আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-১ (দাকোপ–বটিয়াঘাটা) আসনে প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনার ঝড়।
আ.লীগপন্থী ভাবমূর্তি—তারপরও জামায়াতের প্রার্থী:
দলটির একজন তৃণমূল নেতা হওয়া সত্ত্বেও কৃষ্ণ নন্দীকে হঠাৎ মনোনয়ন দেওয়ায় বিস্মিত স্থানীয় রাজনীতিকরা। তাদের প্রশ্ন—আওয়ামী লীগের সাবেক সফল মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ এই ব্যক্তিই বা কীভাবে স্থানীয় জনপ্রিয় জামায়াত নেতা শেখ আবু ইউসুফকে পেছনে ফেলে প্রার্থী হয়ে গেলেন?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা বহু ছবিতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সময়ে মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নানা কর্মসূচিতে নিয়মিতই দেখা মিলত কৃষ্ণ নন্দীর। অনেকেই তাই তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবেই চিনে আসছেন।
ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে থেকে রাজনীতির ময়দানে:
ডুমুরিয়ার চুকনগর গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ নন্দী মূলত ব্যবসায়ী পরিবার থেকে উঠে আসা। চুকনগর দিব্যপল্লী বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক মোটরসাইকেল শোরুম, রড–সিমেন্ট, তেল ও টিনের ব্যবসা সামলাতে থাকেন তিনি। তার বাবা ছিলেন মুসলিম লীগের নেতা খান এ সবুরের অনুসারী।
কৃষ্ণ নন্দীর দাবি—২০০৩ সালে খুলনা-১ আসনের সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাত ধরে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। তবে দলীয় রাজনীতিতে তার দৃশ্যমান কার্যক্রম খুব বেশি পাওয়া যায় না।
বিদেশি সংস্থার ছায়ায় যোগাযোগ—বিতর্ক বাড়াচ্ছে
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কৃষ্ণ নন্দীর সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার ‘নিবিড় যোগাযোগ’ রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা শিপন কুমার বসুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং একই সভায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আইবি–র এক কর্মকর্তার উপস্থিতির ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। এসব ছবি স্থানীয়দের সংশয় আরও গভীর করেছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন—তারপরই রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা?
চুকনগরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় ক্ষোভের জেরে এক পর্যায়ে কৃষ্ণ নন্দীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ—‘আওয়ামী লীগপন্থী’ ভাবমূর্তি থেকে নিজেকে বাঁচাতেই তিনি জামায়াতের ঘাড়ে চড়েছেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যায় কৃষ্ণ নন্দী:
সব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষ্ণ নন্দী বলেন—
মন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কেবল ব্যবসায়িক কারণে; রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সাবেক মন্ত্রীকে ফুল দেওয়ার ছবিকে এখন অপপ্রচার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি ২০০৩ সাল থেকেই জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয়, এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু–বান্ধব মনোভাবের কারণেই এই দলের প্রতি তার আস্থা।
মনোনয়ন ঘিরে বহু প্রশ্নই এখনো অমীমাংসিত
জামায়াতের তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী মনে করছেন, হঠাৎ করে কৃষ্ণ নন্দীর উত্থান এবং মনোনয়নপ্রাপ্তি দলের অভ্যন্তরে নতুন ধরনের সমীকরণ সৃষ্টি করেছে। আর সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ এখনও প্রশ্ন তুলছেন—
আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ পরিচিতি—তবু জামায়াতের প্রার্থী; আসলে কার প্রতিনিধিত্ব করছেন কৃষ্ণ নন্দী।
Reporter Name 

























