ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হংকংয়ের অগ্নিকাণ্ডটি ১০৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ, নিহত বেড়ে ৬৫

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬৩ বার

হংকংয়ের ইতিহাসে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে তাই পো এলাকার একাধিক বহুতল ভবনে এই আগুন লাগে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ১৯১৮ সালের পর (হ্যাপি ভ্যালি রেসকোর্সের আগুনে ৬১৪ জন নিহত হয়েছিল) হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে চারটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য তিনটি ভবনেও কাজ চলছে, তবে উদ্ধারকারীরা এখনো ভেতরে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

আগুনের সূত্রপাত হয় গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫১ মিনিটে তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট নামের একটি সরকারি আবাসন কমপ্লেক্সে। প্রথমে একটি ভবনের বাইরে থাকা বাঁশের মাচায় আগুন লাগে। সংস্কারকাজের জন্য ব্যবহৃত ওই মাচায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ওপরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।

এ ছাড়া ভবনগুলো মেরামতের জন্য ছাদ পর্যন্ত সবুজ জাল দিয়ে মোড়ানো ছিল। এই জালে আগুন লাগলে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি জানালায় লাগানো পলিস্টাইরিন ফোমের কারণে আগুন দাউ দাউ করে বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াং ফুক কোর্টের অধিকাংশই বহুতল ভবন ছিল। বাতাস আর খোলামেলা পরিবেশের কারণে আগুন দ্রুত অন্য ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৮৩ সালে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৯৮৪টি ফ্ল্যাটে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মানুষ বাস করতেন। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানকার বাসিন্দাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি ছিল। বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর কোনো ফায়ার অ্যালার্ম শোনা যায়নি। প্রতিবেশীরাই দরজায় কড়া নেড়ে অন্যদের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে হো ওয়াই-হো (৩৭) নামের একজন ফায়ার ফাইটারও রয়েছেন, যিনি আগুন নেভানোর সময় মারা যান। ১০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে, আহত অন্তত ৬৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা সংকটজনক ও ২৪ জনের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ৯০০ জন বাসিন্দা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, সংস্কারকাজে অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। মূলত এ কারণেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে কাজে ‘অবহেলার’ অভিযোগে একটি নির্মাণ কোম্পানির দুই পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শককে (বয়স ৫২ থেকে ৬৮-এর মধ্যে) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হংকং পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং বলেন, ‘আমাদের ধারণা, সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মারাত্মক অবহেলা করেছেন।’

হংকং ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করে। ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ডেরেফ আর্মস্ট্রং চ্যান জানান, তীব্র তাপ, ধ্বংসাবশেষ ও ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।

এ ঘটনার পর হংকংয়ের নেতা জন লি ঘোষণা করেছেন, সংস্কারকাজ চলছে এমন শহরের সমস্ত আবাসন প্রকল্প অবিলম্বে পরিদর্শন করা হবে, যাতে মাচা ও নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

হংকংয়ের অগ্নিকাণ্ডটি ১০৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ, নিহত বেড়ে ৬৫

আপডেট টাইম : ০৭:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

হংকংয়ের ইতিহাসে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে তাই পো এলাকার একাধিক বহুতল ভবনে এই আগুন লাগে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ১৯১৮ সালের পর (হ্যাপি ভ্যালি রেসকোর্সের আগুনে ৬১৪ জন নিহত হয়েছিল) হংকংয়ের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মধ্যে চারটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য তিনটি ভবনেও কাজ চলছে, তবে উদ্ধারকারীরা এখনো ভেতরে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

আগুনের সূত্রপাত হয় গতকাল স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫১ মিনিটে তাই পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট নামের একটি সরকারি আবাসন কমপ্লেক্সে। প্রথমে একটি ভবনের বাইরে থাকা বাঁশের মাচায় আগুন লাগে। সংস্কারকাজের জন্য ব্যবহৃত ওই মাচায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ওপরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে।

এ ছাড়া ভবনগুলো মেরামতের জন্য ছাদ পর্যন্ত সবুজ জাল দিয়ে মোড়ানো ছিল। এই জালে আগুন লাগলে তা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি জানালায় লাগানো পলিস্টাইরিন ফোমের কারণে আগুন দাউ দাউ করে বাড়তে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াং ফুক কোর্টের অধিকাংশই বহুতল ভবন ছিল। বাতাস আর খোলামেলা পরিবেশের কারণে আগুন দ্রুত অন্য ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৮৩ সালে নির্মিত এই কমপ্লেক্সে ১ হাজার ৯৮৪টি ফ্ল্যাটে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মানুষ বাস করতেন। ২০২১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, এখানকার বাসিন্দাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি ছিল। বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার পর কোনো ফায়ার অ্যালার্ম শোনা যায়নি। প্রতিবেশীরাই দরজায় কড়া নেড়ে অন্যদের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে হো ওয়াই-হো (৩৭) নামের একজন ফায়ার ফাইটারও রয়েছেন, যিনি আগুন নেভানোর সময় মারা যান। ১০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে, আহত অন্তত ৬৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা সংকটজনক ও ২৪ জনের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ৯০০ জন বাসিন্দা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, সংস্কারকাজে অনিরাপদ উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। মূলত এ কারণেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে কাজে ‘অবহেলার’ অভিযোগে একটি নির্মাণ কোম্পানির দুই পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শককে (বয়স ৫২ থেকে ৬৮-এর মধ্যে) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হংকং পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং বলেন, ‘আমাদের ধারণা, সংস্কারকাজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মারাত্মক অবহেলা করেছেন।’

হংকং ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করে। ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ডিরেক্টর ডেরেফ আর্মস্ট্রং চ্যান জানান, তীব্র তাপ, ধ্বংসাবশেষ ও ধোঁয়ার কারণে ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।

এ ঘটনার পর হংকংয়ের নেতা জন লি ঘোষণা করেছেন, সংস্কারকাজ চলছে এমন শহরের সমস্ত আবাসন প্রকল্প অবিলম্বে পরিদর্শন করা হবে, যাতে মাচা ও নির্মাণসামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।