ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের ছাত্রদলে ঝোঁক কেন—রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার ঝড়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০৪ বার

Oplus_16908288

ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক উঠলেও তরুণদের ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একদল সমর্থক জোরালো মত প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাদের বক্তব্যে বলা হচ্ছে—বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির সবচেয়ে বড় কারখানা এখনো ছাত্রদলই।

সমর্থকদের দাবি, স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনীতিতে ছাত্রদল থেকে উঠে এসে এমপি–মন্ত্রী হয়েছেন বহু জাতীয় নেতা। তাদের ভাষায়, কেন্দ্রীয় পর্যায় নয়—জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকেও অন্তত ৩০ জনের বেশি সাবেক ছাত্রদল নেতা জাতীয় সংসদে জায়গা পেয়েছেন।

অপরদিকে, ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের বহু সাবেক শীর্ষ নেতা ছাত্রজীবন শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান নন—এ ধরনের মন্তব্যও উঠে এসেছে সমর্থকদের আলোচনা থেকে। তাদের মতে, ছাত্রশিবিরের বিগত এক যুগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই এখন জামায়াতের মূল রাজনীতির বাইরে। আর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিদের অনেকেই আজ দলীয় মূলমঞ্চে সক্রিয় নন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—দলের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসই সংগঠনটিকে আলাদা মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে। আন্দোলন–মিছিলে যারা প্রথম সারিতে থাকেন, রাজপথে যারা দমন-পীড়নের মুখোমুখি হন—ছাত্রদল তাদেরই ঘর বলে দাবি করেন সমর্থকেরা।

নেতা তৈরির ক্ষেত্রে ছাত্রদলের উদাহরণ হিসেবে যেসব জাতীয় নেতার নাম সামনে আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সালাহউদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, ইলিয়াস আলী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাসির উদ্দিন পিন্টু,
হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং ফজলুল হক মিলন।

সমর্থকদের ভাষায়—এরা সবাই ছাত্রদলের “রাজপথে গড়া” নেতার উদাহরণ।

আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে
এহসানুল হক মিলন–এর নাম। অভিযোগ–মামলা–কারাবাসসহ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দেশের মাটিতে থেকে রাজনীতি চালিয়ে গেছেন—এটিকে “আদর্শিক সাহসের দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন তরুণ সমর্থকেরা।

ছাত্রদলের বক্তব্য, কয়েকটি ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রতিকূল ফলাফলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই; অতীতেও সংকট এসেছে, আবার সংগঠনটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন সক্রিয় নেতাকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় আনা হয়েছে বলেও সংগঠন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তরুণ সমর্থকদের মতে, “আদর্শ, ত্যাগ ও নেতৃত্ব তৈরির ধারাবাহিকতায়” ছাত্রদলের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণদের ছাত্রদলে ঝোঁক কেন—রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার ঝড়

আপডেট টাইম : ০২:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ছাত্ররাজনীতি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্ক উঠলেও তরুণদের ছাত্রদলে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একদল সমর্থক জোরালো মত প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাদের বক্তব্যে বলা হচ্ছে—বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্ব তৈরির সবচেয়ে বড় কারখানা এখনো ছাত্রদলই।

সমর্থকদের দাবি, স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনীতিতে ছাত্রদল থেকে উঠে এসে এমপি–মন্ত্রী হয়েছেন বহু জাতীয় নেতা। তাদের ভাষায়, কেন্দ্রীয় পর্যায় নয়—জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকেও অন্তত ৩০ জনের বেশি সাবেক ছাত্রদল নেতা জাতীয় সংসদে জায়গা পেয়েছেন।

অপরদিকে, ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের বহু সাবেক শীর্ষ নেতা ছাত্রজীবন শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান নন—এ ধরনের মন্তব্যও উঠে এসেছে সমর্থকদের আলোচনা থেকে। তাদের মতে, ছাত্রশিবিরের বিগত এক যুগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশই এখন জামায়াতের মূল রাজনীতির বাইরে। আর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিদের অনেকেই আজ দলীয় মূলমঞ্চে সক্রিয় নন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে—দলের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসই সংগঠনটিকে আলাদা মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে। আন্দোলন–মিছিলে যারা প্রথম সারিতে থাকেন, রাজপথে যারা দমন-পীড়নের মুখোমুখি হন—ছাত্রদল তাদেরই ঘর বলে দাবি করেন সমর্থকেরা।

নেতা তৈরির ক্ষেত্রে ছাত্রদলের উদাহরণ হিসেবে যেসব জাতীয় নেতার নাম সামনে আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন- সালাহউদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, ইলিয়াস আলী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাসির উদ্দিন পিন্টু,
হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং ফজলুল হক মিলন।

সমর্থকদের ভাষায়—এরা সবাই ছাত্রদলের “রাজপথে গড়া” নেতার উদাহরণ।

আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে
এহসানুল হক মিলন–এর নাম। অভিযোগ–মামলা–কারাবাসসহ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি দেশের মাটিতে থেকে রাজনীতি চালিয়ে গেছেন—এটিকে “আদর্শিক সাহসের দৃষ্টান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেন তরুণ সমর্থকেরা।

ছাত্রদলের বক্তব্য, কয়েকটি ছাত্রসংসদ নির্বাচনের প্রতিকূল ফলাফলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই; অতীতেও সংকট এসেছে, আবার সংগঠনটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন সক্রিয় নেতাকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় আনা হয়েছে বলেও সংগঠন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তরুণ সমর্থকদের মতে, “আদর্শ, ত্যাগ ও নেতৃত্ব তৈরির ধারাবাহিকতায়” ছাত্রদলের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হচ্ছে।