আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে হঠাৎ বদলিতে চাঞ্চল্য, দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রশাসনিক প্রতিযোগিতার আভাস
- ৫০টিরও বেশি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে হঠাৎ বদলি।
- যোগদানের আগেই বদলিতে প্রশাসনে তোলপাড়।
- গত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা অনেক কর্মকর্তার নাম বাদ।
- দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে প্রতিযোগিতা।
- প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকে পদায়ন ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ক্রাইটেরিয়া চূড়ান্ত।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সরকার দেশের ৫০টিরও বেশি জেলায় জেলা প্রশাসক পদে হঠাৎ বদলি করেছে। যোগদানের আগেই এই পরিবর্তন প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
সরকারি সূত্র জানায়, যারা আগের বদলিতে ছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেরই আসন্ন নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। ফলে জেলা প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে প্রশাসনের অভ্যন্তরে দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা ৪৫ জনকে চলতি বছরের শুরুতে ওএসডি করা হয়েছিল। এছাড়া তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সাবেক ডিসদের মধ্যে ২২ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর এবং ৪৩ জনকে ওএসডি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, “জাতীয় নির্বাচনে ইউএনওদের ভূমিকা সীমিত। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ থাকে ডিসি, প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের। ইউএনওদের নির্বাচনের অযোগ্য বলা অন্যায়।”
নিয়োগের মানদণ্ড:
- এবারের ডিসি নিয়োগে সাবেক অর্থনীতি ক্যাডারের পাশাপাশি ২৫, ২৭, ২৮ ও ২৯ ব্যাচের বিসিএস কর্মকর্তারা গুরুত্ব পাচ্ছেন।
- গত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ নিয়ে দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
- প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গত তিন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী নির্বাচনে কোনো পদায়ন থাকবে না।
- কর্মকর্তার পরিবারের সদস্য নির্বাচনে থাকলে তাদেরও প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হবে।
রাজনৈতিক তোলপাড়:
- কিছু জেলার ডিসি সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অভিযোগ উঠেছে।
- বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলার ডিসি সরিয়ে দেয়ার ঘটনা আলোচিত, যেখানে তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
এই হঠাৎ বদলির ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন ডিসিরা কতটা দ্রুত দায়িত্ব সামলাতে পারবেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কি প্রভাব ফেলবেন, তা নজরে রাখা হচ্ছে।
Reporter Name 



















