ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ফেরাকে স্মরণীয় রাখার উদ্যোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৩৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৯০ বার

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দুপুর ১১ টা ৫৫ মিনিটে তার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই ফ্লাইটে তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরবেন তার কন্যা জাইমা রহমানও। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক আয়োজন, নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

এদিন প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশ থেকেই লাখ লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় উপস্থিত হবেন। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে রূপ দিতে সব প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই, তাঁর (তারেক রহমান) এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন যেন বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড হয়ে থাকে, কিংবা যা কিছু দৃষ্টান্ত হয়েছে, তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং আগামী ৫৫ বছরে ইতিহাসেও যেন সে রকম কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না হয়, সে রকম একটা স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আমাদের সব আয়োজন হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য বিমানবন্দর এলাকা ও এভারকেয়ার হাসপাতালের আশপাশে উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির গঠন করা অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল গতকাল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেবিচক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেল, তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সরেজমিন বিমানবন্দরে যেখানে তারেক রহমান অবতরণ করবেন, সে জায়গা, কোথা থেকে গাড়িতে উঠবেন এবং সব রাস্তা পরিদর্শন করেছি। যেখান থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, গুলশানের বাসায় যাবেন এসবই পরিদর্শন করেছি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের কষ্টের নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এ দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ এবং আগামী দিনে যিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন তাকে দেখার জন্য দেশের সমস্ত জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে আমরা গণতন্ত্রকে অবমুক্ত করতে পেরেছি। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামে সুদীর্ঘ ১৬-১৭ বছর তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তারেক রহমানকে ৩০০ ফিট নাকি অন্য কোথায় সংবর্ধনা দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, আমরা জায়গাগুলো দেখছি। যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাকে এক নজর দেখার জন্য ও কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সেটাও বিবেচনায় আছে। আমরা সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করছি, চূড়ান্তভাবে সিলেক্ট হলে তা জানানো হবে।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। দলীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের ফেরাকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে সম্ভব সব রকমের আয়োজনই করতে যাচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে সেদিন যাতে বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও গুলশান পর্যন্ত লাখ লাখ লোকের জমায়েত হয় সেলক্ষ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সারাদেশের নেতাকর্মীদের। এজন্য ইতোমধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই বৈঠক করছেন। ঢাকার নেতাকর্মীরা ছাড়াও সারাদেশ থেকে ওয়ার্ড-থানা পর্যায় থেকেও ঢাকায় নেতাকর্মীদের আনার উদ্যোগ নিচ্ছে দলটি। বিশেষ করে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো- গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অন্যান্য জেলার ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া দূরের জেলাগুলো থেকেও যাতে নেতাকর্মীরা নির্বিঘেœ ঢাকায় আসতে পারে সে লক্ষ্যে বাসের পাশাপাশি ৭টি রুটে স্পেশাল ট্রেন এবং বগি চেয়ে আবেদন করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র দিয়েছে দলটি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে সম্বর্ধনা জানাতে সারাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতার ঢাকায় আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বিভিন্ন রুটে রেলগাড়ি রিজার্ভ করার উদ্যোগ নিতে চায় বিএনপি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করা হবে বলেও আবেদনে জানানো হয়েছে।

রিজার্ভের জন্য প্রস্তাবিত রেলপথ রুটগুলো হলো- কক্সবাজার-ঢাকা, সিলেট-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা, পঞ্চগড়-নীলফামারী-পার্বতীপুর-ঢাকা, কুড়িগ্রাম-রংপুর-ঢাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের ফেরাকে স্মরণীয় রাখার উদ্যোগ

আপডেট টাইম : ১২:৩৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দুপুর ১১ টা ৫৫ মিনিটে তার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই ফ্লাইটে তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরবেন তার কন্যা জাইমা রহমানও। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক আয়োজন, নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

এদিন প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও সারাদেশ থেকেই লাখ লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় উপস্থিত হবেন। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনে রূপ দিতে সব প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা চাই, তাঁর (তারেক রহমান) এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন যেন বিগত ৫৫ বছরের ইতিহাসের রেকর্ড হয়ে থাকে, কিংবা যা কিছু দৃষ্টান্ত হয়েছে, তাকে ছাড়িয়ে যায় এবং আগামী ৫৫ বছরে ইতিহাসেও যেন সে রকম কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না হয়, সে রকম একটা স্মরণীয় করে রাখার জন্যই আমাদের সব আয়োজন হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এজন্য বিমানবন্দর এলাকা ও এভারকেয়ার হাসপাতালের আশপাশে উপযুক্ত স্থান খোঁজা হচ্ছে।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির গঠন করা অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল গতকাল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেবিচক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেল, তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সরেজমিন বিমানবন্দরে যেখানে তারেক রহমান অবতরণ করবেন, সে জায়গা, কোথা থেকে গাড়িতে উঠবেন এবং সব রাস্তা পরিদর্শন করেছি। যেখান থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন, গুলশানের বাসায় যাবেন এসবই পরিদর্শন করেছি।

দীর্ঘ ১৭ বছরের কষ্টের নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমান দেশে ফিরছেন উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এ দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ এবং আগামী দিনে যিনি বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন তাকে দেখার জন্য দেশের সমস্ত জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে আমরা গণতন্ত্রকে অবমুক্ত করতে পেরেছি। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামে সুদীর্ঘ ১৬-১৭ বছর তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তারেক রহমানকে ৩০০ ফিট নাকি অন্য কোথায় সংবর্ধনা দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এই বিএনপি নেতা বলেন, আমরা জায়গাগুলো দেখছি। যেহেতু বাংলাদেশের জনগণ তাকে এক নজর দেখার জন্য ও কথা শোনার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আমরা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সেটাও বিবেচনায় আছে। আমরা সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শন করছি, চূড়ান্তভাবে সিলেক্ট হলে তা জানানো হবে।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। দলীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমানের ফেরাকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে সম্ভব সব রকমের আয়োজনই করতে যাচ্ছে বিএনপি। বিশেষ করে সেদিন যাতে বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ও গুলশান পর্যন্ত লাখ লাখ লোকের জমায়েত হয় সেলক্ষ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সারাদেশের নেতাকর্মীদের। এজন্য ইতোমধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই বৈঠক করছেন। ঢাকার নেতাকর্মীরা ছাড়াও সারাদেশ থেকে ওয়ার্ড-থানা পর্যায় থেকেও ঢাকায় নেতাকর্মীদের আনার উদ্যোগ নিচ্ছে দলটি। বিশেষ করে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো- গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ অন্যান্য জেলার ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া দূরের জেলাগুলো থেকেও যাতে নেতাকর্মীরা নির্বিঘেœ ঢাকায় আসতে পারে সে লক্ষ্যে বাসের পাশাপাশি ৭টি রুটে স্পেশাল ট্রেন এবং বগি চেয়ে আবেদন করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র দিয়েছে দলটি। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে সম্বর্ধনা জানাতে সারাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতার ঢাকায় আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বিভিন্ন রুটে রেলগাড়ি রিজার্ভ করার উদ্যোগ নিতে চায় বিএনপি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করা হবে বলেও আবেদনে জানানো হয়েছে।

রিজার্ভের জন্য প্রস্তাবিত রেলপথ রুটগুলো হলো- কক্সবাজার-ঢাকা, সিলেট-ঢাকা, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা, টাঙ্গাইল-ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী-ঢাকা, পঞ্চগড়-নীলফামারী-পার্বতীপুর-ঢাকা, কুড়িগ্রাম-রংপুর-ঢাকা।