেই ছুটে আসবেন।

তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চালাচ্ছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকায় সেদিন স্মরণকালের সর্বাধিক মানুষের সমাগম ঘটাতে চায় দলটি। শুধু দলের নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এদিন রাজধানী ঢাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলের নেতারা। তাদের প্রত্যাশা ইতিহাসের সর্বাধিক সংখ্যক লোকের জমায়েত হবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। জনসমুদ্রের এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারাদেশের নেতাকর্মীদের দেয়া হয়েছে দিকনির্দেশনা। রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো ছাড়াও সারাদেশের সব জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিএনপিসহ প্রতিটি অঙ্গসংগঠনই পৃথক পৃথক প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়াও দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সর্বোচ্চ জনসমাগম ও নিরাপত্তা এবং পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছেন নেতারা। নিñিদ্র নিরাপত্তার জন্য সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি দল থেকেও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর ৩০০ ফুটে গণসংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে মঞ্চ তৈরি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রাজধানীতে ৫০ লাখ লোকের সমাগম হবে। দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন তারা বাড়তি শক্তি দেখাতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় আসছেন। এছাড়া এদিন রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে তারেক রহমানকে দেখার জন্য এবং ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও উপস্থিত হবেন বলে আশা করছেন তারা

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বিরতির পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেদিন তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে রুহুল কবীর রিজভী আরও বলেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি দল থেকেও সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক।
তিনি জানান, দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমার নির্বাচনী আসন থেকেই আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ ঢাকায় যাচ্ছেন। ট্রেন, বাস ছাড়াও ব্যক্তিগাড়ি ভাড়া করে অনেকেই ঢাকায় যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও অনেকেই আছেন যারা কেবল তারেক রহমানকে এক পলক দেখার আশায় ঢাকায় যাচ্ছেন। এ ধরনের অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকায় যাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল ইসলাম বলেন, তাদের উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সংগঠনের নেতৃত্বে একত্রে ঢাকায় যাচ্ছেন। এছাড়া বাসে-ট্রেনেও অনেকেই নিজেদের মতো করে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ছুটে যাচ্ছেন।
এদিকে বিপুল সংখ্যক জনসমাগম হলেও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতি। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা স্থান এবং গুলশান পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে জনসমাগমের পাশাপাশি নিরাপত্তায় যেন কোন ঘাটতি না থাকে সে জন্য দলের নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটি অবতরণের কথা রয়েছে। এর আগে আজ ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি। ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে। তারেক রহমানের সঙ্গে একই বিমানে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান, মিডিয়া টিমের আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজনের আসার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এ ছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে এদিনের কর্মসূচি সফল করবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা স্থলে আসবেন এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করবে। এ ছাড়া দলের বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের সমন্বয়েও একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এ নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও বৈঠক করছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত তারেক রহমানকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে এলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাঁর নিরাপত্তায় কোথাও যেন কোনো ফাঁক না থাকে, এ বিষয়টি ভালোভাবে তদারকি করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তাঁর বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তাঁর ধারে কাছে ভিড়তে দেবে না পুলিশ। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন। এছাড়া তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন তাঁর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তাঁর বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমাদের প্রিয় অভিভাবক দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন এটি আমাদের জন্য অনেক কাক্সিক্ষত ও আনন্দের দিন। তারেক রহমানের এই ফেরাকে স্মরণীয় করতে ছাত্রদল ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে, এছাড়া বিভিন্ন টিমে ভাগ করে দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত হয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে যেভাবে সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকায় ছুটে আসছেন তাতে সেদিন উত্তরা, বিমানবন্দর, কুড়িল, বসুন্ধরা, বনানী, গুলশান ছাড়িয়ে জনস্রোত কতদূর ছড়িয়ে পড়বে তা কল্পনা করা যাচ্ছেনা। তিনি জানান, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবে।
১০ রুটে স্পেশাল ট্রেন : বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর সারাদেশের ১০টি রুটে চলবে স্পেশাল ট্রেন। কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, খুলনা থেকে রাজশাহী দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রেলওয়ে জানিয়েছে, এদিন স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হবে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি-২০২৫ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দেশে ফেরার প্রস্তুতি সেরেছেন তারেক রহমান : বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে টিকিট বুকিং করেছেন তারেক রহমান। ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। এই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরো পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকিট বুকিং দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমান। এ ছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজন আছেন।

