যারা এতদিন নির্বাচন-নির্বাচন করে জনগণকে বেহুঁশ করে ফেলেছিল তারাই এখন নির্বাচন ভণ্ডুল করার পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, যারা এতদিন নির্বাচন নির্বাচন বলে দেশকে অস্থির করে তুলেছিলেন, তাদের মুখে এখন ক্ষীণ স্বরে ভিন্ন কথা শোনা যাচ্ছে। তারা বুঝে গেছেন—তাদের চলমান অপকর্মে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে লাল কার্ড দেখিয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন,, দেশের ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেছে, কিন্তু ফ্যাসিস্টের কালো ছায়া এখনো যায়নি। একদল চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য করে পালিয়ে গেছে। বর্তমানে দ্বিগুণ উদ্দ্যমে আরেক দল চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা ৮ দলীয় জোটের বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
দুপুর ১২টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে খেলাফতে মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দু বাছিত আযাদের সভাপতিত্ব শুরু হওয়া এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা।
সমাবেশের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখার নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম। সমাবেশে ডা: শফিক বলেন, ‘একদল ১৭ বছর এদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম রেখেছিল, এখন নতুন করে আরেকদল সেই ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’যারা নানা বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাবার প্রচেষ্টায় আছে তাদেরকে বলবো, বন্ধু জনগণ তোমাদের লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে।’শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে আকাঙ্ক্ষায় অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছে সেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে পূর্ণ একমত আট দল৷
সব দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর প্রতি আহ্বান, কোনো অপরাধী দলের সঙ্গী না হয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের বুকে জড়িয়ে নেবো৷’
তিনি বলেন, ‘যারা নতুন জুলুমকারী হয়ে উঠেছেন তাদেরকে অচিরেই মুখোমুখি হতে হবে কঠিন পরিস্থিতির।‘
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘সাত বিভাগীয় সমাবেশের পর এটা প্রমাণিত হয়েছে যে জনগণ আমাদের পাঁচ দফার সঙ্গে একমত৷
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, ফ্যাসিস্টদের বিচার আর সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল গণআকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার কবর রচিত হয়েছে বলেই আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে।যারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি আর অপরাধে নিমজ্জিত আগামী নির্বাচনে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে তাদের।
সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘গত ১৭ বছর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত সময় পার করেছে দেশের ইসলামপন্থীরা। যে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ উৎখাতে জনগণ প্রাণ দিয়েছে তা আর ফিরে আসবে না৷’তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার বিকল্প নেই৷ ’মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের বিভাগীয় কর্মসূচি দেখে একটি দলের মাথা খারাপ হয়ে গেছে৷ তারা এখন নির্বাচন পেছানোর পাঁয়তারা করছে৷’
সমাবেশে অতিথি হিসেবে ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীরা।
Reporter Name 

























