কাঁপতে থাকল সবকিছু। মনের ভেতরে মুহূর্তেই তৈরি হলো ব্যাপক আতঙ্ক। দুলতে শুরু করল সারি সারি উঁচু-নিচু ভবন। দুলুনি খেতে থাকা ঘরবাড়ি, দোকানপাট, শিল্প-কারখানা থেকে মানুষজন দ্রুত খোলা জায়গার দিকে ছুটল।
সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়। তাতে দুটি শিশুসহ ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সব মিলিয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে তিনজন, মুগদায় একজন, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের প্রাণহানি ঘটে। শুধু গাজীপুর জেলায়ই হাসপাতালে ভর্তি হয় আড়াই শতাধিক ব্যক্তি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের তথ্য বলছে, গতকাল সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে হওয়া এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। উৎপত্তিস্থলে রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৭। এটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প।
প্রধান উপদেষ্টা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার শোক : ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘরবাড়ি ধসে এবং অন্যান্য দুর্ঘটনায় হতাহতের খবরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা এক শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেন। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
পুরান ঢাকা ও মুগদায় চারজনের প্রাণহানি : রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের কসাইটুলীতে বহুতল ভবনের অংশবিশেষ ধসে একটি শিশুসহ তিনজন মারা গেছে। বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, কসাইটুলীতে নিহতরা হলেন রাফিউল ইসলাম (২২), আবদুর রহিম (৪৭) এবং তাঁর ছেলে মো. রিমন (১২)। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের বশিকপুরে। তিনি পুরান ঢাকার সুরিটোলা স্কুলের পেছনে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের লাশ ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। রাজধানীর মুগদার মদিনাবাগে নির্মীয়মাণ ভবনের রেলিং ধসে নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল পৌনে ১১টার দিকে মুগদার মদিনাবাগ মিয়াজি গলিতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মাকসুদ মদিনাবাগ মিয়াজি গলির নির্মীয়মাণ ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় ভবন থেকে বাইরে যাওয়ার পথে ওপর থেকে রেলিং ভেঙে তাঁর মাথার ওপর পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, দুপুরে মুগদা হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সন্ধ্যার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। নিহত মাকসুদের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরসীতা গ্রামে।
নরসিংদীর পাঁচজনের প্রাণ গেল : আমাদের নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, ভূমিকম্পে আহত তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ও স্ট্রোক করে নিজ বাড়িতে একজন এবং গাছ থেকে পড়ে আরো একজন মারা যায়। এ নিয়ে জেলার পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে আহত ৭০ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। ভূমিকম্পে নিহতরা হলো সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলীর দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৪০) এবং তাঁর ছেলে হাফেজ মো. ওমর ফারুক (১০)। তাদের মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার উত্তরপাড়া গ্রামে। উজ্জ্বল চাকরির সুবাদে নরসিংদীতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। তিনি একটি জুট মিলে চাকরি করতেন। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় গতকাল সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাসায় ছিলেন তিনি। ভূমিকম্প শুরু হলে দৌড়ে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় নির্মীয়মাণ একটি দেয়াল ধসে পড়ে তাদের ওপর। এতে গুরুতর আহত হয় উজ্জ্বল, তাঁর ছেলে মো. ওমর ফারুক, মেয়ে ঊষা ও তুৎফা। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উজ্জ্বল ও ওমর ফারুককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যায় ফারুক, পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তার বাবা উজ্জ্বলকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উজ্জ্বলের মেয়ে ঊষা ও তুৎফা নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতের চাচাতো ভাই হাজি জাফর আলী কলেজের প্রভাষক তরিকুল হাসান শাহীন বলেন, একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু এবং দুজনের আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ছাড়া জেলার পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫) মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়েন। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। ওমর ফারুক, কাজেম আলী ভূইয়া ও উজ্জ্বলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান। এদিকে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজীর চর নয়াপাড়ার মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৬৫) ভূমিকম্পের সময় নিজ বাড়িতে ভয় পেয়ে স্ট্রোক করেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন পলাশ থানার ওসি মো. মনির হোসেন। অন্যদিকে জেলার শিবপুরের জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামে ভূমিকম্পের সময় ভয়ে গাছ থেকে পড়ে ফোরকান নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্যও নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান।
ভূমিকম্পে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বেশ কিছু বসতবাড়ি, মার্কেট ও বহুতল ভবন ফেটে হেলে পড়েছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাজারের ছয়তলা এসএ প্লাজায় ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘোড়াশালের লেবুপাড়ায় ঘোড়াশাল ডেইরি ফার্মের মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পলাশ রেসিডেনসিয়াল স্কুলের পাশে একটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘোড়াশাল নতুনবাজার গ্রামের ইসহাক মিয়ার বাড়ি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নরসিংদীর শেখেরচর বাবুরহাট বাজারের ধূমকেতু মাঠে একটি চারতলা ভবন হেলে পার্শ্ববর্তী ভবনে পড়েছে। নরসিংদী শহরের গাবতলীর বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আরাফাত শাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভূমিকম্পে আমার চারতলা ভবনের দেয়ালের টাইলস ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন আসবাব ভেঙে গেছে। তবে বাসার সবাই সুস্থ থাকলেও আতঙ্কে রয়েছি।’