২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন তারেক রহমান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ভোটার হবেন। গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘২৫ তারিখ হচ্ছে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ২৬ তারিখ। শনিবার ২৭ তারিখ। নির্বাচনকালীন এই সময় নির্বাচন কমিশনের অফিস সব খোলা থাকে। সেই দিনই এই ভোটার হওয়া ভোটার আইডি বা ন্যাশনাল আইডি হওয়া সংক্রান্ত যা কিছু আছে, তিনি এই ২৭ তারিখে করবেন।’

স্বাগত জানিয়ে মিছিল : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ সতের বছর পর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল। গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল)-এর বটতলা থেকে শুরু করে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্যভবনে গিয়ে শেষ হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বিএনপি’র নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কমিটি’র সদস্য ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন, ডাক্তার, ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিছিল-পূর্বক এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিজভী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ দেশ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তার আগমন উপলক্ষে সারা দেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ঢাকায় আসছেন।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার ছিল শেখ হাসিনারই সমর্থিত সরকার। সেই সরকারের সময় বিনা কারণে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়, নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের পর ওনাকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান “চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরে শেখ হাসিনার সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দেয়। ১৭ বছর ধরে তাকে তার পরিবার, দেশ ও মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তিনি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এমনকি ছোট ভাইয়ের লাশ ও জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি। এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জিয়া পরিবার বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবার। এই পরিবারই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন নির্ভীক সৈনিকের মতো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা কোনো চক্রান্ত বাদ দেয়নি।
তারেক রহমানের আগমন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে নেমে বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে ৩০০ ফিট এলাকায় উপস্থিত জনসমাগমের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি তার মাকে দেখে বাসায় ফিরবেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আমরা সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। সরকার আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন, ইনশাআল্লাহ।

তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করা যাবে না। তিনি তার মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ঢাকায় ছুটছে মানুষ

আপডেট টাইম : ০১:১৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময়। দিনের হিসাবে ৬ হাজার ৩০৯ দিন। প্রিয় জন্মভূমি থেকে ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ এই সময়ে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে নিজে ছিলেন চিকিৎসাধীন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কারণে হারিয়েছেন প্রিয় ছোট ভাইকে, মাকে দেখেছেন কারাবন্দী হতে। দেখেছেন হাজার হাজার নেতাকর্মীর গুম-খুন, হামলা-মামলা। প্রতি মুহূর্তে সহ্য করেছেন জন্মভূমিতে ফিরতে না পারার অসহ্য যন্ত্রণা। কেঁদেছেন দেশের মা-মাটি ও মানুষের জন্য। দেশ ও দেশের মানুষও যেন তারেক রহমানের এই শূন্যতা অনুভব করেছে তীব্র থেকে তীব্রতরভাবে। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানকে মাতৃভূমিতে ফিরে পেতে গুনছিলেন অপেক্ষার প্রহর। অবশেষে শেষ হতে চলেছে দীর্ঘ সেই প্রতীক্ষা। বছর, মাস, দিন পেরিয়ে এখন যেন ঘণ্টা গোনার পালা। রাত পোহালেই দেশের কোটি কোটি মানুষের সামনে উপস্থিত হবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আপামর জনতার প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত দেশের সর্বস্তরের মানুষও। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে এবং প্রিয় নেতাকে এক পলক দেখার আশায় দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ঢাকায় ছুটে আসছেন লাখ লাখ মানুষ। বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ব্যক্তিগত গাড়ি- যে যেভাবে পারছেন ছুটছেন ঢাকার দিকে। উদ্দেশ্য একটাই- তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়া। স্মরণীয় এই দিনে নিজে অংশগ্রহণ করা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ঢাকায় এদিন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্র সৃষ্টি হবে।

