ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৩ বার
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ মুর্শিদাবাদে পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩তম বার্ষিকীর দিন ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন ভারতের এ মুসলিম নেতা।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এ মসজিদ নির্মানের ঘোষণায় দেশজুড়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
বিজেপি মুখপাত্র ইয়াসের জিলানি পশ্চিমবঙ্গ বিধায়কের এ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। অভিযোগ করেছেন, তিনি নির্বাচনী লাভের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, তৃণমূল নেতারা, বিশেষ করে এমএলএ হুমায়ুন কবির ঘৃণার রাজনীতির জন্য পরিচিত।
তিনি পুরোপুরি তোষণের রাজনীতি করেন। তিনি ইচ্ছা করেই বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করছেন। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করবে, সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্রোত উঠছে—এ কথা জানেন বলেই হুমায়ুন কবির এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা তাদের ভোটব্যাংক রক্ষার জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
এর আগে কবির ঘোষণা করেছিলেন, আমরা ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। এটি সম্পূর্ণ হতে তিন বছর সময় লাগবে। বিভিন্ন মুসলিম নেতা সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
তার এই মন্তব্য সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র এবং তুলনামূলকভাবে সংযত।
কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেন, যে কেউ একটি মসজিদ তৈরি করতে পারে, এতে বাবরের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়? তারা যদি মসজিদ বানাতে চান, বানাতে পারেন।
কংগ্রেস এমপি সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, কেউ যদি মসজিদ বানায়, মন্দির, গুরুদ্বার বা চার্চ বানায়, তাতে বিতর্কের কী আছে? কেন এটাকে বিতর্কে পরিণত করা হচ্ছে? প্রত্যেক ধর্মেরই নিজ নিজ উপাসনালয় নির্মাণের অধিকার রয়েছে।
অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনও একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাজিদ রাশিদি বলেন, সম্ভবত তারা বুঝতে পারছেন না যেকোনো জায়গায় একবার মসজিদ তৈরি হলে তা কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদই থাকে। ভারতজুড়ে বাবরি মসজিদের নামে শত শত মসজিদ তৈরি হলেও অযোধ্যার আসল বাবরি মসজিদের গুরুত্ব কখনো মুছে যাবে না।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজয় দিবস : জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার নতুন শপথ

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের ঘোষণা

আপডেট টাইম : ১০:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ মুর্শিদাবাদে পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হুমায়ুন কবির। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩তম বার্ষিকীর দিন ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন ভারতের এ মুসলিম নেতা।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এ মসজিদ নির্মানের ঘোষণায় দেশজুড়ে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
বিজেপি মুখপাত্র ইয়াসের জিলানি পশ্চিমবঙ্গ বিধায়কের এ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। অভিযোগ করেছেন, তিনি নির্বাচনী লাভের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, তৃণমূল নেতারা, বিশেষ করে এমএলএ হুমায়ুন কবির ঘৃণার রাজনীতির জন্য পরিচিত।
তিনি পুরোপুরি তোষণের রাজনীতি করেন। তিনি ইচ্ছা করেই বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করছেন। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করবে, সেখানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্রোত উঠছে—এ কথা জানেন বলেই হুমায়ুন কবির এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা তাদের ভোটব্যাংক রক্ষার জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
এর আগে কবির ঘোষণা করেছিলেন, আমরা ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। এটি সম্পূর্ণ হতে তিন বছর সময় লাগবে। বিভিন্ন মুসলিম নেতা সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
তার এই মন্তব্য সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র এবং তুলনামূলকভাবে সংযত।
কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেন, যে কেউ একটি মসজিদ তৈরি করতে পারে, এতে বাবরের সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়? তারা যদি মসজিদ বানাতে চান, বানাতে পারেন।
কংগ্রেস এমপি সুরেন্দ্র রাজপুত বলেন, কেউ যদি মসজিদ বানায়, মন্দির, গুরুদ্বার বা চার্চ বানায়, তাতে বিতর্কের কী আছে? কেন এটাকে বিতর্কে পরিণত করা হচ্ছে? প্রত্যেক ধর্মেরই নিজ নিজ উপাসনালয় নির্মাণের অধিকার রয়েছে।
অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনও একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মাওলানা সাজিদ রাশিদি বলেন, সম্ভবত তারা বুঝতে পারছেন না যেকোনো জায়গায় একবার মসজিদ তৈরি হলে তা কিয়ামত পর্যন্ত মসজিদই থাকে। ভারতজুড়ে বাবরি মসজিদের নামে শত শত মসজিদ তৈরি হলেও অযোধ্যার আসল বাবরি মসজিদের গুরুত্ব কখনো মুছে যাবে না।