ঢাকা ০৪:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো দেশের শান্তি কামনা করেনি :মির্জা আব্বাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৪ বার

বাংলাদেশের যারা বিরোধিতা করেছিল তার দেশের ভালো চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, দেশের যারা ভালো চায় না, দেশকে ভালবাসে না, তারা দেখতে মানুষের মত কিন্তু মানুষরূপী শয়তান। এরা ৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, ৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিলো তারা দেশের শান্তি চায় না। তারা কিছুদিন চুপ থাকলেও আবার তাদের নখ ও বিষদাঁত বিকশিত হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম খুবই ধারাবাহিক।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র শহীদ জিয়ার হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যে গণতন্ত্র দেশনেত্রী খালেদা জিয়া লালন করেছেন আজকে সেই গণতন্ত্র সাথে নিয়ে আসছেন তারেক রহমান। তারেক রহমান আসছেন মানে গণতন্ত্র ফেরত আসছে। দেশের জনগণ আজ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সামনে অগণতান্ত্রিক শক্তি টিকে থাকতে পারে না। যারা ষড়যন্ত্র করছেন সাবধান হয়ে যান। প্রথম আলো-ডেইলী স্টারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হলো এরা কারা। এরা জাতির শত্রু। এদেরকে থামাতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা সরকারের সাথে সাক্ষাত করে একাধিকবার বলেছি আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমাদের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা না করে বরং দেশ বিরোধীদের সাথে চলছেন। যখন অগ্নি সন্ত্রাস চলছে, মব চলছে তখন কোথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী! উল্টো বিএনপিকে দোষারোপ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। বিএনপি এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করার সুযোগে অনেকে গণতন্ত্রের নামে তারা মব সৃষ্টি করে জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলছে। সরকারকে অবিলম্বে মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের রক্ষক, ভক্ষক নয়। আমরা হত্যা, মব ও গুমের রাজনীতি করি না। তার মানে এই নয় যে, আমরা হাত গুটিয়ে বসে বসে থাকবো। ২৪-এর অধিকার মানুষ রক্ত দিয়ে আদায় করেছে। সে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। দেশের সর্বত্র আজ অসহায়ত্বের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। শহীদ জিয়া যেভাবে বাকশাল ভেঙে গণতন্ত্র এনেছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যেভাবে জনগণের পাশে থেকেছেন, এবারও বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে। প্রয়োজনে যারা দেশকে যারা অস্থিতিশীল করবে তাদের প্রতিহত করা হবে।

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনে তাকে স্মরণীয় সংবর্ধনা দিতে বিএনপি প্রস্তুত। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতা-কর্মীদেরকে আমরা সংগঠিতভাবে বরণ করে নেব। এটি হবে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় সংবর্ধনা।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের’ জামিন ও তাদের চলাফেরার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে বিরোধী মত দমনে সহিংসতার রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ এখনও সরে আসেনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, সম্প্রতি হাদিকে হত্যা করেছে। রাজনৈতিক সাহস থাকলে তারা প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে মোকাবিলা করত। গোপন হামলা রাজনৈতিক দুর্বলতারই প্রমাণ। তবে একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকা- দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করে।

তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় ‘তৃতীয় পক্ষের’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যারা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে। এজন্য কেন্দ্রভিত্তিক শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা ও ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিএনপির এই প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া চান এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ৭ আসনের মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, ৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা ৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনম সাইফুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, আব্দুস সাত্তার, লিটন মাহমুদ, সাইদুর রহমান মিন্টু, মনির চেয়ারম্যান, মোশাররফ হোসেন খোকন প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনো দেশের শান্তি কামনা করেনি :মির্জা আব্বাস

আপডেট টাইম : ০১:১২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের যারা বিরোধিতা করেছিল তার দেশের ভালো চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, দেশের যারা ভালো চায় না, দেশকে ভালবাসে না, তারা দেখতে মানুষের মত কিন্তু মানুষরূপী শয়তান। এরা ৪৭ সালে পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, ৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিলো তারা দেশের শান্তি চায় না। তারা কিছুদিন চুপ থাকলেও আবার তাদের নখ ও বিষদাঁত বিকশিত হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম খুবই ধারাবাহিক।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র শহীদ জিয়ার হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যে গণতন্ত্র দেশনেত্রী খালেদা জিয়া লালন করেছেন আজকে সেই গণতন্ত্র সাথে নিয়ে আসছেন তারেক রহমান। তারেক রহমান আসছেন মানে গণতন্ত্র ফেরত আসছে। দেশের জনগণ আজ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সামনে অগণতান্ত্রিক শক্তি টিকে থাকতে পারে না। যারা ষড়যন্ত্র করছেন সাবধান হয়ে যান। প্রথম আলো-ডেইলী স্টারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হলো এরা কারা। এরা জাতির শত্রু। এদেরকে থামাতে হবে।

মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা সরকারের সাথে সাক্ষাত করে একাধিকবার বলেছি আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আমাদের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা না করে বরং দেশ বিরোধীদের সাথে চলছেন। যখন অগ্নি সন্ত্রাস চলছে, মব চলছে তখন কোথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী! উল্টো বিএনপিকে দোষারোপ করার অপচেষ্টা হচ্ছে। বিএনপি এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করার সুযোগে অনেকে গণতন্ত্রের নামে তারা মব সৃষ্টি করে জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলছে। সরকারকে অবিলম্বে মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের রক্ষক, ভক্ষক নয়। আমরা হত্যা, মব ও গুমের রাজনীতি করি না। তার মানে এই নয় যে, আমরা হাত গুটিয়ে বসে বসে থাকবো। ২৪-এর অধিকার মানুষ রক্ত দিয়ে আদায় করেছে। সে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। দেশের সর্বত্র আজ অসহায়ত্বের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। শহীদ জিয়া যেভাবে বাকশাল ভেঙে গণতন্ত্র এনেছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যেভাবে জনগণের পাশে থেকেছেন, এবারও বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে। প্রয়োজনে যারা দেশকে যারা অস্থিতিশীল করবে তাদের প্রতিহত করা হবে।

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনে তাকে স্মরণীয় সংবর্ধনা দিতে বিএনপি প্রস্তুত। তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতা-কর্মীদেরকে আমরা সংগঠিতভাবে বরণ করে নেব। এটি হবে ইতিহাসের একটি স্মরণীয় সংবর্ধনা।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের’ জামিন ও তাদের চলাফেরার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে বিরোধী মত দমনে সহিংসতার রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ এখনও সরে আসেনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, সম্প্রতি হাদিকে হত্যা করেছে। রাজনৈতিক সাহস থাকলে তারা প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্যে মোকাবিলা করত। গোপন হামলা রাজনৈতিক দুর্বলতারই প্রমাণ। তবে একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকা- দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করে।

তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় ‘তৃতীয় পক্ষের’ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যারা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জয়লাভের লক্ষ্য নিয়ে। এজন্য কেন্দ্রভিত্তিক শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা ও ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিএনপির এই প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া চান এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা ১০ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ৭ আসনের মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, ৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা ৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আনম সাইফুল ইসলাম, হারুনুর রশিদ, আব্দুস সাত্তার, লিটন মাহমুদ, সাইদুর রহমান মিন্টু, মনির চেয়ারম্যান, মোশাররফ হোসেন খোকন প্রমুখ।