দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেন, এই অপচেষ্টার পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যাকে তিনি ‘শেল্টার মাস্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং সেই সুযোগে কিছু গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে শুরু করে। তার ভাষায়, “দীর্ঘদিন ধরে গোপনে লালিত একটি অপশক্তি প্রকাশ্যে এসে একাত্তরের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ‘গণ্ডগোল’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালিয়েছে এবং এমনকি স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অস্বীকার করার মতো বক্তব্যও সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার একটি সংগঠিত প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফজলুর রহমান বলেন, “যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করা মানে দেশের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে গণহত্যা চালায়, তা মানব ইতিহাসের অন্যতম নির্মম অধ্যায়। এ সময় দেশীয় সহযোগীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। এসব গোষ্ঠী গণহত্যা, লুটপাট এবং নির্যাতনের মতো অপরাধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। “এই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা শুধু অনৈতিকই নয়, এটি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল,”—যোগ করেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও ভাস্কর্য ভাঙচুর, মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা এবং জাতীয় দিবস পালন বাধাগ্রস্ত করার মতো ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে একটি ‘ছায়া-পরিবেশে’, যার সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সময়কার প্রশাসনিক কাঠামোর সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, “এই সময়টিকে আমি ‘শ্যাডো অব ইউনূস’ বলতে চাই। কারণ তার শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের ওপর একের পর এক আঘাত এসেছে।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং দলটির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করা। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণার সঙ্গে তার নাম জড়িত।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটাবে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, “বাংলাদেশ যদি টিকে থাকতে চায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ওপর নির্ভর করেই এগোতে হবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি শপথ করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনো পরাজিত হবে না। যতই ষড়যন্ত্র হোক, শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিই।”
লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান ও সংসদ সদস্য কিশোরগঞ্জ-৪ ( ইটনা,মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম )।
Reporter Name 





















