ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ের জন্য তারেকের ব্যাকুলতা : এক অমলিন অনুভূতির প্রতিচ্ছবি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৮ বার

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই/ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই’। কবি কাজী কাদের নেওয়াজের কবিতার এই পঙক্তিই যেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার আকুতির প্রকাশ ঘটেছে। মায়ের প্রতি সন্তানের দায়বদ্ধতা, নির্ভরতা, নিঃশর্ত ভালোবাসা, অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করার লক্ষ্যে তারেক রহমানের প্রাণান্তকর চেষ্টাই সে প্রমাণ দেয়। বেগম খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। কয়েক দিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে রয়েছেন। অসুস্থ মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য বিদেশ ভূঁইয়ে থেকেই একমাত্র সন্তান তারেক রহমান সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন কোনো চেষ্টা নেই যে, তিনি মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য করছেন না। বাংলাদেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারেক রহমানে যুক্তরাজ্য থেকে বিশ্ববরেণ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, চীন থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে মাকে সুস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু কি তাই? অসুস্থ রোগীর বিমানে উঠার পরিস্থিতি নেই, তারপরও উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে মাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। অসুস্থ মায়ের জন্য বেদনার্ত পুত্রের এমন চেষ্টা উদাহরণ হওয়ার মতোই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালও বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকরা যদি নিশ্চিত করেন, তিনি বিমানে ওঠার জন্য উপযুক্ত, তাহলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লন্ডনে নেয়া হবে। বিমানে উঠার মতো অবস্থা নেই; তারপরও পুত্র তারেক রহমান মায়ের জন্য, মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য লন্ডনে নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি জাতির অভিভাবক। তার অসুস্থতায় গোটা জাতি ব্যথিত, দুঃখে ভারাক্রান্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বেগম জিয়াকে বন্দি করে কারাগারে রাখার সময় সুচিকিৎসায় বাধা দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বেগম জিয়ার যে রোগ সে চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়া আবশ্যক। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা কোনোভাবেই বেগম জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দেননি। বেগম খালেদা জিয়া ওই সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে এখন তার শরীরে এত খারাপ অবস্থা হতো না। দেশ-বিদেশের চিকিৎসকরাও এমনটিই জানিয়েছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হলে বেগম খালেদা জিয়ার শরীর এত খারাপ হতো না। দেশ ও দেশের জনগণের অভিভাবকতুল্য নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। গতকালও তার রোগমুক্তির জন্য সারা দেশের লাখো মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মায়ের এমন অবস্থার পরও বেদনার্ত ছেলে তারেক রহমান হাল ছাড়েননি। অসুস্থ মায়ের সর্বোচ্চ চিকিৎসা করাচ্ছেন। এর আগে ২৯ নভেম্বর লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান দেশে ফিরতে না পারার অসহায়ত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মায়ের জন্য বেদনার্ত পুত্র তারেক রহমান দেশে ফেরা নিয়ে বলেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’ এতেই প্রকাশ পায় মায়ের জন্য একজন পুত্রের কত দায়বদ্ধতা ও মমত্ববোধ। মায়ের জন্য তারেক রহমান এখন বিনিদ্র রজনী পার করছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়; অথচ এক শ্রেণির বিবেকহীন ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ‘অসুস্থ মায়ের পাশে তারেক নেই কেন?’ এমন প্রশ্ন তুলছেন। মায়ের প্রতি তারেক রহমানের দায়িত্ব পালন এবং মা ও ছেলের সম্পর্কের নিঃশর্ত গভীরতা, ভালোবাসা, নির্ভরতা ও শ্রদ্ধার কমতি নেই।

মানুষের হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। চিকিৎসকরা চিকিৎসা করে রোগীকে সারিয়ে তুললেও কখন কার মৃত্যু হবে তা মহান আল্লাহই জানেন। তারপরও রোগ হলে চিকিৎসা করানো হয়; চিকিৎসায় রোগী আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠেন। চিকিৎসকদের পরিভাষায়Ñ বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া সিসিইউতে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় রয়েছেন। এমন ক্রিটিক্যাল অবস্থায় বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ওই হাসপাতালে লাইভ সাপোর্টে রয়েছেন। এর আগে দেশবরেণ্য লালন সঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। বহু রোগী এমন আইসিইউ, সিসিইউতে থেকে সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। কেউ কেউ ফিরে আসেন না। এটি বাস্তবতা।

সন্তানের দায়িত্ব ও পিতা-মাতার চিকিৎসা প্রসঙ্গে দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন জানালেন, ‘আমার বাবা উপমহাদেশের আলেমকুলের শিরোমনি মরহুম আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.) দীর্ঘদিন ঢাকার একটি হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সেখানে এক বছর ধরে চিকিৎসার পর চিকিৎসরা জানান, রোগীর অবস্থার অবনতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, হাজার চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করালেও রোগী সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা নেই। চিকিৎসকরা বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেয়ার পরও আব্বাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে দু’মাস চিকিৎসার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। আমার মাকেও সিঙ্গাপুরে কোমায় এক বছরে চিকিৎসা দেয়ার পর তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আসলে পিতা-মাতার জন্য সন্তানের মন বড়ই কাতর।’

বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং পরিবার ও দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাবেন, সে প্রত্যাশা সবার। তবে পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের মায়ের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা, আবেগ ও অনুভূতি দেশবাসীকেও গভীরভাবে স্পর্শ করছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের জন্য তারেকের ব্যাকুলতা : এক অমলিন অনুভূতির প্রতিচ্ছবি

