পশ্চিমবঙ্গের ‘আরও এক পৃথিবী’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাসনিয়া ফারিণের। পরে তার দেবের সঙ্গে ‘প্রজাপ্রতি ২’ সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল, কিন্তু ভিসা জটিলতায় হয়নি। টেলিভিশন থেকে আসা অভিনেত্রীদের মধ্যে সিনেমার নায়িকা হিসেবে অভিনয় করতে কিছুটা দ্বিধা থাকে। সেই দ্বিধার বিষয়গুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন তাসনিয়া ফারিণ। সিনেমায় অভিনয়ের জন্য নাচ, ফাইট সবকিছু রপ্ত করেছেন। এবার শোনা যাচ্ছে ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ সিনেমার নায়িকা হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ।
নাটকের পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে ‘প্রিন্স’। নব্বই দশকের ঢাকা শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ড ঘিরে ছবিটির গল্প এগোবে, যেখানে থাকবে ক্রাইম, লাভ, অ্যাকশন ও ইমোশনের মিশেল। গল্পটি লিখেছেন মেজবাহ উদ্দিন সুমন, আর চিত্রনাট্যে কাজ করেছেন তিনি নিজে এবং মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ‘প্রিন্স’-এর শুটিং শুরু হবে। আগামী ঈদে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে ছবিটি নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। বাজেট, লোকেশন ও টেকনিক্যাল টিমÑ সবই প্রায় চূড়ান্ত। এর আগে খবর ছড়ায়, সিনেমাটিতে নায়িকা হিসেবে থাকছেন কলকাতার ইধিকা পাল। এমনকি জানা গিয়েছিল, তিনি নাকি সিনেমাটির জন্য আকাশচুম্বী পারিশ্রমিক দাবি করেছেন। সেই পারিশ্রমিকে প্রিন্স প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইধিকাকে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে এসেছে। তাই শেষ পর্যন্ত আলোচনায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। ইধিকার পরিবর্তে এই ছবিতে মূল নায়িকা হিসেবে তাসনিয়া ফারিণের সম্ভাবনা প্রবলভাবে তৈরি হয়েছে। অভিনয়ে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই এই অভিনেত্রীকে নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয় দর্শকের মনে। সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায় যখন গুঞ্জন ওঠে ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের বিপরীতে তাকে অভিনয় করতে দেখা যাবে নতুন ছবি ‘প্রিন্স’-এ। যদিও ‘প্রিন্স’ টিম এ বিষয়ে এতদিন মুখে কুলুপ এঁটে ছিল, তবে এবার নিশ্চিত খবর এসেছেÑ এই ছবির নায়িকা হিসেবে তাসনিয়া ফারিণই চূড়ান্ত হয়েছেন।
সঞ্জয় সমদ্দার পরিচালিত ‘ইনসাফ’ এমনই একটি বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা। এই সিনেমায় ফারিণের বিপরীতে সিনেমায় ছিলেন শরীফুল রাজ। তাসনিয়া ফারিণ বলেন, ‘একটা সময় নিয়মিত নাটকে কাজ করতাম। সেখান থেকে কিছুটা বিরতি নিয়ে ওটিটিতে গিয়েছি। তখন অনেকে বলেছেন, নাটকেই তো ভালো ছিলাম। ওটিটিতে যাওয়ার কী দরকার ছিল। ওটিটিতে সফলতা পাওয়ার পর আবার সিনেমায় পথচলা শুরু করলাম। তখনও অনেকেই একই কথা বলেছে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, একটা জায়গায় আমি খুব বেশিদিন ভালো থাকি না। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে খুব ভালো লাগে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেকে সব সময় ভিন্ন জায়গায় নিতে চেয়েছি। এখন সিনেমা আমার ধ্যান-জ্ঞান। কাজের মাধ্যমে সব সময় নিজেকে নেক্সট লেভেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। ভাবি কীভাবে নিজের ব্যাপ্তি আরও বাড়ানো যায়।’
শোনা যাচ্ছে, অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর পরের সিনেমায় চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে ফারিণকে দেখা যেতে পারে। ফারিণ বলেন, ‘আগামী ছবি কিনা জানি না। তবে অনেক আগে থেকেই টোনিদার (অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী) সঙ্গে কথা চলছে। ফলে তার সঙ্গে কাজের জন্য মুখিয়ে আছি। আর চঞ্চলদা সেই কাজে থাকবেন কিনা এটাও কিন্তু জানি না।’ ইদানীং কলকাতার শিল্পীরা বাংলাদেশে কাজ করছেন, আবার এ দেশের শিল্পীরাও কলকাতার বাংলা সিনেমায় কাজ করছেন। এতে কি স্থানীয় শিল্পীরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন? এ প্রসঙ্গে ফারিণ বলেন, “বিশ্বাস করুন, আমার অন্তত হয়নি। কেউ কখনও কারও জায়গা দখল করতে পারে না। যদি দখল করতেই পারত, তাহলে ওপার বাংলা থেকে আমাকে অভিনয়ের ডাক পেয়ে এপার বাংলায় আসতে হতো না। এপার বাংলার কেউ সেই কাজটা করে দিতেন। আমাকে এত ঝক্কি সইয়ে ডাকা হতো না। তাই আমি কারও, বা কেউ আমার ‘রিপ্লেসমেন্ট’ হতে পারব না। আমি এভাবে ভাবিই না। আপনাদের ইধিকা পাল আমাদের দেশে কাজ করছেন। যথেষ্ট ভালো কাজ করছেন। আবার আমাদের চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান বা মোশাররফ করিম আপনাদের ছবিতে অভিনয় করছেন। এই আদান-প্রদানটাই তো দরকার। এতে দুই দেশের মঙ্গল। আমাদেরও কাজের সুযোগ বাড়বে।”
Reporter Name 

























