বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে নাম আসায় বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমকে বরখাস্ত ও গ্রেফতার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব ছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইজিপি বাহারুল আলমকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইজিপি বাহারুল আলমের নাম আসায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ। আইজিপি কে অপসারণের দাবিতে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিল। এরপর জাতীয় প্রেসক্লাব ও শাহবাগে বড় ধরনের সমাবেশ করা হয়। ওই সমাবেশেও আইজিপিকে গ্রেফতার এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি রয়েছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের।
অন্যদিকে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়ীদের তালিকায় নাম আসায় বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমকে বরখাস্ত করতে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শনিবার ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ চিঠি পাঠান।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তিন আইনজীবী হলেন—অ্যাডভোকেট মো. আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহিন হোসেন ও অ্যাডভোকেট মো. আতিকুর রহমান। লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে (আইজিপি বাহারুল আলম) অপসারণ করতে বলা হয়। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বুধবারের রিটকারী জানান, সম্প্রতি বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মতো স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে আইজিপি বাহারুল আলমের নাম এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই রিট করেছি।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি তৎকালীন এসবির দায়িত্বে ছিলেন। যেহেতু এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, সেহেতু এই অবস্থায় তাকে দায়িত্বে রাখলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হবে। এজন্য আমরা তাকে বরখাস্তের পাশাপাশি আইনের আওতায় আনতে গ্রেফতার চেয়ে রিটটি করেছি। প্রসঙ্গত, বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসেছে। স্পর্শকাতর ওই প্রতিবেদনে আইজিপির নাম আসার পর থেকেই প্রশাসনের ভেতরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে আইজিপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে সীমান্তরক্ষী এই বাহিনীর তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরণ আইনের মামলায় ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। আরও অন্তত ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। তবে ঘটনার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার দেড় দশক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সাত সদস্যের জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠন করে সরকার। তদন্ত কমিশন গত ৩০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে ১৪৬ নম্বর পয়েন্টে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তারা হলেন—তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার নাইম আহমেদ, তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি প্রধান) বাহারুল আলম, সাবেক (পলাতক) অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, বিডিআর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ এবং তার অধীনস্থ তদন্ত দল।
Reporter Name 

