নারায়ণগঞ্জে শিশুর প্রাণহানি : আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে পাশের দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও জেসমিন বেগম নামের আরো এক প্রতিবেশী আহত হন। নিহত ফাতেমা গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ ৫ নম্বর ক্যানেল এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূমিকম্প শুরু হলে ফাতেমাকে নিয়ে তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম ভুলতা-গাউছিয়া সড়কের পাশের পুরনো দেয়ালের কাছে অবস্থান করছিলেন। তখন প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে দেয়ালটি ধসে তাদের ওপর পড়ে। তখন ঘটনাস্থলেই শিশুটি দেয়ালচাপা পড়ে মারা যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত দেয়ালের নিচ থেকে শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে। আহত দুই নারীকে উদ্ধার করে কাছের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, ভূমিকম্পের সময় দেয়াল ধসে ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে। তার মা ও প্রতিবেশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি ৯০ জন : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র বলছে, আহতদের মধ্যে ১০ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ভবন থেকে লাফ দিয়ে গুরুতর আহত হন অন্তত চার শিক্ষার্থী। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে আহত ৯০ জনকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. ফারুক বলেন, ভূমিকম্পের পর সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছয় শিক্ষার্থীসহ ৪১ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়া পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০ জনকে নেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন ভবনে ফাটল : নিউমার্কেট থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, তাঁদের থানা ভবনের ৩, ৪ ও ৫ তলায় ফাটল ধরেছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, কবি জসীমউদ্দীন হল, স্যার এ এফ রহমান হল, মোকাররম ভবন, শেখ ফজলুল হক হলসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ঢাকার ১৪ এলাকায় ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি করে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, আরমানিটোলা, স্বামীবাগ, বনানী, কলাবাগান, ভাটারা, নদ্দা, দক্ষিণ বনশ্রী, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, বাড্ডা, সিপাহীবাগ, মগবাজারের মধুবাগ এবং হযরত শাহজালাল আন্ত্মর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকায়। এছাড়াও রামপুরা টিভি রোডে কয়েকটি, কলাবাগানের আবেদখালী রোডে একটি ভবন হেলে পড়েছে। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর রোডের ছয় তলার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় চার দিকে বড় ফাটল ধরেছে। পঙ্গু হাসপাতালের সামনের অংশে বড় ফাটল ধরেছে। ঢাকার অদূরে ধামরাই পৌরসভার ধানসিঁড়ি আবাসিক এলাকায় দুই বছর আগে একটি চারতলা ভবন হেলে পড়ে। গতকাল ভূমিকম্পে ভবনটি আরো হেলে পাশের সাততলা ভবনে পড়েছে। এতে দুই ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কে আছে।
টঙ্গীতে হেলে পড়েছে একটি বহুতল ভবন। চট্টগ্রামে ভূমিকম্পে ছয়তলা একটি ভবন পাশের ভবনের দিকে হেলে পড়েছে। নগরের ডবলমুরিং থানাধীন মনসুরাবাদ মিয়াবাড়ি সড়কের ওই ভবন সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলমের মালিকানাধীন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় থানা পুলিশের সদস্যরা ভবনটি গতকাল বিকেলে পরিদর্শন করেছেন।
গাজীপুরে হাসপাতালে দুই শতাধিক : গাজীপুরে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত হয়ে কারখানা থেকে নামতে গিয়ে টঙ্গী, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, বাঘের বাজার ও শ্রীপুরে সাড়ে সাত শতাধিক শ্রমিক আহত হন। তাঁদের অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোয় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৫২ জন ভর্তি ছিল। তাদের বেশির ভাগই পোশাক শ্রমিক। গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমিকম্পের সময় হুড়াহুড়ি করে বের হতে গিয়ে তিন শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শ্রীপুর পৌরসভার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়িতে ডেনিমেক লিমিটেড পোশাক কারখানায় এই ঘটনা ঘটে।
তারেক রহমানের শোক : গতকাল বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লেখেন, ‘সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন উঁচু ভবনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে ছয়জনের প্রাণহানি এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবল ভূমিকম্পে মানুষের প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতিতে আমি গভীরভাবে শোকাভিভূত। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমি মহান রাব্বুল আলামিনের নিকট দোয়া করছি, তিনি যেন ভূমিকম্পে হতাহত পরিবারবর্গকে শোক ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন।’তিনি লেখেন, ‘সরকার আগে থেকেই সতর্ক থাকলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটানোসহ মানুষকে সুরক্ষিত রাখা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। বাংলাদেশের মানুষ নানা প্রাকৃতিক বিপত্সংকুল দুর্যোগ মোকাবেলা করে সব সময় সামনের দিকে এগিয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পেও বাংলাদেশের মানুষ ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিএনপি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে। আমি ভূমিকম্পে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহত মানুষের আশু সুস্থতা কামনা করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।’
Reporter Name 

