আপডেট টাইম : ১১:৫১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই/ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই’। কবি কাজী কাদের নেওয়াজের কবিতার এই পঙক্তিই যেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার আকুতির প্রকাশ ঘটেছে। মায়ের প্রতি সন্তানের দায়বদ্ধতা, নির্ভরতা, নিঃশর্ত ভালোবাসা, অসুস্থ মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করার লক্ষ্যে তারেক রহমানের প্রাণান্তকর চেষ্টাই সে প্রমাণ দেয়। বেগম খালেদা জিয়া হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। কয়েক দিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে রয়েছেন। অসুস্থ মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য বিদেশ ভূঁইয়ে থেকেই একমাত্র সন্তান তারেক রহমান সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন কোনো চেষ্টা নেই যে, তিনি মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য করছেন না। বাংলাদেশের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিচ্ছেন। পাশাপাশি তারেক রহমানে যুক্তরাজ্য থেকে বিশ্ববরেণ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, চীন থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে মাকে সুস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু কি তাই? অসুস্থ রোগীর বিমানে উঠার পরিস্থিতি নেই, তারপরও উন্নত চিকিৎসার লক্ষ্যে মাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। অসুস্থ মায়ের জন্য বেদনার্ত পুত্রের এমন চেষ্টা উদাহরণ হওয়ার মতোই।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালও বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসকরা যদি নিশ্চিত করেন, তিনি বিমানে ওঠার জন্য উপযুক্ত, তাহলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লন্ডনে নেয়া হবে। বিমানে উঠার মতো অবস্থা নেই; তারপরও পুত্র তারেক রহমান মায়ের জন্য, মাকে সুস্থ করে তোলার জন্য লন্ডনে নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি জাতির অভিভাবক। তার অসুস্থতায় গোটা জাতি ব্যথিত, দুঃখে ভারাক্রান্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বেগম জিয়াকে বন্দি করে কারাগারে রাখার সময় সুচিকিৎসায় বাধা দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বেগম জিয়ার যে রোগ সে চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেয়া আবশ্যক। কিন্তু ফ্যাসিস্ট হাসিনা কোনোভাবেই বেগম জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দেননি। বেগম খালেদা জিয়া ওই সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে এখন তার শরীরে এত খারাপ অবস্থা হতো না। দেশ-বিদেশের চিকিৎসকরাও এমনটিই জানিয়েছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা হলে বেগম খালেদা জিয়ার শরীর এত খারাপ হতো না। দেশ ও দেশের জনগণের অভিভাবকতুল্য নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। গতকালও তার রোগমুক্তির জন্য সারা দেশের লাখো মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মায়ের এমন অবস্থার পরও বেদনার্ত ছেলে তারেক রহমান হাল ছাড়েননি। অসুস্থ মায়ের সর্বোচ্চ চিকিৎসা করাচ্ছেন। এর আগে ২৯ নভেম্বর লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান দেশে ফিরতে না পারার অসহায়ত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ‘দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে মায়ের জন্য বেদনার্ত পুত্র তারেক রহমান দেশে ফেরা নিয়ে বলেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাক্সক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।’ এতেই প্রকাশ পায় মায়ের জন্য একজন পুত্রের কত দায়বদ্ধতা ও মমত্ববোধ। মায়ের জন্য তারেক রহমান এখন বিনিদ্র রজনী পার করছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়; অথচ এক শ্রেণির বিবেকহীন ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ‘অসুস্থ মায়ের পাশে তারেক নেই কেন?’ এমন প্রশ্ন তুলছেন। মায়ের প্রতি তারেক রহমানের দায়িত্ব পালন এবং মা ও ছেলের সম্পর্কের নিঃশর্ত গভীরতা, ভালোবাসা, নির্ভরতা ও শ্রদ্ধার কমতি নেই।

মানুষের হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। চিকিৎসকরা চিকিৎসা করে রোগীকে সারিয়ে তুললেও কখন কার মৃত্যু হবে তা মহান আল্লাহই জানেন। তারপরও রোগ হলে চিকিৎসা করানো হয়; চিকিৎসায় রোগী আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে উঠেন। চিকিৎসকদের পরিভাষায়Ñ বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া সিসিইউতে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় রয়েছেন। এমন ক্রিটিক্যাল অবস্থায় বর্তমানে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ। চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ওই হাসপাতালে লাইভ সাপোর্টে রয়েছেন। এর আগে দেশবরেণ্য লালন সঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছিলেন। বহু রোগী এমন আইসিইউ, সিসিইউতে থেকে সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। কেউ কেউ ফিরে আসেন না। এটি বাস্তবতা।

সন্তানের দায়িত্ব ও পিতা-মাতার চিকিৎসা প্রসঙ্গে দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন জানালেন, ‘আমার বাবা উপমহাদেশের আলেমকুলের শিরোমনি মরহুম আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.) দীর্ঘদিন ঢাকার একটি হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। সেখানে এক বছর ধরে চিকিৎসার পর চিকিৎসরা জানান, রোগীর অবস্থার অবনতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, হাজার চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করালেও রোগী সুস্থ হয়ে উঠার সম্ভাবনা নেই। চিকিৎসকরা বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেয়ার পরও আব্বাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে দু’মাস চিকিৎসার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। আমার মাকেও সিঙ্গাপুরে কোমায় এক বছরে চিকিৎসা দেয়ার পর তিনি ইন্তেকাল করেছেন। আসলে পিতা-মাতার জন্য সন্তানের মন বড়ই কাতর।’

বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং পরিবার ও দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাবেন, সে প্রত্যাশা সবার। তবে পুত্র হিসেবে তারেক রহমানের মায়ের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা, আবেগ ও অনুভূতি দেশবাসীকেও গভীরভাবে স্পর্শ করছে।