সংবর্ধনায় উপস্থিতির ইতিহাস সৃষ্টি হবে এমনটা দাবি করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, ঢাকা মহানগরের সব ওয়ার্ড, থানা থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে বৃহস্পতিবার। জনসমুদ্রে পরিণত হবে ঢাকা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শুধু বিএনপির নেতাই নন, তিনি এদেশের মা, মাটি মানুষের নেতা। তাকে স্বাগত জানাতে এদিন দল, মত নির্বিশেষে সকলেই ছুটে আসবেন।

তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চালাচ্ছে বিএনপি। রাজধানী ঢাকায় সেদিন স্মরণকালের সর্বাধিক মানুষের সমাগম ঘটাতে চায় দলটি। শুধু দলের নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এদিন রাজধানী ঢাকা জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলের নেতারা। তাদের প্রত্যাশা ইতিহাসের সর্বাধিক সংখ্যক লোকের জমায়েত হবে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে। জনসমুদ্রের এলক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারাদেশের নেতাকর্মীদের দেয়া হয়েছে দিকনির্দেশনা। রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলো ছাড়াও সারাদেশের সব জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিএনপিসহ প্রতিটি অঙ্গসংগঠনই পৃথক পৃথক প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়াও দেয়া হয়েছে। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সর্বোচ্চ জনসমাগম ও নিরাপত্তা এবং পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছেন নেতারা। নিñিদ্র নিরাপত্তার জন্য সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি দল থেকেও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর ৩০০ ফুটে গণসংবর্ধনা দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে মঞ্চ তৈরি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রাজধানীতে ৫০ লাখ লোকের সমাগম হবে। দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন তারা বাড়তি শক্তি দেখাতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকায় আসছেন। এছাড়া এদিন রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে তারেক রহমানকে দেখার জন্য এবং ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও উপস্থিত হবেন বলে আশা করছেন তারা

২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের বিরতির পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেদিন তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন হবে। অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার সংবর্ধনা মঞ্চের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে রুহুল কবীর রিজভী আরও বলেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি দল থেকেও সবরকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরকারও তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তরিক।
তিনি জানান, দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমার নির্বাচনী আসন থেকেই আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষ ঢাকায় যাচ্ছেন। ট্রেন, বাস ছাড়াও ব্যক্তিগাড়ি ভাড়া করে অনেকেই ঢাকায় যাচ্ছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও অনেকেই আছেন যারা কেবল তারেক রহমানকে এক পলক দেখার আশায় ঢাকায় যাচ্ছেন। এ ধরনের অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঢাকায় যাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুল ইসলাম বলেন, তাদের উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা নিজ নিজ সংগঠনের নেতৃত্বে একত্রে ঢাকায় যাচ্ছেন। এছাড়া বাসে-ট্রেনেও অনেকেই নিজেদের মতো করে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ছুটে যাচ্ছেন।
এদিকে বিপুল সংখ্যক জনসমাগম হলেও তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতি। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা স্থান এবং গুলশান পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে জনসমাগমের পাশাপাশি নিরাপত্তায় যেন কোন ঘাটতি না থাকে সে জন্য দলের নেতারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটি অবতরণের কথা রয়েছে। এর আগে আজ ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন তিনি। ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে। তারেক রহমানের সঙ্গে একই বিমানে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা জারনাজ রহমান, মিডিয়া টিমের আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজনের আসার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলের শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এ ছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে এদিনের কর্মসূচি সফল করবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফুটের গণসংবর্ধনা স্থলে আসবেন এবং সেখান থেকে পরবর্তীতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন।

বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম কাজ করবে। এ ছাড়া দলের বিশ্বস্ত নেতাকর্মীদের সমন্বয়েও একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এ নিয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও বৈঠক করছে। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত তারেক রহমানকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে এলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাঁর নিরাপত্তায় কোথাও যেন কোনো ফাঁক না থাকে, এ বিষয়টি ভালোভাবে তদারকি করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেশে ফেরার পর তারেক রহমান যাতায়াতের সময় পাবেন পুলিশি পাহারাসহ বিশেষ নিরাপত্তা। এ ছাড়া তাঁর বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তাঁর ধারে কাছে ভিড়তে দেবে না পুলিশ। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন। এছাড়া তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই দিন তাঁর নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তাঁর বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমাদের প্রিয় অভিভাবক দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন এটি আমাদের জন্য অনেক কাক্সিক্ষত ও আনন্দের দিন। তারেক রহমানের এই ফেরাকে স্মরণীয় করতে ছাত্রদল ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে, এছাড়া বিভিন্ন টিমে ভাগ করে দিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত হয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে যেভাবে সারাদেশ থেকে মানুষ ঢাকায় ছুটে আসছেন তাতে সেদিন উত্তরা, বিমানবন্দর, কুড়িল, বসুন্ধরা, বনানী, গুলশান ছাড়িয়ে জনস্রোত কতদূর ছড়িয়ে পড়বে তা কল্পনা করা যাচ্ছেনা। তিনি জানান, যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবে।
১০ রুটে স্পেশাল ট্রেন : বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর সারাদেশের ১০টি রুটে চলবে স্পেশাল ট্রেন। কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, খুলনা থেকে রাজশাহী দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী হচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রেলওয়ে জানিয়েছে, এদিন স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে আনুমানিক ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হবে। তবে নির্বাচনী আচরণবিধি-২০২৫ কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দেশে ফেরার প্রস্তুতি সেরেছেন তারেক রহমান : বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২০ ফ্লাইটে টিকিট বুকিং করেছেন তারেক রহমান। ফ্লাইটটি ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটি ২৫ ডিসেম্বর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। এই ফ্লাইটের বিজনেস ক্লাসে তারেক রহমানের পাশাপাশি আরো পাঁচ সফরসঙ্গীর টিকিট বুকিং দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমান। এ ছাড়া তারেক রহমানের মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, পারসনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আব্দুর রহমান সানি ও তাবাসসুম ফারহানা নামে আরেকজন আছেন।

২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন তারেক রহমান : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ভোটার হবেন। গত সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘২৫ তারিখ হচ্ছে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ২৬ তারিখ। শনিবার ২৭ তারিখ। নির্বাচনকালীন এই সময় নির্বাচন কমিশনের অফিস সব খোলা থাকে। সেই দিনই এই ভোটার হওয়া ভোটার আইডি বা ন্যাশনাল আইডি হওয়া সংক্রান্ত যা কিছু আছে, তিনি এই ২৭ তারিখে করবেন।’

স্বাগত জানিয়ে মিছিল : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ সতের বছর পর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে স্বাগত মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল। গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল)-এর বটতলা থেকে শুরু করে শাহবাগ মোড় হয়ে মৎস্যভবনে গিয়ে শেষ হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং বিএনপি’র নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কমিটি’র সদস্য ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠন, ডাক্তার, ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মিছিল-পূর্বক এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিজভী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজ দেশ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর তার আগমন উপলক্ষে সারা দেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে এক নজর দেখার জন্য ঢাকায় আসছেন।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালের মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার ছিল শেখ হাসিনারই সমর্থিত সরকার। সেই সরকারের সময় বিনা কারণে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়, নির্মম শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের পর ওনাকে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান “চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরে শেখ হাসিনার সরকার একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশে ফিরতে বাধা দেয়। ১৭ বছর ধরে তাকে তার পরিবার, দেশ ও মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তিনি তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এমনকি ছোট ভাইয়ের লাশ ও জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি। এসব ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, জিয়া পরিবার বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবার। এই পরিবারই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন নির্ভীক সৈনিকের মতো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। এই পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা কোনো চক্রান্ত বাদ দেয়নি।
তারেক রহমানের আগমন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে নেমে বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার পথে ৩০০ ফিট এলাকায় উপস্থিত জনসমাগমের উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি তার মাকে দেখে বাসায় ফিরবেন।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আমরা সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি। সরকার আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। দলীয়ভাবেও নেতাকর্মীরা তার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন, ইনশাআল্লাহ।

তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসমাগম যত বড়ই হোক, সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে হবে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানাবেন। কোনো বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা করা যাবে না। তিনি তার মাকে দেখে বাসায় পৌঁছানো পর্যন্ত সবাই শৃঙ্খলার সঙ্গে অবস্থান করবেন।