ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্‌যাপিত হাস্যোজ্জ্বল খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৯ বার
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবারও যোগ দিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানে গেলেন তিনি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পাশেই ছিল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন। সেখানে বসেই তিনি গতকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বেগম খালেদা জিয়া পারস্পরিক সৌজন্য ও কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর অসুস্থ সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেলে বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। গাড়ি থেকে নেমে হুইলচেয়ারে বসে অনুষ্ঠানস্থলে যান খালেদা জিয়া। এ সময় তার পরনে ছিল ল্যাভেন্ডার কালারের শিফন শাড়ি।

প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৌঁছলে বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এরপর প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।এর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। মঞ্চে বাঁ থেকে প্রথম আসনটিই ছিল তাঁর বসার জন্য। পাশাপাশি আসনে বসা বর্তমান সরকারপ্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এ সময় হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।

বিকেল ৪টায় গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে সেনানিবাসের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির চেয়ারপারসন। তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও খালেদা জিয়ার ভাই মরহুম সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার ও ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহাবুদ্দিন তালুকদার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য— মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় খালেদা জিয়া বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সেনাকুঞ্জ ত্যাগের সময় তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। মাত্র কয়েক মিনিটের যাত্রা শেষে ৫টা ৩৫ মিনিটে ফিরোজায় পৌঁছেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্‌যাপিত হাস্যোজ্জ্বল খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে

আপডেট টাইম : ০৭:১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবারও যোগ দিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানে গেলেন তিনি। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর পাশেই ছিল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন। সেখানে বসেই তিনি গতকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বেগম খালেদা জিয়া পারস্পরিক সৌজন্য ও কুশলাদি বিনিময় করেন। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর সুস্থতা কামনা করেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর অসুস্থ সহধর্মিণী আফরোজী ইউনূসের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এ সময় খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেলে বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে সেনাকুঞ্জে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। গাড়ি থেকে নেমে হুইলচেয়ারে বসে অনুষ্ঠানস্থলে যান খালেদা জিয়া। এ সময় তার পরনে ছিল ল্যাভেন্ডার কালারের শিফন শাড়ি।

প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৌঁছলে বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এরপর প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শুরুতে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।এর কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। মঞ্চে বাঁ থেকে প্রথম আসনটিই ছিল তাঁর বসার জন্য। পাশাপাশি আসনে বসা বর্তমান সরকারপ্রধান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এ সময় হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।

বিকেল ৪টায় গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে সেনানিবাসের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপির চেয়ারপারসন। তাঁর সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন তাঁর ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও খালেদা জিয়ার ভাই মরহুম সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার ও ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়িবহরের সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহাবুদ্দিন তালুকদার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। দলের স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য— মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও সেনাকুঞ্জের এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টায় খালেদা জিয়া বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সেনাকুঞ্জ ত্যাগের সময় তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। মাত্র কয়েক মিনিটের যাত্রা শেষে ৫টা ৩৫ মিনিটে ফিরোজায় পৌঁছেন তিনি।